শেয়ার বাজার

গ্রীনহাউজ পদ্ধতিতে গাঁজা চাষ, অভিযানের সময় ভারত পালালো বাবা-ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

গ্রীনহাউজ পদ্ধতিতে গাঁজা চাষ, অভিযানের সময় ভারত পালালো বাবা-ছেলে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সীমান্তবর্তী দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রামে গাঁজা চাষের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে অর্ধশত গাঁজা গাছ জব্দ করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে অভিযান চালিয়ে দেখা যায় গ্রীনহাউজ পদ্ধতিতে একটি সুপারি বাগানে গাঁজা চাষ করা হচ্ছে। এসময় সেখান থেকে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তাপ ও বৃষ্টি প্রতিরোধী বিশেষ বেষ্টনীর ভেতরে গাছগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত বাবা-ছেলে সীমান্তের কাঁটাতারের নিচের ড্রেনেজ লাইন দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।

অ‌ভিযুক্তরা হ‌লেন- ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি জামাল উদ্দিন ও তার ছে‌লে রুবেল হোসেন।

ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন ব‌লেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মাদক কারবারিরা ভারতীয় গাঁজার বিকল্প বাজার তৈরির উদ্দেশে নিজেরাই গাঁজা চাষের চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Dummy Ad 1

সালিশে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেলো জাপা নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬

সালিশে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেলো জাপা নেতার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সালিশ বৈঠকে মারধরের শিকার হয়ে আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৫) নামে জাতীয় পার্টির (জাপা) এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিষয়ের একটি সালিশি বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে এবং তিনি তারাপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আটকরা হলেন, ওই গ্রামের গোলজার হোসেন (৬৫), তার ছেলে লিটন মিয়া (২৮) ও রিপন মিয়া (১৯), মেয়ে রত্না আক্তার (৩০) ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের মৃত আছর উদ্দিনের প্রথম স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান না হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গোলেনুর বেগমকে নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। গোলেনুর বেগম তার পূর্বের স্বামীর ঘরের ছেলে গোলজার রহমানকে নিয়ে আসেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে আছর উদ্দিন জীবদ্দশায় গোলজার রহমানকে ২২ শতক জমি প্রদান করেন। পরে গোলেনুর বেগম ও আছর উদ্দিনের সংসারে ছেলে আমজাদ হোসেনের জন্ম হয়।

পরে ওই ২২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমজাদ হোসেন ও গোলজার রহমানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। রোববার বিকেলে একই বিষয় নিয়ে বৈঠক বসে। বৈঠকে গোলজার রহমান ও আমজাদের সঙ্গে তর্ক হয়। পরে তর্কের বিষয়টি নিয়ে সেখানে উপস্থিত থাকা জাপা নেতার সঙ্গে গোলজারের দুই ছেলের তর্ক শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে গোলজারের দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা রাজ্জাককে মারধর করতে থাকেন। এতে গুরুতর আহত হন আব্দুর রাজ্জাক।

পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাৎক্ষণিক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারের সিদ্ধান্ত নেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। কিন্তু এসময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের খবরে অভিযুক্ত পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

সালিশ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

জাপা নেতা আবদুর রাজ্জাকের মা রোসনা বেগম বলেন, মিটিংএ চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মারার সময় কেউ তাদেরকে বাধা দেয় নাই। আমি তাদের শাস্তি চাই, বিচার চাই।

তারাপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাষ্টার নিহত আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, ওই ওয়ার্ডের (২নং) জাপার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক।

ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই তাইয়ুব বলেন, এক মায়ের দুই স্বামীর সংসারের দুই ছেলের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসা মিটিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আজ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, সালিশ বৈঠকে মারধরে আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো এজাহর দেয়নি। পেলেই মামলা রেকর্ড করা হবে।


দেনামুক্ত ও আধুনিক চট্টগ্রামের স্বপ্ন: চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬

দেনামুক্ত ও আধুনিক চট্টগ্রামের স্বপ্ন: চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

পারভেজ বাঙালী, 

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 


সবুজ-শ্যামল, আধুনিক ও দেনামুক্ত বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার বিশাল বাজেট ঘোষিত হয়েছে। একই সাথে বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বাজেট ঘোষণা করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর সততা ও দৃঢ়তার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন কর্পোরেশনের ঘাড়ে ছিল ৫৯৬ কোটি টাকার বিশাল দেনা। বিগত দিনগুলোতে কঠোর শৃঙ্খলা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই দেনা কমিয়ে বর্তমানে ৩৮০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।” তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে খুব দ্রুত চসিকের এই দেনা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা হবে।

মেয়র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অতীতে অযৌক্তিকভাবে নির্ধারিত গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) পুনর্বিবেচনা করতে নিয়মিত রিভিউ বোর্ড বসানো হচ্ছে। তবে বন্দর, রেলওয়ে, ৩৬টি কনটেইনার টার্মিনাল ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে শতভাগ রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে।

পাশাপাশি, রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা ঘরে বসেই পৌরকর দিতে পারবেন। চট্টগ্রামে ১০ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও বর্তমানে মাত্র দেড় লাখের মতো ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। চসিক এই সংখ্যা দ্রুত দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

বাজেট বক্তৃতায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেয়র। তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরীর সড়কগুলোর নকশাগত ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ টন। অথচ চশমখোর ভারী যানবাহন ও লরিগুলো নিয়মিত ২০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল করছে। ফলে ৩ থেকে ৫ বছর আয়ুষ্কালের সড়কগুলো দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে, যার কারণে প্রতি বছর চসিকের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান: ৪ পয়েন্টে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট’

ফুটপাথ দখল ও যানজট দূর করতে হকারদের জন্য যুগান্তকারী এক পরিকল্পনার কথা জানান মেয়র ডা. শাহাদাত। তিনি বলেন, নগরীর দীর্ঘদিনের হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট’ বা ভূগর্ভস্থ বাজার গড়ে তোলার প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে খালি জায়গায় হকারদের পুনর্বাসনের জমিও খোঁজা হচ্ছে।

নগরবাসীর নাগরিক সমস্যা সরাসরি চসিক কর্তৃপক্ষকে জানাতে চালু হচ্ছে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামের একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সচিত্র চসিককে জানানো যাবে।

পরিবেশ দূষণ রোধে ও চট্টগ্রামকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আদর্শ বাসযোগ্য নগরী করতে আগামী ২০ Rot-২৭ অর্থবছরে ১০ লাখ গাছের চারা রোপণের এক বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চসিক। ইতিমধ্যেই গত অর্থবছরে ৫ লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে বলে জানান মেয়র।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আগামী অর্থবছরের জন্য সুনির্দিষ্ট ৪টি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন:

১. চলমান নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে শেষ করা।

২. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান।

৩. চসিকের নতুন যুগোপযোগী সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন।

৪. চসিকের সকল কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজড করতে ERP সফটওয়্যার তৈরি।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নগরীর ১৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৫,৫০০টি স্মার্ট এলইডি লাইট স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে ফ্লাইওভারের ওপরে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে স্পীড ক্যামেরা এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এআই (AI) ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাজেটে জানানো হয়, এয়ারপোর্ট রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১,৯৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নগরীর ১২টি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ জলাবদ্ধতামুক্ত হয়েছে। এছাড়া সাগরিকায় নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষার জন্য একটি আধুনিক 'টেস্টিং ল্যাব' স্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে এ বছর প্রায় ৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বহুতল আবাসন নির্মাণ, ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরি এবং আমেরিকান প্রযুক্তির বিজ্ঞানসম্মত লার্ভিসাইড 'বিটিআই' (BTI) প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের সফলতার চিত্রও তুলে ধরেন। একটি স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট চট্টগ্রাম বিনির্মাণে তিনি সব স্তরের নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।


বিশেষ আসন প্রত্যাখ্যান, সাধারণ চেয়ারে বসেই নজর কাড়লেন আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬

বিশেষ আসন প্রত্যাখ্যান, সাধারণ চেয়ারে বসেই নজর কাড়লেন আজাদ

মো: শোহাগ, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের ধামেরঘাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য দেখা গেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ মঞ্চে তার জন্য রাখা বিশেষ চেয়ার ছেড়ে সাধারণ একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রতিমন্ত্রীর জন্য আলাদাভাবে একটি বড় ও সুসজ্জিত চেয়ার রাখা হয়েছিল। লাল কাপড়ে মোড়ানো ফোমযুক্ত ওই চেয়ারটি ছিল মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ। তবে মঞ্চে ওঠার পর তিনি ওই চেয়ারে না বসে সাধারণ চেয়ার আনার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ চেয়ারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পাশে থাকা একটি সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ার এনে দেওয়া হলে তিনি সেটিতেই বসে পুরো অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে নির্মিত তোরণে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যের মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তিনি একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন এবং আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।