শেয়ার বাজার

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন
নেতানিয়াহুর দিন কি ফুরিয়ে আসছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

নেতানিয়াহুর দিন কি ফুরিয়ে আসছে?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে রাজনৈতিক পতনের পূর্বাভাস নতুন নয়। গত আড়াই বছরে বিশ্লেষকরা বহুবার বলেছেন, তার সরকারের পতন ঘটতে চলেছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সংকট এড়িয়ে গেছেন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তার জোটেরই গুরুত্বপূর্ণ শরিক অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর চাপ সরকারকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।

আগামী ২০ মে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট হতে পারে। আর সেটি হলে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে দেশটিতে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে।

নেতানিয়াহু হয়তো এই ভোট ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করবেন, তবে তিনি বড়জোর আর কয়েক সপ্তাহ সময় পাবেন। কারণ বর্তমান নেসেটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এবং আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করা আইনিগতভাবে বাধ্যতামূলক।

পতনের নেপথ্যে যে বিরোধ

নেতানিয়াহু সরকারের সম্ভাব্য পতনের তাৎক্ষণিক কারণটি হলো কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোর একটি দাবি। তারা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সেমিনারি) শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে স্থায়ী অব্যাহতি দিয়ে আইন পাসের চাপ দিচ্ছিল। নেতানিয়াহু এই আইন পাসে রাজি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভোট মেলাতে ব্যর্থ হন। কারণ ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বৈষম্যমূলক আইন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ ইসরায়েলিদের বড় অংশই মনে করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে সরকার তাদের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এটিই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হতে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা ও সামরিক ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি এতদিন জোট টিকিয়ে রেখেছিলেন। সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দাদের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি জনগণকে ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় এখনো অধরা।

গাজার বেশিরভাগ অংশ এখন ধ্বংসস্তূপ, যেখানে ইসরায়েলের আংশিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বাকি অংশ এখনো হামাসের হাতেই রয়ে গেছে। লেবাননে বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার পরও স্থলযুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সহায়তায় ইরানে দু’বার হামলা চালালেও তেহরান এখনো অটল। নেতানিয়াহু হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফের ক্ষমতায় আসার দিকে তাকিয়ে আছেন, কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মতে, নির্বাচন বা নিকট ভবিষ্যতে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

নির্বাচনে যুদ্ধের ছায়া ও গণতন্ত্রের সংকট

নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির এক পার্লামেন্ট সদস্য অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় আমরা হয়তো আগামী নির্বাচনে হারতে যাচ্ছি।’ তবে এই নির্বাচন গাজা যুদ্ধের নৃশংসতার কোনো জবাবদিহি হবে না, কারণ বেশিরভাগ ইসরায়েলি এখনো এই যুদ্ধগুলোকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই সমর্থন করে। মূলত বিরোধী জোটের কাছে এই লড়াই নেতানিয়াহুর হাত থেকে ইসরায়েলের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র লড়াই।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে থেকেই নেতানিয়াহুর সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করার বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ ইসরায়েলি রাস্তায় নেমেছিলেন। যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের কল্যাণে সাময়িক স্থিতিশীলতা থাকলেও, কট্টর অর্থোডক্সদের পেছনে দেদারসে সরকারি অর্থ অপচয় নিয়ে মধ্যপন্থি ও বামপন্থিদের ক্ষোভ তুঙ্গে। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৮৩ হাজার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন, যা ইসরায়েলে বড় ধরনের ‘মেধা পাচার’ (ব্রেন ড্রেন)-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপন্থি ও বামপন্থি ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, এবারও নেতানিয়াহুর ক্যাম্পের কাছে হেরে যাওয়া হবে তাদের জন্য ‘অসহনীয়’।

নেতানিয়াহুর কি বিদায়ের সময় হলো?

