একজন সংসদ সদস্য কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তিনি কি আর সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন? তার আসন কি শূন্য হয়ে যাবে?
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এখন এমনই একটি পরিস্থিতিতে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামিন না পেয়ে তিনি কারাগারে। এর আগে গত জুলাই মাসে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তখনও তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এখন সেই প্রশ্ন নতুন মাত্রা পেয়েছে। কারণ, একই সময়ে মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মিষ্টি পদত্যাগ করেন এবং সেই আসন শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
আবার প্রশ্ন দাঁড়ায়, সরকারি দল চাইলে একজন এমপিকে পদত্যাগ করাতে পারে, কিন্তু বিরোধী দলের একজন এমপির ক্ষেত্রে কেন একইভাবে সংসদ সদস্য পদ শূন্য করা যাচ্ছে না?
তবে আইন ও সংবিধানের বিধানগুলো দেখলে বিষয়টি আসলে আরও কিছুটা ভিন্ন।
শুধু কারাগারে গেলেই আসন শূন্য নয়
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং তার মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা সদস্য থাকার অযোগ্য হবেন।
অর্থাৎ এখানে দুটি বিষয় আলাদা। একটি হলো মামলায় আসামি হওয়া বা কারাগারে থাকা, অন্যটি হলো আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা পাওয়া।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব জাগো নিউজকে বলেন, কোনো মামলায় একজন সংসদ সদস্য গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেই তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। বিচারাধীন মামলায় কারাগারে থাকা এবং অপরাধে চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত হওয়া এক বিষয় নয়। সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ)-এ যে অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, সেটি দণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ফলে গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে যে মামলায় কারাগারে আছেন, শুধু সেই কারণে তার সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য হয়ে যায় না।
আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, এখানে সংবিধানের আরেকটি বিধান গুরুত্বপূর্ণ। ৬৭(১)(খ) অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য সংসদের অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তার আসন শূন্য হবে।
তবে কারাগারে থাকা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বিধান কার্যকর হয়ে যাবে, এমন কথাও সংবিধানে নেই। এখানে প্রশ্ন হবে তিনি সংসদে অনুপস্থিত থাকার জন্য সংসদের অনুমতি পেয়েছেন কি না এবং সাংবিধানিক শর্তটি বাস্তবে পূরণ হয়েছে কি না।
অর্থাৎ একজন এমপির কারাবাস দীর্ঘ হলে কারাগারে থাকার কারণেই নয়, ৯০ কার্যদিবসের সাংবিধানিক শর্ত পূরণ হয়েছে কি না; সেটিও আলাদা করে বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
আসন শূন্য হওয়ার পথগুলো কী?
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়া, সংসদের অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকা, সংসদ বিলুপ্ত হওয়া, ৬৬(২)-এর কোনো অযোগ্যতায় পড়া এবং ৭০ অনুচ্ছেদের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া।
এছাড়া একজন সংসদ সদস্য নিজে লিখিতভাবে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করলে সেই পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর আসনটি শূন্য হয়।
এখানেই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনার মৌলিক পার্থক্যটি তৈরি হয়।
মিষ্টির ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্ব তাকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি যে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৬৭(২)-এর অধীনে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের প্রক্রিয়া। অন্যদিকে নজরুলকে জামায়াত দল থেকে বহিষ্কার করেছে; তিনি নিজে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।
নজরুলকে নিয়ে সংসদেই উঠেছিল প্রশ্ন
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, এ প্রশ্ন অবশ্য নতুন নয়। তিনি জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেই আলোচনা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটিতে তাকে রাখা নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে তার সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয় না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোটদানে বিরত ছিলেন। বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে কি না, তা স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান তার আসনটা শূন্য হোক’, তাহলে ওই বিষয়টি আমলে নিয়ে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া যেতে পারে। এরপর তিনি বলেন, ‘এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।’
তার বক্তব্য ছিল, এভাবে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সরকার বিধি অনুযায়ী সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করতে পারে।
অর্থাৎ, তখনও আলোচনায় ছিল দল থেকে বহিষ্কার করলেই আসন শূন্য হয় কি না, নাকি সংবিধানের নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংসদে দেওয়া বক্তব্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছিলেন, শুধু বহিষ্কার যথেষ্ট নয়; অন্য একটি সাংবিধানিক ভিত্তি দেখাতে হবে।
এই জায়গাটিই এখন নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, সেই বিতর্কের কয়েক সপ্তাহ পর গাজী নজরুল ইসলাম একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে। ফলে প্রশ্নটি এখন আরও সরাসরি, মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেই কি একজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যায়, নাকি তার জন্য সংবিধানে আলাদা শর্ত ও প্রক্রিয়া রয়েছে?
অতীতের ঘটনাগুলো কী বলছে?
