শেয়ার বাজার

বিচারপতিদের অপসারণ: ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রিভিউ আবেদনের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

বিচারপতিদের অপসারণ: ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রিভিউ আবেদনের শুনানি আজ

সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের রিভিউ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংবিধানের এ-সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদ পুরোটাই পুনর্বহাল করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ফিরলো সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে।

রোববার (২০ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, অন্যদিকে আদালতের অনুমতি নিয়ে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল জাব্বার ভূইয়া, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি মোহাম্মদ জেনারেল আরশাদুর রউফ। এসময় ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, এই রায়ের ফলে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসমর্থতা ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ থেকে ৮ পর্যন্ত বিধান ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যম বাতিল করা হয়েছিল। এগুলো পুনর্বহাল করেছেন আপিল বিভাগ।

এই রায় ঐতিহাসিক বলে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

Dummy Ad 1

বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি কিশোর-কিশোরী ক্লাব সচল করার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি কিশোর-কিশোরী ক্লাব সচল করার সুপারিশ

জাতীয় এবং জেলা পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবকে সচল করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি এবং বেসরকারি সংগঠনের কার্যক্রম ও তথ্যসমূহের মধ্যে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী এবং একক ডেটাবেইজ তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে নারী-নির্যাতন রোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম ও ব্লাস্ট যৌথভাবে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেখানে এসব সুপারিশ করেন বক্তারা।

সভায় ‘নারী-নির্যাতন রোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির জন্য একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ১৬ দিনব্যাপী পক্ষে আমরা আছি। এসময় এ বিষয়ে কথা বলা খুবই সময়পোযোগী। প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো বাল্যবিবাহ রোধ করা। ২০৩০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষের সবখানে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো বাল্যবিবাহ রোধ করা। সেই লক্ষ্যে আমাদের কিশোর-কিশোরী ক্লাবে সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা এবং আত্মরক্ষামূলক দক্ষতা শেখানো হচ্ছে যা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ১০৯-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সব জেলায় সেবাসমূহ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) জাকিয়া আফরোজ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন অধিশাখা) এবং প্রকল্প পরিচালক ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপ-সচিব এসপিএস স্পেশালিস্ট, (এটুআই) খন্দকার মনোয়ার মোরশেদ।

সভাপতির বক্তব্যে ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম বলেন, সরকারকে তার কাজে সহায়তা করার জন্য এবং দেশের সব পর্যায়ে সরকারের এ কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্লাস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করে আসছে।

ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ প্রকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম অফিসার রাইসুল ইসলাম এবং সভার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ব্লাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার।


নাশকতার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৩১ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

নাশকতার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৩১ জনের কারাদণ্ড

বার্তাবেলা: নাশকতার মামলায় জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবসহ ৩১ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের পৃথক দুটি আদালত এসব রায় ঘোষণা করেন।

পল্টন থানার মামলায় মাসুদ-মজনুসহ ১০ জনের কারাদণ্ড

১০ বছর আগের পল্টন থানার নাশকতার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনুসহ ১০ জনকে দুই বছর ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও মজনু ছাড়াও মামলার সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদল নেতা খন্দকার এনামুল হক এনাম, মো. এরশাদুল, জোনাইদ, আব্দুল কাদের খন্দকার, মো. দুলাল হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির রওশন ও মিজানুর রহমান টিপু।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর ৪৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করেন

নীরবসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর তিন বছরের কারাদণ্ড

অপরদিকে ১০ বছর আগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা নাশকতা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলায় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা সিটির সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে পৃথক দুই ধারায় তিন বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।

এ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, লুৎফর রহমান, শাহীন ওরফে গান্ডু শাহীন, তরিকুল ইসলাম ওরফে ঝন্টু, আমিনুল ইসলাম জাকির, গোলাম কিবরিয়া শিমুল, বিল্লাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব ও আনোয়ার রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া পলাতক ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাবুল নামে এক ট্যাক্সিচালক ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে মহাখালী থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তার গাড়ি থামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন।

এ ঘটনায় ট্যাক্সিচালক বাবুল তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গুলশান থানার মামলায় বিএনপির ১১ জনের কারাদণ্ড

এদিকে পাঁচবছর আগে গুলশান থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে পৃথক তিন ধারায় সাড়ে চার বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারায় ৬ মাস, ১৪৭ ও ৪২৭ ধারায় দুই বছর করে চার বছরের সাজা দেন বিচারক। সব ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে আসামিদের দুই বছর কারাভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন মো. মামুন চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, অসীম ওরফে অসীম আকরাম, নুরুল ওরফে নূর হোসেন, মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন, আমিনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রান্ত, জয়নাল, মীর মোহাম্মদ স্বপন। তারা সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে অসীম ওরফে অসীম আকরাম ও মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর অবরোধের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকার গুলশান এলাকায় বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হন। তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে মামলায় অভিযোগ করে পুলিশ। ঘটনার দিন ২৩ অক্টোবর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ।


অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আলোচনায় যারা

বাংলাদেশের পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের আদালতপাড়ায় চলছে নানান গুঞ্জন। বিশেষত বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন—এমন ঘোষণার পর থেকে সেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে আইনাঙ্গনের বাতাসে। এরপর থেকেই সামনে আসছে অনেকের নাম। বিদ্যমান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে কাউকে এ পদে উন্নীত করা হবে, নাকি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে—আছে এমন প্রশ্নও।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম খুব জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেন—অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। এছাড়া বিএনপিপন্থি প্রভাবশালী আইনজীবীদের নামও শোনা যাচ্ছে। যাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকও রয়েছেন।

সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।’

বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন—এমন খবর এখন সর্বত্র। তিনি যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তাই, এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোর লবিং চালাচ্ছেন অনেক আইনজীবী।

সূত্রের তথ্য, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনয়ন নিশ্চিত হলে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাই আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, কে হচ্ছেন পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল?

সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন অ্যাটর্নি জেনারেল। সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করবেন।’ উপ-অনুচ্ছেদ ৪-এ বলা হয়েছে, ‘তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।’

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজেকে বলেন, তফসিল ঘোষণা এবং মনোনয়নপত্র কেনার পর রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান আইন কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করলেই হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবেন।

বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রয়েছেন, মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভুঁঞা, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক আর হক। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন তারা। সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে নিয়োগ দেওয়ার মতো নাম শোনা যাচ্ছে অনেকের। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন, ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। একজন বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বারে তার সুনাম রয়েছে। তিনি সাবেক বিচারপতি ও সাবেক সফল প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুর রউফের ছেলে। ব্যারিস্টার রউফ বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সমন্বয়কদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার অনীক আর হকের নামও আলোচনায় রয়েছে।

ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল

বিএনপিপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত তিনি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়কও। দলীয় আদর্শ থাকলেও সব মত ও পথের আইনজীবীদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুলা) কমিটির আহ্বায়ক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল রিটের অন্যতম আইনজীবীও।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল

ব্যারিস্টার কাজল বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ। অভিজ্ঞ ও মেধাবী আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত। বিএনপির প্যানেল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের দুইবারের নির্বাচিত সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বিভিন্ন আলোচিত মামলার শুনানিতে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুসের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া

সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের একজন অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাদের নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বারের সুপরিচিতি আইনজীবী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায়ও তিনি ছিলেন আসামিদের আইনজীবী। সর্বশেষ, গ্রামীণফোন তথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও আইনজীবী ছিলেন।

ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন ‘সার্ভিস ম্যাটার’ সংক্রান্ত মামলার জন্য খ্যাতি পান। বেশ কিছু মামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ১৭ বছর আগে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস উত্তীর্ণদের নিয়োগবঞ্চিত এক হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দিতে আপিল বিভাগ থেকে রায় পাওয়া। চাকরিচ্যুত দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফউদ্দিনের আইনজীবীও তিনি।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে আইনি লড়াই চালান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কট্টর সমালোচকও তিনি।

শরীফ ভূইয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ১৪ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়ার নামও রয়েছে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে।

বিএম ইলিয়াস কচি

সুপ্রিম কোর্ট বারের সুপরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস কচি। তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে ২০১৭-১৮ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন।

এছাড়া বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীও অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।