গত তিন বছরের প্রায় সব জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তবে বিরোধী দলগুলোও একজোট হতে হিমশিম খাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের মধ্যে জোটের কথা চললেও, ডান ও মধ্যপন্থিদের কোন্দল এবং আরব-ইসরায়েলি দলগুলোকে জোটে নেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে বিরোধীদের একক কোনো নেতা এখনো উঠে আসেনি। আর এই বিভক্তির কারণেই জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এখনো একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে রয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা পরবর্তী ধকল পার করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি যদি এখন অবসরে যান, তবে তা কেবল নির্বাচনি পরাজয়ের গ্লানি থেকেই তাকে বাঁচাবে না, বরং তার বিরুদ্ধে চলমান ঘুস ও জালিয়াতির মামলাগুলো আপস-নিষ্পত্তির (প্লী বার্গেন) মাধ্যমে শেষ করার সুযোগ তৈরি করবে।

তবে চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে নেতানিয়াহু বহুবার জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে কামব্যাক করেছেন। এটি হতে যাচ্ছে লিকুদ পার্টির নেতা হিসেবে তার ১২তম নির্বাচন। রাজনীতি থেকে সহজে পিছু হটার পাত্র তিনি নন। ফলে ইসরায়েলের সামনে শত কোটি প্রশ্ন থাকলেও, আগামী নির্বাচনটি ঘুরেফিরে আবারও ‘নেতানিয়াহুর পক্ষে বা বিপক্ষে’ এক গণভোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।

Dummy Ad 1

আজ বছরের দীর্ঘতম দিন, রাত হবে সবচেয়ে ছোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬

আজ বছরের দীর্ঘতম দিন, রাত হবে সবচেয়ে ছোট

বছরের দীর্ঘতম দিন আজ (২১ জুন)। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের সব মানুষের জন্য আজকের দিনটি অন্য যে কোনো দিনের চেয়ে দীর্ঘ। আজ সূর্য আকাশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আলো ছড়াবে, যার ফলে রাত হবে বছরের সবচেয়ে ছোট।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ দিনটিকে বলা হয় গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বা ‘সামার সলস্টিস’। প্রতি বছর ২১ জুন এই ভৌগোলিক ঘটনাটি ঘটে। আজ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় দিনের আলো প্রায় ১৩ ঘণ্টা স্থায়ী হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

উত্তর গোলার্ধের মানুষ যখন বছরের দীর্ঘতম দিন উপভোগ করছেন, ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ গোলার্ধে। বিষুবরেখার দক্ষিণে অবস্থিত দেশগুলোতে আজ বছরের দীর্ঘতম রাত এবং ক্ষুদ্রতম দিন, যা তাদের জন্য শীতকালীন সোলস্টাইস বা মকরক্রান্তির সূচনা।

দীর্ঘতম দিন কেন হয়?

স্মিথসোনিয়ান সায়েন্স এডুকেশন সেন্টারের তথ্য অনুসারে, পৃথিবী তার অক্ষের ওপর ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই ঘূর্ণনের কারণে বছরের এই সময়ে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে এবং দিন বড় হয়।

অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরে যখন শীতকালীন সলস্টিস ঘটবে, তখন উত্তর মেরু সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে হেলে থাকবে, ফলে তখন দিন হবে বছরের সবচেয়ে ছোট।

বিশ্বজুড়ে উৎসব ও আয়োজন

বছরের এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীনকাল থেকেই নানা উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের নিউগ্রাঞ্জ এবং যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জ অন্যতম। বিশেষ করে প্রাচীন প্যাগান ও ড্রুইড ধর্মের অনুসারীদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।

যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে খ্রিষ্টপূর্ব ৩১০০ থেকে ১৬০০ অব্দের মধ্যে নির্মিত প্রাগৈতিহাসিক পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ স্টোনহেঞ্জে প্রতিবছর এই দিনে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। এই প্রাচীন পাথরের বৃত্তটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যা সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার গতিপথের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। আজ ভোরেও হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন পাথরের স্তম্ভগুলোর ফাঁক গলে সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ার সেই অপার্থিব মুহূর্তটির সাক্ষী হতে।


