শেয়ার বাজার

প্রিমিয়ার লিগের দলবদল, অর্ধডজন ক্রিকেটার চান এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রিমিয়ার লিগের দলবদল, অর্ধডজন ক্রিকেটার চান এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক!

ক্রিকেটাররা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি আসর খেলার জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ অক্টোবর ৮ বিভাগীয় দলকে নিয়ে শুরু হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এই আসর।

তারপরই জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি। প্রথমে দুবাইতে আফগানিস্তানের সাথে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং একই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং ২ ম্যাচের টি-২০ সিরিচ। এর মাঝখানেও ভেতরে ভেতরে আরও একটি কার্যক্রম ক্রিকেটারদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কী সেটা? নিশ্চয়ই ভাবছেন কী সেই ক্রিকেটীয় কার্যক্রম, যা ক্রিকেটারদের অবচেতন মনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে? সেটা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দলবদল।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জাতীয় লিগ, বিসিএলের দীর্ঘ পরিসরের পাশাপাশি একদিনের ফরম্যাটেও ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছেন। তাতে করে জাতীয় দলের বাইরে মাঝারিমানের একজন ক্রিকেটারেরও বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয়ের পথ খুলেছে; কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা প্রিমিয়ার লিগের দিকে তাকিয়ে। কারণ ১০০ থেকে ১৫০ ক্রিকেটারের বছরের রুটি-রুজিই এই ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। অনেকেই এই আসরে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে সারা বছর চলেন।

আগের বছরগুলোয় মার্চ-এপ্রিল কিংবা কখনো কখনো মে মাসে লিগ মাঠে গড়ালেও অক্টোবরের মধ্যে দল গড়ার কাজ শুরু হয়ে যেত। ক্রিকেটারদের অন্তত ৫০% না হয় এক-তৃতীয়াংশ অগ্রিম পেমেন্ট দিয়ে চুক্তি করে রাখত ক্লাবগুলো। সেখানে এবার লিগ শুরুর কথা ফেব্রুয়ারিতে। মানে লিগ ২ মাস এগিয়ে আসছে। সে আলোকে এখন ভেতরে ভেতরে নতুন বছরে দল গড়ার সেরা সময়; কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দলবদল নিয়ে সে অর্থে কোনো সাড়া-শব্দ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি কারণে এখন পর্যন্ত দলবদল নিয়ে ক্লাবগুলোর আগ্রহ কম। প্রথমত, ক্লাবগুলো এখনো সন্দিহান ফেব্রুয়ারিতে লিগ মাঠে গড়াবে কিনা? যদিও ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের আয়োজক, ব্যবস্থাপক সংগঠন সিসিডিএম নিশ্চিত করেছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে ২০২৭ সালের প্রিমিয়ার লিগ হবে ফেব্রুয়ারিতে। ক্লাবগুলোর সন্দেহ, শেষ পর্যন্ত ওই সময়ে না ঘুরে ফিরে মার্চ-এপ্রিলেই লিগ শুরু হবে। তাই ক্লাবগুলো একটু ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করছে। সেটাও এখন পর্যন্ত দলবদল কার্যক্রম শুরু না হওয়ার একটা কারণ।

পাশাপাশি আরও দুটি কারণে দলবদলে ক্লাবগুলোর তোড়জোড় তুলনামূলক কম। প্রথমত, বেশ কয়েকটি ক্লাবের এবার বাজেট বেশ কম। সেখানে উল্টো ক্রিকেটারদের ডিমান্ড এবার বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৫/৬ জন ক্রিকেটার প্রায় এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করছেন। এর বাইরে অন্তত ডজন খানেক ক্রিকেটার ৬০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা দর হাঁকাচ্ছেন। তার মানে ২/৩ জন নামী ও সুপ্রতিষ্ঠিত তারকাকে দলে নিতে হলে দেড় কোটি টাকা গুনতে হবে। এই বিশাল অংক দেওয়ার মতো ক্লাব নেই বললেই চলে।

গত লিগে মোহামেডান, আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ মোটামুটি বড় অংকের অর্থ খরচ করে বিগ বাজেটের দল গঠন করেছিল। এর মধ্যে নতুন ও পুরোনো মিলে মোহামেডানেই ছিলেন ১২-১৪ জন জাতীয় ক্রিকেটার। মুশফিকুর রহিম, তাওহীদ হৃদয়, এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রিশাদ হোসেন, ইয়াসির আলী রাব্বি, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, এবাদত হোসেন, সাইফউদ্দীন আর তাইজুলের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকা ছিলেন মোহামেডানে। তাদের পাশাপাশি উঠতি পেসার মুশফিক হাসান ও রিপন মন্ডলও খেলেছেন সাদা-কালো জার্সি গায়ে।

