শেয়ার বাজার

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার তালিকায় কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রীর নাম!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার তালিকায় কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রীর নাম!

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তার তালিকায় এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

শনিবার (৪ জুলাই) পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের মো. নুরে আলমসহ ২৪ জন সই করা অভিযোগে বলা হয়, পোগলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলম ও নূর খান প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে নিজেদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকার কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রণোদনা দিয়ে এলেও তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সহায়তা বিতরণের তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, গত ১৭ জুন হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। এতে প্রত্যেককে ছয় হাজার টাকা নগদ ও ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। ওই তালিকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম রয়েছে। তিনি তালিকায় স্বামীর নামের পরিবর্তে বাবার নাম আবু সিদ্দিক ব্যবহার করেছেন। শাহিনুর আলমের বড় ভাই রফিকুল আলমের স্ত্রী তৌহিদা খাতুনসহ তার নিকটাত্মীয় অন্তত ১৫ জনের নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, ‌‘শাহিনুর আলম কৃষি প্রণোদনার তালিকায় তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তার কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পোগলা ইউনিয়নের তালিকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি জেনেছি। ওই নামটি বাদ দিয়ে সেখানে প্রকৃত একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিনুর আলমকে লেংগুরা ও নূর খানকে বড়খাপন ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তদন্তে যদি কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন সরকারি সহায়তা পান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


Dummy Ad 1

নামাজের সুযোগে পালানো বহিষ্কৃত নেতা সৈকত, গোয়েন্দা অভিযানে আবার গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

নামাজের সুযোগে পালানো বহিষ্কৃত নেতা সৈকত, গোয়েন্দা অভিযানে আবার গ্রেপ্তার

চাঁদপুর আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা গোলাম আজম (৪৫) ওরফে সৈকতকে অবশেষে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকার পুরানা পল্টনে অবস্থিত রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মিজি বাদী হয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর ৩১(ক), ৩১(খ), ৩১(ঘ), ৩৩ ও ৩৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত আসামি গোলাম আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরোয়ানা জারির পর গত ১৫ জুন সোমবার পল্টন থানা পুলিশের একটি দল পুরানা পল্টনের ৫৫/১ ইসলাম এস্টেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত রিকাব ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে।

অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর আসরের নামাজের সময় হলে গোলাম আজম পুলিশ সদস্যদের কাছে নামাজ আদায়ের সুযোগ চান। মানবিক কারণে পুলিশ তাকে সেই সুযোগ দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ শুরু করেন এবং নিজেই ইমামতি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রথম রাকাত শেষে দ্বিতীয় রাকাতের সিজদা থেকে উঠে হঠাৎ করেই তিনি পেছনে থাকা মুসল্লিদের রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় পল্টন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসামি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পালিয়ে যান। পরে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে।

পরবর্তীতে ১৭ জুন বুধবার সকাল ৮টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাকে ঢাকার মাদারটেক নন্দীপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ও ম্যানপাওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অতীতেও মানবপাচার-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্রে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই এবং দীর্ঘদিন আগে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে’: চসিকে ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মহাযজ্ঞ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬

কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে’: চসিকে ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মহাযজ্ঞ শুরু

পারভেজ বাঙালী। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 


শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬’। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরীর প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বৃহৎ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইমাম হোসেন রানা ক্যাম্পেইনের সার্বিক প্রস্তুতি ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ৭টি ইপিআই জোনে ভাগ করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নিচে শিশুদের বয়স ও ক্যাপসুলের ধরন অনুযায়ী একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:

শিশুর বয়স লক্ষ্যমাত্রা (প্রায়) ক্যাপসুলের রঙ ডোজের মাত্রা

৬ থেকে ১১ মাস ৯২,০০০ শিশু নীল রঙের ক্যাপসুল ১ লাখ আইইউ (1,00,000 IU)

১২ থেকে ৫৯ মাস ৪,৭২,০০০ শিশু লাল রঙের ক্যাপসুল ২ লাখ আইইউ (2,00,000 IU)

সর্বমোট ৫,৬৪,০০০ শিশু

নগরীর মোট ১,৩২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যক শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

পথশিশুদের জন্যও থাকছে ভ্রাম্যমাণ টিম

উদ্বোধনী বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,

“শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব দূর করতে এবং তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম নগরীর একটি শিশুও যেন এই জীবনরক্ষাকারী ক্যাপসুল থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য চসিক সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলোর মূল কাজ হবে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও রাস্তাঘাটে থাকা সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের খুঁজে বের করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো।

মেয়র চসিক এলাকার সকল অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে কিছু জরুরি নির্দেশনা মনে করিয়ে দেন:

 জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশু মায়ের দুধ থেকেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ পায়, তাই এই বয়সী শিশুদের ক্যাপসুলের প্রয়োজন নেই।

যে সমস্ত শিশু গত ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ইতোমধ্যে কোনো কারণে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ করেছে, তাদের এই ক্যাম্পেইনে পুনরায় ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।

সবশেষে, একটি সুস্থ ও সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে চসিকের এই স্বাস্থ্য কার্যক্রমে নগরবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।


সব নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে, দপ্তর প্রধানদের অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬

সব নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে, দপ্তর প্রধানদের অর্থমন্ত্রী

