শেয়ার বাজার

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আলোচনায় যারা

বাংলাদেশের পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের আদালতপাড়ায় চলছে নানান গুঞ্জন। বিশেষত বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন—এমন ঘোষণার পর থেকে সেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে আইনাঙ্গনের বাতাসে। এরপর থেকেই সামনে আসছে অনেকের নাম। বিদ্যমান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে কাউকে এ পদে উন্নীত করা হবে, নাকি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে—আছে এমন প্রশ্নও।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম খুব জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেন—অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। এছাড়া বিএনপিপন্থি প্রভাবশালী আইনজীবীদের নামও শোনা যাচ্ছে। যাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকও রয়েছেন।

সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।’

বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন—এমন খবর এখন সর্বত্র। তিনি যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তাই, এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোর লবিং চালাচ্ছেন অনেক আইনজীবী।

সূত্রের তথ্য, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনয়ন নিশ্চিত হলে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাই আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, কে হচ্ছেন পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল?

সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন অ্যাটর্নি জেনারেল। সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করবেন।’ উপ-অনুচ্ছেদ ৪-এ বলা হয়েছে, ‘তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।’

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজেকে বলেন, তফসিল ঘোষণা এবং মনোনয়নপত্র কেনার পর রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান আইন কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করলেই হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবেন।

বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রয়েছেন, মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভুঁঞা, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক আর হক। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন তারা। সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে নিয়োগ দেওয়ার মতো নাম শোনা যাচ্ছে অনেকের। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন, ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। একজন বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বারে তার সুনাম রয়েছে। তিনি সাবেক বিচারপতি ও সাবেক সফল প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুর রউফের ছেলে। ব্যারিস্টার রউফ বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সমন্বয়কদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার অনীক আর হকের নামও আলোচনায় রয়েছে।

ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল

বিএনপিপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত তিনি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়কও। দলীয় আদর্শ থাকলেও সব মত ও পথের আইনজীবীদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুলা) কমিটির আহ্বায়ক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল রিটের অন্যতম আইনজীবীও।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল

ব্যারিস্টার কাজল বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ। অভিজ্ঞ ও মেধাবী আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত। বিএনপির প্যানেল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের দুইবারের নির্বাচিত সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বিভিন্ন আলোচিত মামলার শুনানিতে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুসের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া

সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের একজন অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাদের নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বারের সুপরিচিতি আইনজীবী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায়ও তিনি ছিলেন আসামিদের আইনজীবী। সর্বশেষ, গ্রামীণফোন তথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও আইনজীবী ছিলেন।

ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন ‘সার্ভিস ম্যাটার’ সংক্রান্ত মামলার জন্য খ্যাতি পান। বেশ কিছু মামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ১৭ বছর আগে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস উত্তীর্ণদের নিয়োগবঞ্চিত এক হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দিতে আপিল বিভাগ থেকে রায় পাওয়া। চাকরিচ্যুত দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফউদ্দিনের আইনজীবীও তিনি।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে আইনি লড়াই চালান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কট্টর সমালোচকও তিনি।

শরীফ ভূইয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ১৪ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়ার নামও রয়েছে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে।

বিএম ইলিয়াস কচি

সুপ্রিম কোর্ট বারের সুপরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস কচি। তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে ২০১৭-১৮ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন।

এছাড়া বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীও অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Dummy Ad 1

সাবেক এমপি নিক্সন-মির্জা আজম-ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

সাবেক এমপি নিক্সন-মির্জা আজম-ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মির্জা আজম ও মো. আবদুল ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নিক্সন চৌধুরীর স্ত্রী তারিন হোসেন ও ওদুদের স্ত্রী মর্জিনা ওদুদকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এছাড়া পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমডি ইউসুফ আলীসহ চারজন, প্রিমিয়ার প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান মঈন ইকবাল ও পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী ও মির্জা আজমের এবং দুদকের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম সাবেক এমপি ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম ও মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।

নিক্সনের আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নিক্সন চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানপূর্বক তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে এরই মধ্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জানা গেছে, নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেন সপরিবারে গোপনে দেশত্যাগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা দেশত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে গেলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। এছাড়াও সার্বিক অনুসন্ধানকাজে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।

মির্জা আজমের আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মির্জা আজমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাবহারপূর্বক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে এরই মধ্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মির্জা আজম ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তিনি দেশ থেকে পলায়ন করলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র বিনষ্টসহ অনুসন্ধানকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মির্জা আজমের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।

ওদুদের আবেদনে বলা হয়েছে, আব্দুল ওদুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে অনুসন্ধানকালে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।


বিএনপির ১১ জনের কারাদণ্ড গুলশান থানার মামলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

বিএনপির ১১ জনের কারাদণ্ড গুলশান থানার মামলায়

বার্তাবেলা: পাঁচ বছর আগে গুলশান থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে পৃথক তিন ধারায় সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারায় ৬ মাস, ১৪৭ ও ৪২৭ ধারায় দুই বছর করে চার বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। সকল ধারার সাজা একইসাথে চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে আসামিদের দুই বছর কারাভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. মামুন চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, অসীম ওরফে অসীম আকরাম, নুরুল ওরফে নূর হোসেন, মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন, আমিনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রান্ত, জয়নাল, মীর মোহাম্মদ স্বপন। তারা সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে অসীম ওরফে অসীম আকরাম ও মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর অবরোধের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকার গুলশান এলাকায় বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হন। তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে মামলায় অভিযোগ করে পুলিশ। এ ঘটনার দিন ২৩ অক্টোবর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ।



অসমাপ্ত কাজ নতুন চিফ প্রসিকিউটর এগিয়ে নিয়ে যাবেন: তাজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অসমাপ্ত কাজ নতুন চিফ প্রসিকিউটর এগিয়ে নিয়ে যাবেন: তাজুল ইসলাম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের অসমাপ্ত কাজ নতুন চিফ প্রসিকিউটর এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সদ্য বিদায়ী তাজুল ইসলাম।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়ার পর সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাজুল ইসলাম এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। আমরা যেন ছাত্রদের আত্মত্যাগের কথা ভুলে না যাই। এসময় তিনি মামলার কার্যক্রম ও অগ্রগতিও তুলে ধরেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, নতুন সরকার আসছে, এখন তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তাদের লোকজনকেই দায়িত্ব নেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বিগত সময়ে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্বজনরা যেন সঠিক বিচার, ন্যায়বিচার পান।

নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করার কথাও বলেন তিনি।