এতগুলো জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারকে দলে টানা, খেলানো সহজ কর্ম নয়। এজন্য মোহামেডানকে গুনতে হয়েছে বিপুল অর্থ। জানা গেছে, এখনো গত লিগের পুরো পেমেন্ট করতে পারেনি মোহামেডান। চলতি মাসে তিন তিনবার সময় দিয়েও সমুদয় পাওনা শোধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

এবার শেষ পর্যন্ত মোহামেডানের লাইনআপ কেমন হবে? এখনই তা বলা কঠিন। পাওনা না পেলে দল ছাড়তে পারেন বেশ কজন ক্রিকেটার। একেতো আগেরবারের বিরাট পাওনা, তার ওপর এবার ক্রিকেটারদের বিশাল অংক ডিমান্ড, দুয়ে মিলে মোহামেডান কর্তারা আছেন বিপাকে। ১৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগেরবার এক ঝাঁক নামী ও দামি ক্রিকেটার দলে ভিড়িয়ে লিগ ট্রফি ঘরে তুললেও এবার মোহামেডান আগের মতো অত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দল গড়তে পারবে কিনা, সন্দেহ আছে।

রানার্সআপ আবাহনীরও তেমন সাড়া-শব্দ নেই। মোহামেডানের মতো আবাহনীরও একাধিক ক্রিকেটার প্রায় ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেছেন। তাদের পাওনা মেটানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে আবাহনী অফিসিয়ালসদের।

প্রাইম ব্যাংক আর সিটি ক্লাব তুলনামূলক বিগ বাজেটের দল গড়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ দল দুটির বাজেট মোটামুটি ভালো। কিন্তু লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো মাঝারি শক্তির দলগুলোর অবস্থা তেমন ভালো না। চূড়ান্ত সাফল্যের দেখা না পেলেও গত এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিবারই বেশ ভালো দল গঠন করেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। সাবেক সরকারের আমলে মামলায় পড়ে একটা বড় সময় দেশের বাইরে থেকেও বিগ বাজেটের দল গড়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমান বাদল। কিন্তু এবার তিনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সব মিলে ক্রিকেটারদের হাই ডিমান্ড আর ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক মন্দা, দুইয়ে মিলে এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেটের দলবদল অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে। ভেতরের খবর, ক্রিকেটারদের এই হাই ডিমান্ড মেটাতে ক্লাবগুলো নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে দল সাজানোর চিন্তাভাবনা করছে। তাতে করে ক্রিকেটারদের ‘গ্রেডেশন’ করা থাকবে। এ প্লাস, এ, বি, সি, ডি ক্যাটাগরি ভাগ করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সেই গ্রেডেশন অনুযায়ী ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে।

এখন যারা ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করছেন, তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকায়। আনুপাতিক হারে ৫০-৬০ লাখ টাকা ডিমান্ড করা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নেমে আসবে ৪০ লাখে। একইভাবে ৩০-৩৫ লাখ টাকা মূল্য হাঁকানো ক্রিকেটারদের গড়পড়তা পারিশ্রমিত নেমে ২০-২৫ লাখে দাঁড়াবে।
Dummy Ad 1

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের যে সমাধান দিলেন শেহজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের যে সমাধান দিলেন শেহজাদ

ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব সামনে আসলেই ভক্তদের মুখ থেকে অনায়াসেই এমন বাক্য বেরিয়ে যায়। যেখানে এই ম্যাচ নিয়ে ভক্তদের থাকার কথা প্রবল আগ্রহ, সেখানে তারাই হচ্ছেন বিরক্ত। যার জন্য দায়ী সরাসরি ভারত-পাকিস্তানই।

আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক ভারত ও পাকিস্তানের কোনোটি হলেই শুরু হয় বিড়ম্বনা। কোনোভাবেই পাকিস্তানে টুর্নামেন্ট খেলতে যেতে চায় না ভারত। যার সর্বশেষ উদাহরণ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। বহু চেষ্টা করেও ভারতকে খেলতে যেতে রাজি করাতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

সমঝোতার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, হাইব্রিড মডেলে হবে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আয়োজক হিসেবে থাকবে পাকিস্তানই। তবে ভারতের সবগুলো ম্যাচ হবে আরব আমিরাতে। অচলাস্থা কেটে যাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত হয় ভেন্যু।

ভারতের একঘেয়েমির কারণে কঠিন হয়েছে পাকিস্তানও। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে গেলেও এবার পিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসির কোনো ইভেন্টে অংশ নিতে ভারতে যাবে না পাকিস্তান। অর্থাৎ এই সময়ে ভারতের মাটিতে হওয়া টুর্নামেন্টগুলোও হবে হাইব্রিড মডেলে।