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসেও এমন একাধিক ঘটনা আছে, যেখানে দল থেকে বহিষ্কার এবং সংসদ সদস্য পদ একসঙ্গে শেষ হয়নি।
অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে নির্বাচিত আবু হেনাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তৎকালীন স্পিকার তার সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। নবম সংসদে সাতক্ষীরা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল; প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া না হওয়ায় তিনি এমপি পদে বহাল ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিও দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এমপি ছিলেন। জামালপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসানের ক্ষেত্রেও মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আলাদা আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
আরেকটি বহুল আলোচিত ঘটনা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই তিনি নিজে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর টাঙ্গাইল-৪ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।
এসব নজির দেখায়, দলীয় বহিষ্কার এবং সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়া একই আইনি ঘটনা নয়।
নজরুলের মামলায় এখন অবস্থাটা কী?
গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে বিষয়টি নতুন আলোচনায় তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলার কারণে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি বাসা থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
রিমান্ড শেষে নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ। একই মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম জামিন পান। বাদীপক্ষ এর আগে আপসনামা দিয়ে আসামিদের জামিনে আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আপসনামার বিরোধিতা করে।
এই মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ফলে নজরুল ইসলাম এখনো কোনো অপরাধে চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত হননি। এ অবস্থায় কেবল মামলায় কারাগারে থাকার কারণে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ)-এর অযোগ্যতা তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়েছে, এমন কথা বলার সুযোগ নেই।
মিষ্টির ঘটনায় কেন আলাদা প্রক্রিয়া?
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ক্ষেত্রে অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন বলেই ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এর একদিন পর তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর আসে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থাৎ এখানেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এমন কোনো সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হচ্ছে না। বরং দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের পর পদত্যাগের একটি সম্ভাব্য সাংবিধানিক পথ তৈরি হয়েছে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন এমপিকে দলীয়ভাবে পদত্যাগ করতে বলা এবং আইনগতভাবে তার আসন বাতিল করা এক বিষয় নয়।
বিরোধীদলের এমপিকে কেন একইভাবে সরানো যাচ্ছে না?
প্রশ্নটির উত্তর রাজনৈতিক সমীকরণে নয়, সাংবিধানিক কাঠামোয়।
কোনো দল তার সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করতে পারে। এটি দলীয় সাংগঠনিক বিষয়। কিন্তু সেই বহিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে, সংবিধান এমন সরাসরি বিধান দেয়নি।
অন্যদিকে কোনো এমপি নিজে পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৬৭(২) ধারা অনুযায়ী আসন শূন্য হয়। আবার ৬৬(২)-এর কোনো অযোগ্যতা তৈরি হলে ৬৭(১)(ঘ) অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন আসে। ৭০ অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ হলেও একই ফল হতে পারে।
এসব অযোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুযায়ী বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর বিধান রয়েছে। কমিশন শুনানি করে সিদ্ধান্ত দিতে পারে এবং এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
ফলে সরকারি দল বা বিরোধী দল—কোনো দলই শুধু দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংবিধানের বাইরে গিয়ে একজন নির্বাচিত এমপির আসন শূন্য করতে পারে না।
আইনের চোখে নজরুলের সামনে এখন কী
বিষয়টি সম্পর্কে আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব জাগো নিউজকে বলেন, মামলায় গ্রেফতার বা কারাগারে থাকাই কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার কারণ নয়। সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনসম্পর্কিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এমপি পদে থাকার অযোগ্যতার প্রশ্ন আসে। আর ৬৭ অনুচ্ছেদে আসন শূন্য হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ আছে, এর মধ্যে নিজের পদত্যাগ, ৬৬(২)-এর অযোগ্যতা এবং ৭০ অনুচ্ছেদের আওতাধীন পরিস্থিতি রয়েছে। টানা ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলেও বিষয়টি ৬৭(১)(খ)-এর আওতায় আসতে পারে। ফলে গাজী নজরুলের বর্তমান কারাবাসকে সরাসরি তার এমপি পদ বাতিলের কারণ বলা যায় না।
এই আইনজীবী বলেন, তার ক্ষেত্রে এখন মূলত সামনে রয়েছে মামলার বিচারিক ফল, সংসদে অনুপস্থিতির সাংবিধানিক শর্ত এবং কোনো পর্যায়ে আসন শূন্য করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, এই তিন প্রশ্ন। দল থেকে বহিষ্কার হওয়া আর এমপি পদ হারানোও এক বিষয় নয়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দল থেকে নিজে পদত্যাগ করা বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; শুধু দলীয় বহিষ্কারকে আসন শূন্য হওয়ার স্বয়ংক্রিয় কারণ হিসেবে সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মন্তব্য করতে চাননি।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, ফৌজদারি মামলা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগের মতো বিষয় সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে তার ওপর সাধারণ মানুষের তুলনায় উচ্চতর নৈতিক মানদণ্ড প্রত্যাশিত।
তিনি বলেন, আইনগতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত শুধু মামলা বা রিমান্ডের কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ফৌজদারি মামলায় রিমান্ড ও কারাগারে যাওয়ার মতো ঘটনা এবং একই সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনার দাবি রাখে।
মোর্শেদ হোসেন শাহীন আরও বলেন, এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের স্পিকারেরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে।