শেয়ার বাজার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, মুখোমুখি তুরস্ক-ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, মুখোমুখি তুরস্ক-ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক নতুন ও বড় ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও ইসরায়েল। বছরের পর বছর ধরে চলা দুই দেশের হুমকি ও পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে আরও তীব্র ও তিক্ত হয়ে ওঠে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল যে, এখন ইসরায়েলি রাজনীতিকরা ইরানের সঙ্গে একই সমান্তরালে তুরস্কের নাম নিচ্ছেন। খোদ ইসরায়েলের এক মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, সিরিয়ার পাশাপাশি তুরস্কই এখন ইরানের জায়গা নিয়ে তাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক নতুন ও বড় ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও ইসরায়েল। বছরের পর বছর ধরে চলা দুই দেশের হুমকি ও পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে আরও তীব্র ও তিক্ত হয়ে ওঠে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল যে, এখন ইসরায়েলি রাজনীতিকরা ইরানের সঙ্গে একই সমান্তরালে তুরস্কের নাম নিচ্ছেন। খোদ ইসরায়েলের এক মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, সিরিয়ার পাশাপাশি তুরস্কই এখন ইরানের জায়গা নিয়ে তাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বাগযুদ্ধের বড় অংশই মূলত নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শকদের মন জয়ের চেষ্টা (পোস্টারিং)। আগামী অক্টোবরে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভোটারদের কাছে নিজেকে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রমাণ করতে চান, যিনি অবরুদ্ধ ইসরায়েলকে রক্ষা করতে পারেন। অন্যদিকে, ২০২৮ সালের নির্ধারিত নির্বাচন এগিয়ে আনার কথা ভাবতে থাকা এরদোয়ানেরও দেশের ৩০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার থেকে জনগণের নজর ঘুরিয়ে রাখতে একটি ‘বোগিম্যান’ বা জুজু দরকার।

তবে এই প্রচারণার আড়ালে দুই দেশের মধ্যেই একে অন্যকে নিয়ে গভীর ভয় কাজ করছে। ইসরায়েল মূলত সিরিয়ায় তুরস্কের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং মিশর, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে আঙ্কারার গড়ে ওঠা সামরিক জোটকে সন্দেহের চোখে দেখছে। অন্যদিকে, তুরস্কের ভয়—গাজা, ইরান ও লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ ও কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের থিংক-ট্যাঙ্ক ‘ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন’-এর আসলি আয়দিনতাসবাস বলেন, তুর্কি নীতিনির্ধারকরা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি ফাইলে বা বিষয়েই ইসরায়েলকে একটি বড় বাধা বলে মনে করেন। আপাতত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কম হলেও, একে আর একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

পারিপার্শ্বিক দ্বন্দ্ব: ইরান, কুর্দি ও ভূমধ্যসাগর ইস্যু

ইরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যুদ্ধ তুরস্কের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘকাল ধরে ইরানে যে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে; কারণ তারা ভয় পায়, ইরানের পতন হলে সীমান্তে নতুন শরণার্থী সংকট তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহ ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে তারা চিন্তিত যে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা (যার সঙ্গে তুরস্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে) যদি কোনো ইসরায়েল-বান্ধব সরকার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, তবে তা আঙ্কারার জন্য বিপজ্জনক হবে।

এছাড়া সিরিয়া, ইরান ও ইরাকে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইসরায়েলের সমর্থন তুরস্ককে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। কুর্দি যোদ্ধাদের এই যুদ্ধে জড়ানোর মার্কিন ও ইসরায়েলি পরিকল্পনা তুরস্কের সেই চরম ভয়কেই সত্যি করেছিল। তবে এরদোয়ানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা স্থগিত (শেলভ) করতে বাধ্য হন বলে জানা যায়।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব খর্ব করতে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আঙ্কারাকে আরও চটিয়েছে। এই তিন দেশ নৌ ও বিমান মহড়া বাড়িয়েছে এবং সমুদ্রের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার পরিকল্পনা করছে। ইসরায়েল এরই মধ্যে গ্রিসকে প্রিসিশন রকেট আর্টিলারি ও সাইপ্রাসকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। জবাবে তুরস্কও ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত জলসীমা ও তলদেশের গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নিজেদের দাবি দ্বিগুণ জোরদার করেছে।