দুই দেশের এই দ্বন্দ্ব ক্রিকেটীয় চেতনার সঙ্গেও বেমানান। আবার আইসিসি যে সমাধান দিয়েছে, তাও ক্ষণস্থায়ী। চলমান এই দ্বন্দ্বের একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন অনুভব করছেন ক্রিকেটভক্তরা।

এর জন্য একটি সমাধান দিয়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ। তিনি ধারণা দেন, দুই দেশের সীমান্তে একটি স্টেডিয়াম হবে। যে স্টেডিয়ামের একটি গেট থাকবে পাকিস্তানে। অন্যটি ভারতে।

একটি পডকাস্টে শেহজাদ বলেন, ‘সীমান্তে একটি স্টেডিয়াম তৈরি করুন। একটি গেট ভারতের দিক থেকে খুলবে। তাদের খেলোয়াড়েরা সেই গেট দিয়ে মাঠে আসবে। আমাদের খেলোয়াড়েরা যাবে এদিক (পাকিস্তানের দিকের গেট) দিয়ে।’

শুধু সমাধান দিয়েই থামেননি শেহজাদ। কৌশলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও ভারত সরকারের সমালোচনাও করেছেন। অনেকটা খোঁচা মেরে শেহজাদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এরপরও বিসিসিআই ও ভারত সরকার ঝামেলা করবে। তারা বলবে, তোমাদের (পাকিস্তান) খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে আমাদের প্রান্তে আসবে, আমরা তাদের ভিসা দেবো না।’


মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনই পড়লো ১৬ উইকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনই পড়লো ১৬ উইকেট

মিরপুর টেস্টে আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে খেলা বন্ধ হলো। তার আগে বোলারদের রাজ করার এক দিন কাটলো। টেস্টের প্রথম দিনেই দুই দলের মিলিয়ে পড়েছে ১৬ উইকেট।

বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে তারাও খুব স্বস্তিতে নেই। প্রথম দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১০৪ রান নিয়ে। ৩৪ রানের লিড নিয়েছে প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পতন হওয়া ৬ উইকেটের মধ্যে ৫টিই নিয়েছেন তাইজুল। ৪৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ১৩ বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করলেন তাইজুল। একইসঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ২০০ উইকেট শিকারীও হয়েছেন তাইজুল। পেছনে ফেলেন সাকিব আল হাসানকে।

২০০ উইকেট শিকার করতে সাকিবের লেগেছিল ৫৪ টেস্ট। তাইজুল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৮তম টেস্টে এসেই এই মাইলফলকে পৌঁছালেন।

বাংলাদেশকে অল্প রানে গুটিয়ে ব্যাট করতে নামা সফরকারীদের শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে প্রোটিয়া ওপেনার এইডেন মার্করামকে বোল্ড করেন ডানহাতি টাইগার পেসার। হাসানের ভেতরে ঢোকা বল ডানহাতি ব্যাটার মার্করামের (৭ বলে ৬) ব্যাটের কোনা স্পর্শ করে স্টাম্প ভেঙে দেয়। দলীয় ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

দ্বিতীয় উইকেটে পিচে সেট হয়ে ব্যাটিং করছিলেন টনি ডি জর্জি ও ত্রিস্টান স্টাবস। ৪১ রানের জুটিও করে ফেলেছিলেন তারা। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের বাইরের দিকে বেরিয়ে যাওয়া বল ডানহাতি স্টাবসের ব্যাটের কাণায় লেগে স্লিপে সাদমান ইসলামের হাতে জমা হয়। ২৭ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরত যান প্রোটিয়া ব্যাটার।

তৃতীয় সেশনের শুরুতে আরও একটি শিকার ধরলেন তাইজুল ইসলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার ডানহাতি ব্যাটার ডেভিড বেডিংহামকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ২৫ বলে ১১ রান করেন বেডিংহাম। ৭২ রানে তৃতীয় হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইনিংসের ২৮তম ওভারে একে জোড়া শিকার করেন তাইজুল। ওভারের দ্বিতীয় বলে পিচে থিতু হয়ে থাকা টনি ডি জর্জিকে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানান তিনি। ৭০ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরত যান প্রোটিয়া ওপেনার।

ওই ওভারের শেষ বলে নতুন ব্যাটার ম্যাথিউ ব্রিটজকে (৪ বলে ০) বোল্ড করে দেন তাইজুল। দলীয় ৯৯ রানে ৫ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর সেট ব্যাটার রায়ান রিকেলটনকে আউট করে প্রোটিয়াদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান তাইজুল। উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে ক্যাচ দেওয়ার আগে রিকেলটন করেন ৪৯ বলে ২৭।