দেশের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সবাইকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক বাদ যাবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, উইদাউট ওয়েস্টিং এ মোমেন্ট, সমস্ত দেশকে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা চাই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক সবাইকে এর আওতায় আসতে হবে। এটার আউটরিচ (সেবা পৌঁছে দেওয়া) মাস্ট বি অল দ্য সিটিজেনস অব বাংলাদেশ। অল দ্য সিটি— আমি যখন বলি অল দ্য সিটিজেনস, উই মিন অল দ্য সিটিজেনস। সেজন্য আপনারা বাজেটে খেয়াল করেছেন, আমাদের অ্যালোকেশনে কিন্তু এভরিবডি ওয়াজ ইনক্লুডেড, এভরিবডি, কেউ বাকি নাই। আর্টিস্ট, সিঙ্গার কেউ তো বাকি নেই। গ্রামে যে একজন— ওই যে আর্টিস্ট যারা আছে, তারাও কিন্তু বাকি নাই। এভরিবডি ইজ ইনক্লুডেড।’

তিনি বলেন, ‘এই ইনক্লুসিভনেস আপনি খালি অর্থনীতিতে আনলে হবে না। এই যে মানুষের দুয়ারে সার্ভিস পৌঁছানোর ব্যাপারে— ব্যাপার করতে হবে আপনাদের। তাহলে কিন্তু এগুলো এগোনোর কোনো সুযোগ নাই। প্রত্যেকটি মানুষকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বলেন, রাজনীতি বলেন, সমাজ বলেন— কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হলে টেকনোলজির কোনো অল্টারনেটিভ নেই এই মুহূর্তে।’

ডিজিটাল রূপান্তরে বিশ্বের শীর্ষ দেশ এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে সফরে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের একটি টিম, আমাদের আইসিটি অ্যাডভাইজারসহ একটি টিম এস্তোনিয়ায় আছে। আর তারা গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের। অনেকে ভাববেন, এস্তোনিয়ায় কী কাজ? এস্তোনিয়া ইজ নাম্বার ওয়ান রাইট নাও ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। অ্যামেজিং! অনেকে বিশ্বাস করবেন না এটা। নাম্বার ওয়ান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। এবং তাদেরকে সবাই ইমিউলেট করছে।’

‘আমাদের একটা টিম সেখানে গিয়েছে, আইসিটি অ্যাডভাইজার, গভর্নর এবং অন্যরা গেছে। মানে এটার গুরুত্ব এত বেশি আমরা মনে করছি এই মুহূর্তে। একটা দিনও এখানে আর নষ্ট করার নাই আমাদের সময়।’

ডিজিটাল সেবার প্রসার বাড়াতে ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি, ব্যাংককে ব্যাংকারদের জিজ্ঞেস করলাম যে আপনারা সার্ভিস দিচ্ছেন, আপনাদের কত পার্সেন্ট— কতজন আপনাদের কাস্টমারের কত পার্সেন্টেজ এই সেবাটা নিচ্ছে? আমি মনে করি, এখনও এই সেবা যারা নিচ্ছে যথেষ্ট না।’

অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দরকার হলে দুটি-তিনটি অফিসার রাখবেন যে আপনাদের কাজ হচ্ছে এটাকে কাভারেজ (অনলাইন সেবা) বাড়ানোর জন্য অ্যাসিস্ট করা। তারা এই দায়িত্বগুলো যদি পালন করে, তাহলে আপনার কাভারেজ বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা গ্রাহককে আপনারা চিঠি দেন একটা। চিঠি দিতে তো অসুবিধা নেই, একটু অ্যাট্রাক্টিভ। ওই সরকারি কায়দায় চিঠি দিলে হবে না। চিঠিটা খুব অ্যাট্রাক্টিভ হতে হবে, সে দেখে বুঝতে পারবে যে এখানে তার কাজটা সে বাড়িতে বসে করতে পারবে।’

ডিজিটাল সেবার সুফল তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না বাংলাদেশের জনগণ— সে যেই হোক, তারা সরকারি অফিসে যাক, তারা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যাক, তারা ব্যাংকে যাক কিংবা আর কোনো প্রতিষ্ঠানে যাক। ... একটা দেশের কত মানুষের কত টাইম সেভিং, কত পয়সা সেভিং, অফ তেল সেভিং, ট্রান্সপোর্ট টাকা-পয়সা সেভিং— এটা বিশাল ব্যাপার। সুতরাং, ইটস অ্যান অল-ইনকমপাসিং একটা উদ্যোগ। এটাকে আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইন্স্যুরেন্সের ক্লেইম পাচ্ছেন না, শেয়ারবাজারে যারা আছে তারা যারা এটাকে মিসইউজ করছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে মিসইউজ হচ্ছে। এগুলোকে যদি চেক দিতে হয়, আমাকে এটার (ডিজিটাল সেবা) ফুল ইমপ্লিমেন্টেশন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের উদ্যোগটা ভালো ছিল। এটা অনেকের জন্য আই-ওপেনার। তবে আমি আবারও বলছি, এই আউটরিচটা করতে হলে আপনাদের খালি একটা প্রজেক্ট করলে তো হবে না, এটার আউটরিচ যদি না হয়, তাহলে এটার বেনিফিট পাবে না।’