সিরিয়া পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের ভূমিকা

ইসরায়েল দীর্ঘ দিন ধরেই ৭ অক্টোবরের হামলার নেপথ্যে থাকা হামাসকে তুরস্কের সমর্থনের কারণে ক্ষুব্ধ। তবে সম্প্রতি তারা সিরিয়ায় তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে বেশি চিন্তিত। আহমেদ আল-শারা’র নেতৃত্বাধীন আন্দোলন সিরিয়ার ক্ষমতা দখল করেছে, যা দীর্ঘ যুদ্ধে এমনিতেই বিধ্বস্ত। শারা’র এই দুর্বল সরকার তার আগ্রাসী প্রতিবেশী ইসরায়েলকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও, অনেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিরিয়াকে একটি ‘টিকিং টাইম-বম’ বা টাইম-বোমা মনে করেন। তাদের বিশ্বাস, আল-কায়েদার সাবেক কমান্ডার শারা’র এই নতুন সরকারের ওপর তুর্কি নেতাদের অতিরিক্ত ও অন্যায্য প্রভাব রয়েছে।

২০২৫ সাল থেকে সিরিয়া নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা কিছুটা কমলেও সংঘাতের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। সিরিয়ায় দুই দেশেরই নিজস্ব প্রভাব বলয় রয়েছে- উত্তরে তুর্কি সেনা ও দক্ষিণে ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে। তবে তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত; তুরস্ক সিরিয়াকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, আর ইসরায়েল চায় দুর্বল সিরিয়া।

ইসরায়েল এরই মধ্যে সিরিয়ার শত শত সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো মূলত তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। তবে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর নিয়মিত যোগাযোগের কারণে সেনারা এখনো সরাসরি মুখোমুখি হওয়া থেকে বিরত রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ অবশ্য বৈশ্বিক রাজনীতিতে তুরস্কের হাতকে শক্তিশালী করেছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্ক নিজের অবস্থান পাকা করেছে, ন্যাটোতে নিজের মর্যাদা বাড়িয়েছে ও ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইরান বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তুরস্ক বিশেষ করে মিশর, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তি করার আলোচনা গত এক বছরে বেশ গতিশীল করেছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েল ইরানে নিজের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা (ব্রোম্যান্স) ও সিরিয়াসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে তুরস্কের সঙ্গে কাজ করার মার্কিন প্রস্তুতিকে নেতানিয়াহু ভালোভাবে নিচ্ছেন না। ট্রাম্পের বারবার দেওয়া এই পরামর্শ- যে সিরিয়া সরকারের উচিত হিজবুল্লাহর মুখোমুখি হওয়া, তা মূলত সিরিয়ার অভিভাবক তুরস্ককে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেওয়ার সামিল বলে মনে করছে ইসরায়েল।

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠরা জানান, ট্রাম্প যখন আসাদ সরকারের পতনের কৃতিত্ব তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে দেন, তখন নেতানিয়াহু সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হন। নেতানিয়াহুর দাবি, হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের প্রচণ্ড আঘাতই সিরিয়ার বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করেছিল।

এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান নিয়ে নতুন লড়াই

ইসরায়েলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে এক দশক আগে তুরস্কের অর্ডার করা ‘এফ-৩৫’ স্টিলথ ফাইটার জেট ফিরে পাওয়ার নতুন তুর্কি প্রচেষ্টা। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরায়েলের কাছেই এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। ২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করেছিল। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। গত ২৪ জুন ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ও এরদোয়ানের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি সম্ভবত এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা তাকে খুব খুশি করবে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সোনার চাগাপতাই বলেন, এই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কারণেই ইসরায়েল এখন তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ও নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য মূলত মার্কিন কংগ্রেসকে প্রভাবিত করা। ইসরায়েলিরা জানে যে ট্রাম্প তুরস্ককে এফ-৩৫ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ও তারা এটিকে শুরুতেই রুখে দিতে চায়।

সম্পর্ক কি পুরোপুরি শেষ?

