শেয়ার বাজার

এই অ্যাপের ফাঁদে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হতে পারে, সাবধান থাকবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

এই অ্যাপের ফাঁদে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হতে পারে, সাবধান থাকবেন যেভাবে

স্মার্টফোনে নতুন কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় অনেকেই গুগল প্লে স্টোরের বদলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ নামিয়ে নেন। আর এই অভ্যাসই এখন বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইবার অপরাধীরা ভুয়া গুগল ক্রোম ও টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ফোনে নতুন ধরনের ব্যাংকিং ট্রোজান ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্লিপিং কম্পিউটার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনে ইনস্টল হওয়ার পর ‘রকারোলা’ (রকআরোলা) নামের এই ম্যালওয়্যার ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নয়, এটি ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে সক্ষম।

যেভাবে কাজ করে এই ম্যালওয়্যার

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘জিম্পেরিয়াম’-এর তথ্যমতে, হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের গুগল ক্রোম বা টিকটক ডাউনলোড করতে আগ্রহী করে।  ব্যবহারকারীরা যখন এসব ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করতে যান, তখন তাদের সামনে ‘গুগল প্লে প্রোটেক্ট’-এর মতো দেখতে একটি সতর্কবার্তা দেখানো হয়। অনেকেই মনে করেন, এটি গুগলের আসল নিরাপত্তা সতর্কবার্তা। ফলে কোনো সন্দেহ ছাড়াই তারা পরবর্তী ডাউনলোডে অনুমতি দেন। আর তখনই ফোনে প্রবেশ করে ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার।

একবার ফোনে ঢুকে পড়লে এই ম্যালওয়্যার ২১৭টি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপের নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারীরা মনে করেন, তারা নিজেদের ব্যাংক অ্যাপে প্রবেশ করছেন। বাস্তবে তারা নিজেরাই ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এ ছাড়া ম্যালওয়্যারটি ফোনের লকস্ক্রিনের তথ্য চুরি করতে পারে। কনট্যাক্ট তালিকা হাতিয়ে নিতে পারে। এমনকি কী-লগারের মাধ্যমে ফোনে টাইপ করা সব তথ্য রেকর্ড করতে পারে আর ব্যাংক থেকে আসা প্রতারণা সতর্কবার্তা আটকে রাখতে সক্ষম। সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করতে আসা ফোনকলও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই ব্যাংক হিসাব খালি করে ফেলতে পারে সাইবার অপরাধীরা।

নিরাপদ থাকবেন যেভাবে 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো শুধু অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা। অর্থাৎ গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোর ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই ভালো। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আরও কিছু বিষয় মেনে চলতে পারেন—

অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না।

ফোনে ‘গুগল প্লে প্রোটেক্ট’ চালু আছে কি না, তা যাচাই করুন।

সন্দেহজনক কোনো পপ-আপ বা নিরাপত্তা সতর্কবার্তা দেখলে যাচাই ছাড়া অনুমতি দেবেন না।

প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করার সময় অস্বাভাবিক কোনো আচরণ দেখলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

সাইবার অপরাধীরা বারবার নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব এবং ডিজিটাল সম্পদকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

Dummy Ad 1

হোয়াটসঅ্যাপে ডিলিট হওয়া মেসেজ যেভাবে ফিরে পাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

হোয়াটসঅ্যাপে ডিলিট হওয়া মেসেজ যেভাবে ফিরে পাবেন

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত চ্যাটের পাশাপাশি অসংখ্য গ্রুপে যুক্ত থাকেন। পরিবার থেকে বন্ধু, অফিস কলিগ থেকে শুরু করে আরও নানান ধরনের গ্রুপে যুক্ত থাকেন হোয়াটসঅ্যাপে।

অনেক সময় এমন হয় যে, ভুলে জরুরি চ্যাট ডিলিট হয়ে যায়। আবার অনেকেই ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ ফিচার অন করে রাখেন। নির্দিষ্ট সময় পর মেসেজ নিজে থেকেই ডিলিট হয়ে যায়। কিন্তু ভুলে যদি কেউ মেসেজ ডিলিট করে ফেলেন কিংবা ফোন বদলানোর সময় সব চ্যাট ডিলিট হয়ে যায়। এতে পড়ে ঝামেলার শেষ থাকে না। তবে চাইলেই কিন্তু এই মেসেজ আবার ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কিছু ইন বিল্ট টুল রয়েছে। যেমন গুগল ড্রাইভ বা আই ক্লাউডে ক্লাউড ব্যাকআপ কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ইউজারদের জন্য স্টোরেজ অপশন। এছাড়া কিছু থার্ড পার্টি সফটওয়্যারও পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ডিলিট হয়ে যাওয়া ডেটা ফেরত পেতে পারেন ইউজার।

গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউড থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া চ্যাট পুনরুদ্ধার করতে-

>> অ্যান্ড্রয়েড ইউজারদের প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে।

>> তারপর ক্লিক করতে হবে ‘চ্যাটস’ অপশনে।

>> সেখানে চ্যাট ব্যাকআপ অপশনে গিয়ে গুগল ড্রাইভ চেক করতে হবে।

>> হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করে ফোন নম্বর যাচাইয়ের পর প্রম্পট এলে রিস্টোর ট্যাপ করতে হবে। ডিলিট হওয়া সব চ্যাট ফের চলে আসবে।