এর আগে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই সেশনও টেকেনি বাংলাদেশ। ৪১.১ ওভার ব্যাট করে ১০৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের তোপে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি কোনো ব্যাটার।

দিনের শুরুতেই ব্যাটিং ব্যর্থতার আভাস দেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৪ বল খেলে ০ রানে সাজঘরে ফেরত গেছেন এই ব্যাটার। প্রোটিয়া পেসার উইয়ান মুলদারের বলে দ্বিতীয় স্লিপে এইডেন মার্করামের হাতে ক্যাচ হন বাঁহাতি সাদমান। দলীয় ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এক ওভার বিরতি দিয়ে আউট যান মুমিনুল হকও। ৬ বলে মাত্র ৪ রান করে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন বাহাতি ব্যাটার। মুলদারের বলে উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

ষষ্ঠ ওভারে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত (৭ বলে ৭)। মুলদারের বলে শর্ট মিড অফে কেশব মহারাজের তালুবন্দি হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অর্থাৎ প্রথম ৩টি উইকেটই নেন মুলদার। ২১ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের।

এরপর বাংলাদেশকে টেনে তুলতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু পারলেন না। দক্ষিণ আফ্রিাকার পেসার কাগিসো রাবাদার বল যেন বুঝে উঠতে পারছেন না অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষমেশ উইকেট দিয়ে আসলেন তিনিও। প্রোটিয়া ডানহাতি পেসার উপড়ে ফেলেন ডানহাতি মুশফিকের দুটি স্টাম্প। ২২ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরত আসেন মুশফিক।

৪০ রানে ছিল না ৪ উইকেট। চরম ব্যাটিং বিপর্যযে পড়া বাংলাদেশকে সামান্য স্বস্তিও এনে দিতে পারলেন না লিটন দাস। দলীয় ৫ রান যোগ না হতেই আউট যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ১৩ বলে খেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরত যান ডানহাতি লিটন। কাগিসো রাবাদার বলে স্লিপে ত্রিস্টান স্টাবসের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ (২৪ বলে ১৩)। দলীয় ৬০ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার কেশব মহারাজের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। আম্পায়ারের সরাসরি আউটের ঘোষণার পর রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটার।

পিচে থিতু হয়ে থেকেও ভালো ইনিংস খেলতে পারেননি ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ৯৭ বল খেলে মাত্র ৩০ রান করতে পারেন তিনি। প্রোটিয়া স্পিনার ডেন পিডটের বলে বোল্ড হন ডানহাতি ব্যাটার।

অভিষেক ম্যাচ রাঙাতে পারেননি জাকের আলী অনিক। ১৫ বলে মাত্র ২ রান করে মহারাজের বলে স্টাম্পড হন ডানহাতি ব্যাটার। স্কোরকার্ড ৭৬ রানের স্থির থাকতেই ২টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাইম হাসান ৮ আর তাইজুল ইসলাম করেন ১৬ রান। ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হাসান মাহমুদ।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা, উইয়ান মুলদার ও কেশব মহারাজ।


নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে ব্রাজিল
তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ : আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে ব্রাজিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ : আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে ব্রাজিল

অনিয়মের অভিযোগে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এডনাল্ডো রদ্রিগেজকে বহিষ্কার করেছে দেশটির আদালত। তবে তৃতীয় পক্ষের এই হস্তক্ষেপে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে ব্রাজিল।

২০২১ সালে অন্তর্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন রদ্রিগেজ। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে প্রেসিডেন্ট পদে বহাল হন। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল।

কিন্তু ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর আদালত অনিয়মের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করেছে। যদিও রদ্রিগেজের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষ যেভাবে ফুটবল ফেডারেশনে হস্তক্ষেপ করেছে, তা ফিফার নিয়ম বহির্ভূত।

তাই ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন বা সিবিএফের ওপর নেমে আসতে পারে নিষেধাজ্ঞা। আর এই নিষেধাজ্ঞা পেলে ব্রাজিল দল, তাদের কর্মকর্তা এবং রেফারিরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে না।

সিবিএফের কিছু নির্বাহী কর্মকর্তা রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনেন। ব্যাপারটা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার রিও ডি জেনেরোর কোর্ট থেকে আসে নির্দেশনা

এতে বলা হয়, রদ্রিগেজকে তার পদ থেকে ছাঁটাই করে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এ সময়ে সিবিএফের দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির ক্রীড়া আদালতের প্রধান জোসে পারদিজ। তার অধীনেই হবে নতুন নির্বাচন।