এত উত্তেজনার পরও দুই দেশ কিন্তু একে অপরের সঙ্গে সব সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ করে দেয়নি। তেল আবিব ও আঙ্কারায় দুই দেশের দূতাবাস এখনো সচল রয়েছে, যদিও ২০২৩ সালে তারা রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। দুই বছর আগে এরদোয়ানের ঘোষিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অন্যান্য দেশ বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তুর্কি পণ্য ঠিকই ইসরায়েলে পৌঁছাচ্ছে। এমনকি, আজারবাইজান ও উত্তর ইরাকের তেল এখনো তুরস্কের ‘চেয়হান’ বন্দরের মাধ্যমেই ইসরায়েলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অনেকে মনে করেন, নেতানিয়াহু ও এরদোয়ানের যুগের অবসান ঘটলে দুই দেশ আবার পুরোনো বিরোধ ভুলে কাছাকাছি আসতে পারে। কারণ, আরবের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি পশ্চিমা-ঘেঁষা শক্তি হিসেবে তাদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে তুরস্কই ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে মূল্যবান আঞ্চলিক অংশীদার।

তবে এই শঙ্কা ও অবিশ্বাস বর্তমান নেতাদের ছাড়িয়ে আরও গভীরে প্রোথিত। ইসরায়েল মনে করে তুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হাকান ফিদান (যিনি এরদোয়ানের উত্তরসূরি হতে পারেন) একজন কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মানুষ ও ইরানের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

একজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিশ্লেষক তাকে ‘এই অঞ্চলে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কাছের মিত্র ইসরায়েল ও ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর তুরস্কের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ লাগার বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলো প্রমাণ করেছে যে একসময় যা ভাবা অসম্ভব ছিল, তা-ও বাস্তবে সম্ভব হতে পারে। আর তাই এই দ্বন্দ্বের ভবিষ্যৎ বাজি এখন অনেক উঁচুতে।

Dummy Ad 1

ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সব অবকাঠামো ধ্বংস হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬

ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সব অবকাঠামো ধ্বংস হবে

ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবশিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ইরানের খতম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এমন হুশিয়ারি দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।

জোলফাঘারি বলেন, ‘অপরাধী আমেরিকা’ অঞ্চলজুড়ে আইনভঙ্গ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীতি অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বহিরাগত শক্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না ইরান। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালি ইরানের একটি অলঙ্ঘনীয় লাল রেখা।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফাঁপা ও ভিত্তিহীন’ প্রেসিডেন্ট যদি ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হুমকি বাস্তবায়ন করেন তাহলে ইরানের সংযমের কারণে এখন পর্যন্ত যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে (মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সব অবকাঠামো) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাতসম আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। এমনভাবে ধ্বংস হবে যে, সেগুলোর অস্তিত্ব ছিল বলেও মনে হবে না।

জোলফাঘারি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বোকা শত্রুর জানা উচিত, আমাদের জন্য সংকটের মুহূর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সময় নয় বরং ইতিহাস গড়ার সময়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জবাব সমান মাত্রার হবে না তা হবে আরও শক্তিশালী, আরও ব্যাপক এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বিধ্বংসী।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গট ১৮ জুন একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।


গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

বার্তাবেলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সংঘাত আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘরে-বাইরে সমানভাবে চাপে রয়েছেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তিনি যেমন চাপে আছেন একই ভাবে বিভিন্ন দেশেও ইসরায়েলের কর্মকান্ডের জোরালো নিন্দা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতেও নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে না। তার এমন মন্তব্যের পর গাজা এবং পশ্চিমতীরে নতুন করে হামলা বেড়ে গেছে।

গাজায় তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি সিরিয়া এবং ইরাকেও হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৬৫ জন নিহত হয়েছে। একদিন আগের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ।

এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে গোলাগুলি, বিমান হামলা এবং কামানের গোলা থেকে হামলা চালানো হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিশর সীমান্তে অবস্থিত রাফা শহরে একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলার ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৪ হাজার ৯২৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৬২ হাজার ৩৮৮ জন। ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সংঘাত বাড়ছে।

এদিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে পাঁচ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় সিরিয়ায় নিযুক্ত ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ইন্টেলিজেন্স প্রধান নিহত হয়েছেন। তাছাড়া হামলায় তার দুই সহকারী ও অন্য দুই গার্ডও নিহত হয়েছেন। এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান।

এই ঘটনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিরিয়ার বেশ কয়েকজন সেনা সদস্যও নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি ইসরায়েল।

ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসলামি জিহাদ। শনিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে হামাস জানিয়েছে, দামেস্কের মাজ্জে এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।


আমি-ই বস: জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

আমি-ই বস: জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সামনে রসিকতার ছলে ঘোষণা করেছেন, আমি-ই বস। একইসঙ্গে তিনি ও জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে কিয়েভের প্রতি নতুন করে সমর্থন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই জি-৭ সম্মেলনে এমন এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার মিত্ররা সম্মেলনে এসেছিলেন ট্রাম্পকে বোঝানোর জন্য যে ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধ কার্যক্রম ইতোমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে এবং রাশিয়া এখন আর শান্তি চুক্তির শর্ত একতরফাভাবে নির্ধারণ করার অবস্থানে নেই।

ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সম্মেলনের যৌথ বিবৃতি এবং বিশ্বনেতাদের মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, দীর্ঘদিনের সংশয়ের পর ট্রাম্প এখন জেলেনস্কির যুক্তির প্রতি কিছুটা বেশি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া এই যুদ্ধে ইউক্রেনের তুলনায় বেশি সেনা হারাচ্ছে। তিনি রাশিয়াকে এই সংঘাতে ‘আক্রমণকারী পক্ষ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানে ‘বাস্তব পরিবর্তন’ দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারাও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন ইউক্রেন নিয়ে কোনো যৌথ অবস্থান ছাড়াই শেষ হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আগে ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্প দুজনেই এই সম্মেলনকে সফল বলে উল্লেখ করেন।

তবে রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করার পরিকল্পনা এখনো অনেকাংশে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল, আর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইরান চুক্তি নিয়ে সতর্ক ইউরোপীয় মিত্ররা

জি৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ও তা বাস্তবায়নে সহায়তা করার প্রস্তুতির কথাও বলেছেন।

তবে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি যে এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা কী হবে।

ইউরোপীয় মিত্রদের আশঙ্কা, অভিজ্ঞতাহীন মার্কিন আলোচক দল পরবর্তী পর্যায়ে ইরানের সঙ্গে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক চুক্তি করতে ব্যর্থ হতে পারে অথবা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করতে নাও পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখনো চূড়ান্ত নয় ও ইরান যদি শর্ত মানতে ব্যর্থ হয় তাহলে তিনি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন।

তিনি বলেন, যদি আমার এটা পছন্দ না হয়, যদি তারা ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আমরা আবার তাদের মাথার মাঝখানে বোমা ফেলতে শুরু করবো, ঠিক আছে?

যদিও প্রকাশ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রাথমিক সমঝোতাকে সমর্থন করছে, তবে কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন- এসব বিষয় নিয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন কাজ।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ

সম্মেলনে জি-৭ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত খনিজ মজুত নীতিতে সমন্বয় আনা ও আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার বিস্তৃত ভূমিকা নিয়ে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করা।

প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর জন্য পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর নির্ভরশীল। এখন তারা বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং এই নির্ভরতা কমাতে কাজ করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা

জি৭ নেতারা মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও আলোচনা করেন। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল এআই বট ও এজেন্টের দায়বদ্ধতা, এবং এআই কীভাবে সত্য ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে।

এই আলোচনায় অংশ নেন স্যাম অল্টম্যান ও দারিও আমোদেই’র মতো প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা।