শেয়ার বাজার

ফের যুদ্ধ হলে ‘আরও চমক’ দেখবে বিশ্ব: ইরানের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ফের যুদ্ধ হলে ‘আরও চমক’ দেখবে বিশ্ব: ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে ইরান এবং ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু হলে আরও অনেক চমক অপেক্ষা করছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন দিন সময় দিয়েছেন।

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জনে।

এছাড়া, গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র আরও একটি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৬১টি নৌযান আটক করা হলো।

Dummy Ad 1

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন
নেতানিয়াহুর দিন কি ফুরিয়ে আসছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬

নেতানিয়াহুর দিন কি ফুরিয়ে আসছে?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে রাজনৈতিক পতনের পূর্বাভাস নতুন নয়। গত আড়াই বছরে বিশ্লেষকরা বহুবার বলেছেন, তার সরকারের পতন ঘটতে চলেছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সংকট এড়িয়ে গেছেন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তার জোটেরই গুরুত্বপূর্ণ শরিক অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর চাপ সরকারকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।

আগামী ২০ মে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট হতে পারে। আর সেটি হলে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে দেশটিতে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে।

নেতানিয়াহু হয়তো এই ভোট ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করবেন, তবে তিনি বড়জোর আর কয়েক সপ্তাহ সময় পাবেন। কারণ বর্তমান নেসেটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এবং আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করা আইনিগতভাবে বাধ্যতামূলক।

পতনের নেপথ্যে যে বিরোধ

নেতানিয়াহু সরকারের সম্ভাব্য পতনের তাৎক্ষণিক কারণটি হলো কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোর একটি দাবি। তারা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সেমিনারি) শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে স্থায়ী অব্যাহতি দিয়ে আইন পাসের চাপ দিচ্ছিল। নেতানিয়াহু এই আইন পাসে রাজি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভোট মেলাতে ব্যর্থ হন। কারণ ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বৈষম্যমূলক আইন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ ইসরায়েলিদের বড় অংশই মনে করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে সরকার তাদের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এটিই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হতে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা ও সামরিক ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি এতদিন জোট টিকিয়ে রেখেছিলেন। সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দাদের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি জনগণকে ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় এখনো অধরা।

গাজার বেশিরভাগ অংশ এখন ধ্বংসস্তূপ, যেখানে ইসরায়েলের আংশিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বাকি অংশ এখনো হামাসের হাতেই রয়ে গেছে। লেবাননে বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার পরও স্থলযুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সহায়তায় ইরানে দু’বার হামলা চালালেও তেহরান এখনো অটল। নেতানিয়াহু হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফের ক্ষমতায় আসার দিকে তাকিয়ে আছেন, কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মতে, নির্বাচন বা নিকট ভবিষ্যতে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

নির্বাচনে যুদ্ধের ছায়া ও গণতন্ত্রের সংকট

নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির এক পার্লামেন্ট সদস্য অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় আমরা হয়তো আগামী নির্বাচনে হারতে যাচ্ছি।’ তবে এই নির্বাচন গাজা যুদ্ধের নৃশংসতার কোনো জবাবদিহি হবে না, কারণ বেশিরভাগ ইসরায়েলি এখনো এই যুদ্ধগুলোকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই সমর্থন করে। মূলত বিরোধী জোটের কাছে এই লড়াই নেতানিয়াহুর হাত থেকে ইসরায়েলের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র লড়াই।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে থেকেই নেতানিয়াহুর সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করার বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ ইসরায়েলি রাস্তায় নেমেছিলেন। যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের কল্যাণে সাময়িক স্থিতিশীলতা থাকলেও, কট্টর অর্থোডক্সদের পেছনে দেদারসে সরকারি অর্থ অপচয় নিয়ে মধ্যপন্থি ও বামপন্থিদের ক্ষোভ তুঙ্গে। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৮৩ হাজার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন, যা ইসরায়েলে বড় ধরনের ‘মেধা পাচার’ (ব্রেন ড্রেন)-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপন্থি ও বামপন্থি ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, এবারও নেতানিয়াহুর ক্যাম্পের কাছে হেরে যাওয়া হবে তাদের জন্য ‘অসহনীয়’।

নেতানিয়াহুর কি বিদায়ের সময় হলো?

গত তিন বছরের প্রায় সব জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তবে বিরোধী দলগুলোও একজোট হতে হিমশিম খাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের মধ্যে জোটের কথা চললেও, ডান ও মধ্যপন্থিদের কোন্দল এবং আরব-ইসরায়েলি দলগুলোকে জোটে নেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে বিরোধীদের একক কোনো নেতা এখনো উঠে আসেনি। আর এই বিভক্তির কারণেই জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এখনো একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে রয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা পরবর্তী ধকল পার করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি যদি এখন অবসরে যান, তবে তা কেবল নির্বাচনি পরাজয়ের গ্লানি থেকেই তাকে বাঁচাবে না, বরং তার বিরুদ্ধে চলমান ঘুস ও জালিয়াতির মামলাগুলো আপস-নিষ্পত্তির (প্লী বার্গেন) মাধ্যমে শেষ করার সুযোগ তৈরি করবে।

তবে চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে নেতানিয়াহু বহুবার জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে কামব্যাক করেছেন। এটি হতে যাচ্ছে লিকুদ পার্টির নেতা হিসেবে তার ১২তম নির্বাচন। রাজনীতি থেকে সহজে পিছু হটার পাত্র তিনি নন। ফলে ইসরায়েলের সামনে শত কোটি প্রশ্ন থাকলেও, আগামী নির্বাচনটি ঘুরেফিরে আবারও ‘নেতানিয়াহুর পক্ষে বা বিপক্ষে’ এক গণভোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।


অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৪

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

অবশেষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলো। সোমবার (২৫ মার্চ) পাস হওয়া এই প্রস্তাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হামাসের হাত থাকা জিম্মিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির শর্ত রাখা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রস্তাবে  ভোটদানে বিরত ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিরাপত্তা পরিষদের বাকি ১৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়।

এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাব অবশ্যই বাস্তবায়ন হতে হবে। যদি কোনো পক্ষ এই যুদ্ধবিরতি ও এর শর্তগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা হবে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল।

এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়নি। সেদিন মস্কোর অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি ইসরায়েলের ওপর কোনো চাপ তৈরি করছে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১১ দেশ। বিপক্ষে দেয় তিন দেশ। আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে একটি দেশ।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছিলেন, এই খসড়াটি অত্যন্ত রাজনীতিকরণ করা হয়েছে ও এতে রাফায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কার্যকর সবুজ সংকেত রয়েছে।


লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো আমিরাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬

লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করেছে যে, তাদের নাগরিকরা আবার লেবাননে ভ্রমণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে আরোপিত দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটলো।

তবে লেবাননে ভ্রমণকারী আমিরাতিদের যাত্রার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত গত ৩০ এপ্রিল তাদের নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাকে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং ওই দেশগুলোতে থাকা সকল নাগরিককে অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানায়।

ইরান ও ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সোমবার তেহরান ও দুবাইয়ের মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।