শেয়ার বাজার

পুঁজিবাজার
অস্থিরতার পেছনে প্লেয়ার ও রেগুলেটরদের দুষলেন: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

অস্থিরতার পেছনে প্লেয়ার ও রেগুলেটরদের দুষলেন: অর্থ উপদেষ্টা

পুঁজিবাজারে অস্থিরতার পেছনে প্লেয়ার ও রেগুলেটরদের অনেক দোষ আছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ষষ্ঠ সংস্করণের প্রকাশনা উৎসবে তিনি বলেন, আপনারা জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কিনছেন, যার কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার শেয়ার প্রাইস কমে গেলেই আন্দোলন করেন, আমি এর পক্ষে নই।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিবিএসকে বলা হয়েছে তথ্য যা আছে তাই প্রকাশ যেন হয়। এখানে কারচুপির কোনো ব্যাপার নেই। আমাদের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের মতো পুঁজিবাজারের অবস্থাও একই রকমের। আপনারা জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কিনছেন, যার কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ এ শেয়ার মহা আনন্দে কিনছেন। নূন্যতম কোনো মূল্য নেই, এগুলো কয়েক দিন পরই ওয়েস্ট পেপার হিসেবে ব্যবহার হবে। এজন্য একটু কষ্ট করতে হবে। আমি বিনিয়োগকারীদের দায়ী করছি না। পুঁজিবাজারের প্লেয়ার ও রেগুলেটরদের অনেক দোষ আছে। আমি মনে করি এটা প্রচার করা দরকার।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা কোনো পাওয়ার দেখাতে আসিনি, একটা দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। বিগত ১৫ বছরের তথ্য নিয়ে নানা বিভ্রাট রয়েছে। তথ্য লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এগুলো পরিবর্তন ও সংস্কারের চেষ্টা করছি। কারণ দাতা সংস্থাগুলো আমাদের কাছে নানা প্রশ্ন করেন, তারা বোঝাতে চান আগেই কম ছিল ইত্যাদি। এ নিয়ে আমরা তাদের বোঝাচ্ছি আগের তথ্য লুকানো ছিল, আমরা সঠিকটা উপস্থাপন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ব্যবসায়ীরা এক স্থান থেকে সব তথ্য পায়। তথ্যের জন্য ব্যবসায়ীদের ১০ জায়গায় দৌড়াতে হবে না। আরও সুসংহতভাবে তথ্য যদি ম্যানেজমেন্ট করতে না পারি তাহলে সামনে আরও সমস্যা তৈরি হবে। আমাদের এই মিথ্যা তথ্যের প্রয়োজন নেই, কারণ প্রিয় মিথ্যা যন্ত্রণাদায়ক।

ব্যাংকিং অ্যালমানাকের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সিকদার, এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন গ্রন্থটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সৈয়দ জিয়া উদ্দিন আহমেদ, আব্দার রহমান প্রমুখ।

অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমরা সেক্টরগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উন্নয়ন সহযোগিদের সহযোগিতা চাই। যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়। আমরা এরইমধ্যে বিভিন্ন বোর্ডে পরিবর্তন এনেছি।

Dummy Ad 1

পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি
আবারও শতক হাঁকালো খুচরা বাজারে!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪

আবারও শতক হাঁকালো খুচরা বাজারে!

ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশের বাজারে হু হু করে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। নতুন বছরে জানুয়ারির শুরুতে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দামও কেজিপ্রতি নেমে আসে ৮০ টাকায়। তবে আবারও নতুন করে বাজারে পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খুচরা বাজারে দাম বাড়তে বাড়তে আবারও শতক হাঁকিয়েছে পেঁয়াজের কেজি।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দামবৃদ্ধির এ চিত্র দেখা গেছে। এসব বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। পুরনো পেঁয়াজের কেজি ৯০ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে রামপুরা বাজারে বিক্রেতা এনামূল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মুড়ি কাটা শেষ, নতুন হালি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে কিছুদিন সময় লাগবে।

তিনি বলেন, মোকামে দাম বেড়েছে। পাবনায় প্রতি মণ পেঁয়াজ ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা কেনা পড়ছে। যা আগের থেকে ৪০০ টাকা বেশি। মূলত গতকাল থেকেই এমন দাম বেড়েছে।