তীব্র বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সশস্ত্র ফেডারেল বাহিনী দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নেতারা।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তিনি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। নিহত ব্যক্তির বাবা-মা তাকে অ্যালেক্স প্রেট্টি হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তিনি একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টসহ (আইসিই) বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অভিযানের মধ্যেই এই গুলির ঘটনা ঘটে।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড নামে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই শহরটিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছিল। গত সপ্তাহে আলাদা আরেক ঘটনায় মিনিয়াপোলিসে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিকও ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আহত হন।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেন্ট পল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিষয়টি বহু আগেই কেবল অভিবাসন প্রয়োগের সীমা ছাড়িয়েছে। তার কথায়, এটি এখন অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নিষ্ঠুরতার এক অভিযান। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মিনেসোটা কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, একজন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেন। ওই ব্যক্তি একটি হ্যান্ডগান বহন করছিলেন এবং অস্ত্র নামাতে বাধা দিচ্ছিলেন। বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সহিংসভাবে প্রতিরোধ করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেকে আক্রমণ করে বলেন, তারা উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহে প্ররোচনা দিচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, আইসিই কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে স্থানীয় পুলিশকে কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নের জবাব দেওয়া দরকার।

আসলে কী ঘটেছিল?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যালেক্স প্রেট্টি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইল ফোনে ফেডারেল এজেন্টদের ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে এক এজেন্ট পিপার স্প্রে ব্যবহার করলে প্রেট্টি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করেন। এরপর একাধিক এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকে। মাটিতে ধরে রাখার সময় এক এজেন্ট অস্ত্র বের করেন এবং একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে প্রেট্টির নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তদন্তকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রথম গুলির আগে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের দাবি, অন্তত দুইজন এজেন্ট গুলি চালান এবং মোট ১০টির বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। বেশিরভাগ গুলিই প্রেট্টি মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকার সময় ছোড়া হয়।

পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিনেসোটায় অনুমতি থাকলে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা আইনসম্মত।

তীব্র হয়েছে বিক্ষোভে

ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসের ওই এলাকায় কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল এজেন্টদের লক্ষ্য করে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এজেন্টরা কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করেন।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, ছয়জনের বেশি মুখোশধারী এজেন্ট একজন বাসিন্দাকে মারধর করে গুলি করে হত্যা করেছেন—এমন ভিডিও তিনি নিজেই দেখেছেন। তার প্রশ্ন, আর কতজন মার্কিন নাগরিকের প্রাণ গেলে এই অভিযান বন্ধ হবে?

ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে এখনই মিনেসোটা থেকে আইসিই প্রত্যাহার করতে হবে। কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এই হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, ট্রাম্প মিনিয়াপোলিসকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছেন।

ঘটনার পর গভর্নর টিম ওয়ালজ জানান, তিনি হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।


অবশেষে গাজায়-ইসরায়েলের চারদিনের যুদ্ধবিরতি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৩

অবশেষে গাজায়-ইসরায়েলের চারদিনের যুদ্ধবিরতি শুরু

বার্তাবেলা: গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি কার্যকর হয়। এতে মধ্যস্থতা করছে কাতার। এই যুদ্ধবিরতিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে কিছু বন্দিবিনিময়ের কথা রয়েছে।

যদিও যুদ্ধবিরতিকে সামনে রেখে গাজায় রাতভর বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাওয়া গেছে হতাহতের খবরও। তাছাড়া যুদ্ধবিরতি শেষে আবারও গাজায় হামলা চালানো শুরু হবে বলে জানিয়েছে তেলআবিব।

এর আগে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা জানায়। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে প্রাথমিকভাবে ১৩ বেসামরিক জিম্মিকে মুক্ত করবে হামাস। এসময় কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল।

এদিকে ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। কাফার শুবা, হালতা ও আল-জেবিন শহরের উপকণ্ঠে এসব বোমা হামলা চালানো হয়।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী লক্ষ্য করে সংগঠনটির যোদ্ধারা হামলা চলিয়েছে। এতে বেশ কিছু ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।