আইফোনে কাজটি করতে-

>> প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে।

>> তারপর ক্লিক করতে হবে ‘চ্যাটস’ অপশনে।

>> এবার চ্যাট ব্যাকআপে গিয়ে আইক্লাউড ব্যাকআপ দেখতে হবে।

>> হোয়াটসঅ্যাপ নতুন করে ইনস্টল করে চ্যাট হিস্ট্রি পুনরুদ্ধার করতে হবে।

ফোনের লোকাল ব্যাকআপ থেকেও পাবেন-

>> প্রথমে ‘ফাইল ম্যানেজার’-এ যেতে হবে।

>> তারপর হোয়াটসঅ্যাপে ক্লিক করে ডাটাবেসে ঢুকতে হবে।

>> এখানে পছন্দের ফাইল শনাক্ত করে নাম বদলে রাখতে হবে ইউজারকে।

>> তারপর হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় ইনস্টল করে সেটআপের সময় রিস্টোর অপশনে ক্লিক করলেই ডিলিট হওয়া সব চ্যাট চলে আসবে।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


আপনার ফোন হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে কি না বুঝবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

আপনার ফোন হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে কি না বুঝবেন যেভাবে

সারাক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা, শপিং করে বিল মেটানো থেকে শুরু করে বাস-ট্রেনের টিকিট কাটা, সিনেমা দেখা সবই সম্ভব এক স্মার্টফোনে। তাই তো বলা যায়, সঙ্গে স্মার্টফোন থাকলে আর কিছুই লাগে না।

দিনের বেশিরভাগ সময় কাটছে স্মার্টফোন নিয়ে। স্মার্টফোন যে কোনো সময় হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্নভাবে হ্যাকাররা ফাঁদ পেতে রাখে। অ্যাপ যতই আন-ইনস্টল করুন বা ফোন রিস্টার্ট দিন না কেন, তাতে হ্যাক হওয়া থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। তবে আপনার ফোন হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে আছে কি না তা কিন্তু বুঝতে পারবেন একটু সচেতন হলেই।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কী কী বিষয়ে নজর দিলেই ব্যাপারটি আপনি বুঝতে পারবেন-

>> ফোন চার্জ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চার্জ তলানিতে এসে ঠেকেছে। ফোন হ্যাক করলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ফোন খারাপ হলেই যে এমন হতে পারে। এর কারণ এমন কোনো অ্যাপ্লিকেশন চলছে, তার জন্যই এই সমস্যা। আর এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেই হয়তো কোনো হ্যাকর হানা দিয়েছে আপনার ফোনে।

>> অনেক ক্ষণ ধরে ফোনে কথা বললে মুঠোফোন গরম হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু যদি দেখা যায় ফোন নিয়ে বিন্দুমাত্রও ঘাঁটাঘাঁটি করলেন না অথচ ফোন খুব গরম হয়ে গেল! এরকম যদি হয় তা হলেও কিন্তু সাবধান হয়ে যাওয়াই ভালো।

>> ফোনে দেখবেন মাঝে-মধ্যেই মেসেজ বা পপ আপ আসতে থাকে। তা হলে আগে থেকেই সাবধান হয়ে যান। যদি দেখেন বিভিন্ন রকম অযাচিত ও অশ্লীল নোটিফিকেশন ফোনে আসতে শুরু করে দিয়েছে, তা হলেও সতর্ক হোন।

>> ফোন যদি হঠাৎ করে নিজে থেকেই রিস্টার্ড হতে শুরু করে দিয়েছে, বা নিজে থেকেই অ্যাপ ইনস্টলড হতে শুরু করে, তা হলে বুঝবেন লক্ষণ খুব একটা সুবিধার নয়৷

>> যদি হঠাৎ দেখেন ফোন হয়তো নিজে থেকই কোনো অ্যাপ ইনস্টলড হতে শুরু করে। তা হলে বুঝবেন সমস্যা আছে। এমনো হতে পারে ফোনে নিজে থেকেই কোনো নম্বর ডায়াল হয়ে যাচ্ছে বা কোনো অ্যাপ নিজে থেকেই খুলে যাচ্ছে। তেমন হলে বুঝতে হবে আপনার মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ এরই মধ্যে হয়তো অন্য কারো হাতে চলে গেছে।

>> যদি দেখেন, আপনার ফোন থেকে আপনারই ঘনিষ্ঠদের ফোনে কল ও মেসেজ চলে যাচ্ছে। বা নিজে থেকেই পোস্ট হয়ে যাচ্ছে, তখনই সাবধান হোন।

>> যদি ফোনের গ্যালারিতে অচেনা কারো ছবি রয়েছে অথবা সন্দেহজনক ছবি আপনার ফোনে আচমকাই চলে আসছে। আপনার ফোনের ক্যামেরার ফ্ল্যাশও যদি আপনি হাত না লাগাতেই অন হয়ে যায়, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে ফোনটি হয়তো কারো নিয়ন্ত্রণে আছে।

হ্যাকিং থেকে বাঁচতে-

অবশ্যই সবসময় সফটওয়্যার আপডেট করে রাখুন৷ ফোনে চেষ্টা করবেন ভালো কোম্পানির অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে রাখতে। অজানা কোনো অ্যাপ ইনস্টল না করাই ভালো। ডাউনলোড করার আগে ভালো করে দেখে নিন অ্যাপটি কে বা কারা তৈরি করেছে? রিভিউও দেখে নিন। অ্যাপটি ইনস্টল করার সময় যদি কিউআর কোড স্ক্যান করতে বলে, তা হলে বুঝবেন সেটি ভুয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ই-মেইল বা মেসেজে কোনো লিঙ্ক এলে সেটি খুলবেন না। যদি কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়, তাহলে ভুলেও সেই ফাঁদে পা দেবেন না। এভাবেই ম্যালঅয়্যার ইনস্টল করিয়ে ফোন দখলে নেয় হ্যাকাররা। তাই সতর্ক থাকুন।


সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস