শেয়ার বাজার

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন- দুই সময়ের শহীদদের রক্ত ঝরানোর ধারাবাহিকতাকে এক সুতোয় গেঁথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ ৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

নিরাপদ দেশ গড়া

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে চায়। কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।’

‘আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতল মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রত্যাশা পূরণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, পাঁচ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ ও কয়েক কোটি কৃষক শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা আছে রাষ্ট্রের কাছে। আকাঙ্ক্ষা আছে দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে এই লাখ-কোটি মানুষের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।’

রক্তের ঋণ শোধ

মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য।’

তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ বছরের স্বৈরাচারের আমলে হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেখেছি তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।’

সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।’

সব শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ শোধ করতে আসুন আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

ধৈর্য ধারণের আহ্বান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির ভক্ত-চরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে পারি।’

এসময় মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার সাথে আজকে মঞ্চে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে আল্লাহর রহমত চাই। যে জাতীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে আছেন, বাইরে আছেন, আমরা সকলে মিলে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

দেশের শান্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোন উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই।’

আই হ্যাভ এ প্ল্যান

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে- আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই- আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন জন্য বাস্তবায়ন করতে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা লাগবে বলে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’


ন্যায়ের আলোকে দেশ পরিচালনা
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি- হে রাব্বুল আলামিন, একমাত্র মালিক, একমাত্র পরওয়ারদিগার, একমাত্র রহমতদানকারী, একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদের রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য ও দয়া এই দেশ ও দেশের মানুষের ওপর থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’

‘আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশের দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা
নিজের মা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘এই একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকে সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে চাইবো, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ ওনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।’

নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারিনি। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদেরসহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।’

শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে শ্রেণির মানুষ হই, যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই- আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে মানুষ যাতে নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।’

তিনি সবাইকে মিলে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
Dummy Ad 1

ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হতে পারেন জামায়াতের ‘চমক’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হতে পারেন জামায়াতের ‘চমক’

সংসদ নির্বাচন শেষে এখন আলোচনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নতুন সরকার আপাতত প্রশাসক বসালেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সব দল। শুরু হয়েছে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি নির্বাচনেও স্পষ্ট হচ্ছে জোটগত সমীকরণ।

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট স্থানীয় নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নিতে চায়। এরই মধ্যে দলটি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কারা মেয়র পদে নির্বাচন করবেন তা নিয়ে দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। নিজেরা ছাড় দিয়ে জোট থেকে প্রার্থী দিলে সেটা হবে জামায়াতের অন্যতম চমক। সেক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে এনসিপি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সদ্য প্রশাসক বসিয়েছে বিএনপি সরকার। ছয় মাসের মধ্যে সিটি নির্বাচন হবে বলেও একটি গুঞ্জন চলছিল। ছয় মাস বা একবছর- যখনই নির্বাচন হোক তার জন্য এখনই প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতসহ জোটে থাকা দলগুলো।

জামায়াত থেকে বেশ কয়েকজন নেতা সিটি নির্বাচনে লড়তে চান। এর মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। মেয়র পদে আলোচনায় আছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন। তিনি জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, যিনি ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী ছিলেন।

দলের একটি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের পুনরায় মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘দুই সিটিতেই কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে এবং প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের মজলিশে শুরার এক সদস্য বলেন, ‘সেলিম উদ্দীন দীর্ঘদিন উত্তরের আমির হিসেবে কাজ করছেন এবং সংগঠনের কাজে সক্রিয় থাকায় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি এগিয়ে থাকতে পারেন।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম, ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা-৬ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল মান্নানের নাম রয়েছে আলোচনায়।

তবে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে সমর্থন দিতে পারে। জোটের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই সিটিতে এনসিপি থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হতে পারেন। আসিফ নিজেও জানিয়েছেন তিনি মেয়র পদে লড়বেন। এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে কমিটি গঠন করেছে এনসিপি।

এনসিপি সূত্রে আরও জানা যায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন। আর ঢাকা উত্তরে মনোনয়ন পেতে পারেন দলটির মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।

কাউন্সিলর প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে কারা নির্বাচন করবেন সেটিও প্রায় চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের চকবাজার থানা পশ্চিমের আমির আবুল হোসাইন বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘গত এক বছর আগে থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ। যারা সম্ভাব্য প্রার্থী তারা জাতীয় নির্বাচনে ভালোভাবে কাজ করেছে, প্রচার-প্রচারণায় নিজেদের এগিয়ে রেখেছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় যারা দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ বছর ধরে সংগঠন করছেন, এলাকায় পরিচিতি আছে তাদের প্রায়োরিটি দেওয়া হয়েছে।’


হাদিকে নিয়ে পোস্টে রিপোর্ট: আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ রিমুভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

হাদিকে নিয়ে পোস্টে রিপোর্ট: আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ রিমুভ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে দেওয়া পোস্টে রিপোর্ট করে তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ রিমুভ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ওসমান হাদি ভাই সংশ্লিষ্ট সব পোস্ট, ভিডিওতে স্ট্রাইক এবং সংঘবদ্ধ রিপোর্ট করে আমার অফিশিয়াল পেইজটি (৩০ লাখের বেশি ফলোয়ার) রিমুভ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে লিংক দিয়ে সংঘবদ্ধ রিপোর্ট করা হয়েছে। হাদি ভাইকে নিয়ে দেওয়া তিনটি ভিডিওতেই স্ট্রাইক করা হয়েছে।


জাপা কার্যালয়
সকালে রওশন পন্থিদের দখলে, দুপুরে তালা মারলেন কাদের পন্থিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সকালে রওশন পন্থিদের দখলে, দুপুরে তালা মারলেন কাদের পন্থিরা

জাতীয় পার্টির কাকরাইল কার্যালয় দখলে নিয়ে সকালে ‘আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম’ শুরুর ঘোষণা দেন রওশনপন্থিরা। তবে রওশনপন্থিরা বের হয়ে যাওয়ার পর দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ফের নিজেদের দখলে নেন জিএম কাদেরপন্থিরা।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটার পর কাকরাইলের পাইওনিয়ার রোডের পাঁচ তালাবিশিষ্ট ওই কার্যালয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। যদিও সেসময় দুইপক্ষের কোনো নেতাকর্মীকেই দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায়নি।

এর আগে, এদিন সকাল ৮টায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে থাকা দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রওশনপন্থি নেতাকর্মীরা। এর মাধ্যমে তারা ওই কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন। ফুল দেওয়া এবং মোনাজাত শেষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয় পরিদর্শন এবং সেখানকার স্টাফদের খোঁজখবর নেন রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ।

এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অব্যাহতি পাওয়া চুন্নুর (মুজিবুল হক চুন্নু) চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করেই শত শত নেতাকর্মী সঙ্গে নিয়ে আমরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি। দেখি কে প্রতিহত করে? কার কত বুকের পাটা আছে, তা আগামীতেই প্রমাণ হবে।’

দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় সেখানে অবস্থান শেষে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ত্যাগ করেন কাজী মামুনুর রশীদ ও রওশনপন্থি নেতাকর্মীরা।


এরপর দুপুর দুইটার দিকে জাতীয় পার্টির কাকরাইল কার্যালয়ে যান জাগো নিউজের এই প্রতিবেদক। এসময় দেখা যায়, এরশাদের প্রতিকৃতিতে নেই রওশনপন্থিদের দেওয়া ফুল। ভবনের সামনে ঝুলছে জিএম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুর পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো বিশাল ব্যানার। তবে এসময় কার্যালয়ের সামনে দলটির কোনো পক্ষের নেতাকর্মীই চোখে পড়েনি।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলানো ছিল। কারা তালা ঝুলিয়েছেন, ফুল কারা সরিয়েছেন- এসব বিষয়ে বারবার জানতে চাইলেও কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে কার্যালয়ের সামনে থাকা দোকানগুলোর কর্মচারীদের সঙ্গে কথা কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকেই ফুল ছিল এরশাদের প্রতিকৃতির সামনে। জুমার নামাজের পর আর দেখা যায়নি। পরে খোঁজ করে পার্টি অফিসের পাশের এক ভবনের নিচতলায় কাজী মামুনুর রশীদের দেওয়া পুষ্পস্তবক পড়ে থাকতে দেখা যায়।এসব বিষয়ে জিএম কাদেরপন্থি নেতা ও জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি পাওয়া কয়েকজন এবং কিছু ভাড়াটে লোক সকালে এসেছিলেন। শুক্রবার বন্ধের দিন সকাল ৮টার দিকে তারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। এরপর তারা কার্যালয়ের নিচ তলায় অবস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কক্ষে ১০ থেকে ১২ মিনিট অবস্থান করেন। পরে কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে চলে যান।’

আরও পড়ুন: বাইরের কারও ইন্ধনে চলছে জাপাকে দুর্বল করার চেষ্টা: চুন্নু

তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারিত হয়েছে যে, জাতীয় পার্টি অফিস কে বা কারা দখলে নিয়েছে। এই সংবাদ অসত্য। জাতীয় পার্টি সারাদেশে জিএম কাদেরের নেতৃত্বে এক ও ঐক্যবদ্ধ।’

জিএম কাদেরপন্থি কমিটির যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক মোরশেদ আলম বলেন, ‘রওশনপন্থিরা অনধিকার প্রবেশ করেছেন। তারা পার্টি থেকে বহিষ্কৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত। তারা কাক ডাকা ভোরে সকাল আটটায় অফিসে এসে ফুল দিয়েছেন। এরপর ভেতরে এসে নিচতলায় ৫-৭ মিনিট অবস্থান করে চলে যান। মোটামুটি ২৫ মিনিটের মধ্যে পুরো কার্যক্রম শেষ করে চলে যান তারা।’