এদিকে, পাবনায় স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার মোকামগুলোতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে সেখানে বিভিন্ন হাটে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৬০-৭০ টাকায়। সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুর হাটসহ বিভিন্ন হাটে একই পেঁয়াজ এখন ৭৫-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আগাম পেঁয়াজের উৎপাদন শেষ হয়ে আসার কারণে গত তিনদিনে পাবনার বিভিন্ন উৎপাদন সংশ্লিষ্ট এলাকায় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কৃষক ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখন আগাম বা মুড়ি কাটা জাতের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগে এই পেঁয়াজ হাটে উঠেছে। সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলার কৃষকেরা যে মুড়ি কাটা জাতের পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন, তার বেশিরভাগই এরই মধ্যে তোলা হয়ে গেছে। ফলে বাজারে এই জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। এ কারণে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, মাসখানেকের মধ্যেই প্রধান জাত হালি কাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করবে। তখন দাম আবার কমে আসবে।


সর্বজনীন পেনশন স্কিমের টাকা পাওয়া কি সহজ হবে?- কর্তৃপক্ষ কী বলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৩

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের টাকা পাওয়া কি সহজ হবে?- কর্তৃপক্ষ কী বলছে

বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবার পর এনিয়ে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ যেমন দেখা যাচ্ছে, একইসাথে এটা কতটা কার্যকর এবং ঝামেলামুক্ত হবে সেই প্রশ্নও করছেন অনেকে।

নিয়মানুযায়ী কারও বয়স ১৮ বছর থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হলে অনলাইনে এই স্কিমে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। সুবিধাভোগীর বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হওয়ার পর আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা ন্যূনতম ১০ বছর পর্যন্ত চাঁদা দেয়া সাপেক্ষে এই সুবিধা পেতে পারেন।

তবে কোটি কোটি মানুষের নামে পৃথক হিসাব খোলা, সেটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করা হবে কিনা, ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কিস্তি দিয়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই পেনশন পাওয়া যাবে কি না সেই সংশয়ে আছেন অনেক গ্রাহক।

সেইসাথে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়ার বিষয়ে এখনও নেতিবাচক মনোভাব তো আছেই। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের টাকা নিয়ে হয়রানির নজির কম নয়।

নতুন পেনশন স্কিমে সেই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হয় কিনা, সেই চিন্তায় আছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জাহানারা বেগম। এ কারণে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখনো নিজের নামে স্কিমটি চালু করার সাহস করছেন না তিনি।

তিনি বলেন, “এক সময় দেখা যাবে কোটি কোটি লোক স্কিম খুলছে। আমি আজকে স্কিম খুললে মিনিমাম দশ বছর পরে পেনশন পাবো। বাংলাদেশের কোন সরকারি অফিসে গেলে তো ভোগান্তি হয়ই, টাকার পয়সার বিষয় হলে আরও হবে। তখন দেখা যাবে পেনশনের জন্য সরকারি অফিসে ছুটতে ছুটতে, টাকা দিতে দিতে আমার আসল টাকাটাই থাকছে না।”

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ভোগান্তি যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা তারা করেছেন।

সেবা পাওয়ার দুর্ভোগ কাটবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, পেনশন পেতে দীর্ঘসূত্রিতা বা হয়রানির কোন সুযোগ নেই, কারণ সব গ্রাহকদের থেকে কিস্তি সংগ্রহ এবং পেনশন দেয়ার সম্পূর্ণ লেনদেন অনলাইনে সম্পন্ন হবে। সেটাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

কিস্তি দাতার বয়স ৬০ বছর হওয়ার পর তার ব্যাংক হিসাবে অথবা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মাসিক পেনশন পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

মি. মোস্তফা বলেন, “পেনশনের আর্থিক লেনদেন সব কিছুই হবে অনলাইনে। গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমাদের কাছে আছে, তার অ্যাকাউন্টটি পেনশন দেয়ার উপযুক্ত হলে সেই অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা অটোমেটিক চলে যাবে। কোন ব্যক্তির সাথে কথা বলা লাগবে না। ”

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে গ্রাহক তার ইউনিক পেনশন আইডি দিয়ে প্রবেশ করে বছর শেষে মুনাফাসহ জমা হওয়া টাকার পরিমাণ জানতে পারবেন।

এছাড়া পেনশন তহবিলে সুবিধাভোগীদের যে অর্থ জমা হবে, সেখান থেকে কোন অর্থ সরানো হবে না, এমনকি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের যাবতীয় পরিচালন ব্যয় সরকারের আলাদা বরাদ্দ থেকে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সরকারি পেনশন পেতে হয়রানি দূর করতে ‘পেনশন সহজীকরণ নীতিমালা-২০২০’ জারি করা হয়েছিল। ওই নীতিমালা অনুযায়ী লেনদেনের সব কাজ বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে করতে হয়।

মি. মোস্তফা বলেন, “পেনশন নিতে এক সময় দুর্ভোগ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোন অভিযোগ শুনবেন না। কেননা আমরা এবং এই টাকার লেনদেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হতে হয়। অ্যাকাউন্টসে একটি পেনশনের ফাইল ১০ দিনের বেশি রাখার নিয়ম নেই।”

অর্থ বিভাগের আওতায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নামে আলাদা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এ সর্বজনীন পেনশন স্কিমটি পরিচালিত হচ্ছে।

এই স্কিমটি মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি চাকুরীজীবী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং স্বল্প আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে চালু করেছে সরকার।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীরা এই কর্মসূচির বাইরে থাকবেন। কারণ তাঁরা এরই মধ্যে পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন।

আগ্রহীরা অনলাইনে নিবন্ধন করলেই পেনশন স্কিমে চালু করতে পারবেন, এজন্য কোন সরকারি অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু অনলাইনে নিবন্ধন করে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাসিক টাকা জমা দিলেই হবে।

পেনশন তহবিলের টাকা বিনিয়োগ হবে কোথায়

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, স্কিমটি চালু হওয়ার তিন দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৯শে অগাস্টের মধ্যে এতে যুক্ত হয়েছেন ৪৩৯০ জন। আবেদন জমা পড়েছে ৪০ হাজারের মতো।

তবে সুবিধাভোগীরা কিস্তি বাবদ যে অর্থ দেবে সেটার তহবিল ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, কীভাবে এবং কোথায় পেনশন তহবিল বিনিয়োগ হবে, লভ্যাংশ কীভাবে বণ্টন করা হবে, সেগুলো নিয়ে অস্পষ্টতার মধ্যে থাকার কথা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে আলাদা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধিমালা তৈরির কথা জানিয়েছেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে, এই তহবিল সরকারি বন্ড বা ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগের কথা রয়েছে। যেসব বিনিয়োগে ঝুঁকি কম সেদিকেই যাবো। যদি ফান্ড আরও বড় হয় তাহলে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হতে পারে। এটা সময়ের পরিক্রমায় হবে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা তৈরি হচ্ছে, সেই মোতাবেক সব হবে।”

বিধিমালাটি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে তিনি জানান।

তবে এই পেনশন তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

অতীতে সরকারি বা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলের অর্থ অব্যবস্থাপনার নজির রয়েছে তাই যারা সুবিধাভোগীর টাকা বিনিয়োগ করবেন, তাদের স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি জানান।

মি. মোয়াজ্জেম বলেন, বিনিয়োগগুলো এমন জায়গায় করতে হবে যেখানে ঝুঁকি কম কিন্তু ভালো রিটার্ন আসবে। এক্ষেত্রে পুঁজি-বাজারে কোন অবস্থাতেই বিনিয়োগ করা যাবে না। তারচেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ অনেকটাই নিরাপদ। এতে নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্নের টাকা পাওয়া যাবে, যা দিয়ে মানুষের পেনশন পরিশোধ করা যাবে।

তবে কম ঝুঁকি-সম্পন্ন খাত-গুলোয় রিটার্ন কম হয়। সেক্ষেত্রে গ্রাহকদের বাড়তি যে অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার করেছে সেটা রাজস্ব থেকে পরিশোধ করতে হতে পারে, যা সরকারের ওপর বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এক্ষেত্রে একটি ব্যবস্থাপনা দল গঠন করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এই পেনশন স্কিমে শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় না করিয়ে এখানে বেসরকারি খাতের দক্ষ কর্মকর্তাদেরও যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে যারা বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন।

“বিনিয়োগে মনোযোগী হতে হবে। যাতে ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যায়। না হলে যে পরিমাণ রিটার্ন আসার কথা তেমনটা আসবে না। নাহলে সরকারের জন্য এই পেনশন স্কিম আরেকটি বোঝা হয়ে আবির্ভূত হতে পারে। সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারলে এ পেনশন তহবিল থেকে যা আয় হবে তা দিয়েই মাসিক পেনশন দেওয়া সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন সতর্কতা এবং সুশাসন।” তিনি বলেন।

মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় হবে কীভাবে

উচ্চ মূল্যস্ফীতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পেনশনে প্রাপ্ত অর্থ পরবর্তীতে জীবনযাত্রার খরচের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে প্রশ্ন আছে সে নিয়েও।

এক্ষেত্রে গ্রহীতাদের প্রাথমিকভাবে এই স্কিমকে কোন লাভজনক বিনিয়োগের খাত না ভেবে বরং সামাজিক সুরক্ষার জায়গা থেকে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন ড. গোলাম মোয়াজ্জেম।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারই জমা টাকার গ্যারান্টর। সরকার নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এখানে অর্থ বুঝে পেতে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আর্থিক লেনদেনে সরকারের এই নিরাপত্তার বিষয়গুলো প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি জানান, সরকার আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে পেনশনটি কবে, কি পরিমাণে দেয়া হবে, অর্থাৎ ফিক্সড রেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের কোন ঝুঁকি নেই। এ নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রচার হওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, সরকার মূলত ব্যাংক রেট এবং সঞ্চয়পত্র রেট এই দুটার মাঝামাঝি রেট ধরে এই হিসাবটি করেছেন।

বর্তমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি একটি অস্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যে মূল্যস্ফীতি থাকে অর্থাৎ পাঁচ শতাংশের আশেপাশে। সেক্ষেত্রে আশা করা যায় যে, পেনশন রেট এর চাইতে বেশি অন্তত ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

এ ব্যাপারে পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন পেনশনের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের হিসাব গতানুগতিক নিয়ম ধরে নয় বরং একটি সম্ভাব্য সংখ্যা ধরে হবে বলে তিনি জানান।

যেমন বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রগতি স্কিমে মাসিক দুই হাজার টাকা কিস্তি দিলে সর্বনিম্ন ১০ কিস্তি দিলে প্রতি মাসে ৩০৬০ টাকা পেনশন পাওয়া যাবে। এখানে পেনশন বাবদ যে হিসাব দেয়া হয়েছে এটি সম্ভাব্য প্রাপ্য অর্থ বলে জানিয়েছেন তিনি। যা কম-বেশি হতে পারে।

“সম্ভাব্য এই দামটি দেখানোর সময় লাভ ও ডিসকাউন্ট দুটো রেট ধরে করা হয়। প্রতি মাসে সম্ভাব্য এই টাকা গ্রাহক পেতে পারে। আজকে ২০০০ টাকা জমা দিয়ে ২০ বছর পর গ্রাহক প্রতিমাসে ঠিক কতো পাবেন সেটা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না।” তিনি বলেন।

নতুন এই পেনশন স্কিমে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংককে লেনদেনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকরা যেন নিজ নিজ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তার মতে, সব ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত হলে গ্রাহকদের হিসাব চালাতে যেমন সুবিধা হবে। তেমনি এতে একক কোন ব্যাংক নির্ভরতা এবং একটি ব্যাংকের আধিপত্য তৈরি হবে না। ওই ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। পেনশনারদের কোন বাধ্যবাধকতায় পড়তে হবে না।


চাল-ডাল-আটা-ময়দা-মসলাসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৩

চাল-ডাল-আটা-ময়দা-মসলাসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম চড়া

বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চিনির দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া  চাল, ডাল, আটা, ময়দা, মসলাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) রামপুরা মালিবাগ কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ও মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। তবে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কম দেখা গেছে। নিম্নমুখী আছে মুরগি ও ডিমের দাম।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা বাজারে খোলা সাদা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। আর প্যাকেজাত সাদা চিনি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। এসব চিনির দাম কয়েক সপ্তাহ আগে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল।

রামপুরা এবি স্টোরের কালাম হোসেন বলেন, কোম্পানি তারপরও চিনি দিচ্ছে না। তারাই সংকট লাগিয়ে রেখে দাম বাড়াচ্ছে।

এদিকে, মুদি দোকানে চলতি মাসের শুরুতে মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছিল। মাঝে কয়েক দিন কমে আবার বেড়েছে এখন। বর্তমানে মোটা দানার ডালের কেজি ১১০ থেকে ১২০ এবং ছোট দানার ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা আর খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা বেশি।

অন্যদিকে, খুচরা বাজারে আলু এখনও ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।পাশাপাশি মানভেদে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, আমদানি রসুন ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। আমদানি করা আদা ২২০ বিক্রি হচ্ছে।

মসলা জাতীয় পণ্য বিক্রেতা ফারুক আহমেদ বলেন, আদা রসুনের দাম বেড়েছে। তবে পেঁয়াজ আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারভেদে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজন ১২০ থেকে ১৩৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৯০ টাকা।

এছাড়া মানভেদে বিআর আটাশের চাল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, মানভেদে মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চালের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বুলু রাইস স্টোরের স্বত্তাধিকারী বুলু মিয়া বলেন, বিআর আটাশ চালের দাম কেজিতে চার টাকা বাড়ছে। নাজিরেও বাড়ছে চার টাকা আর মিনিকেটে বাড়ছে দুই টাকা। কয়েক বছর থেকে ধান কাটা-মারির মৌসুমে আর চালের দাম কমে না। এখন অব সিজনে দাম কমে। সিজন সময়ে আগে কমতো।

তবে বাজারের সবজির দাম কমে প্রায় অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।