শেয়ার বাজার

বিজয়ের মাসে প্রথম ৮ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৫৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

বিজয়ের মাসে প্রথম ৮ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৫৯ কোটি ডলার

বার্তাবেলা: দেশের মধ্যে ডলার বাজারের অস্থিরতা কোনোভাবেই কাটছে না। উল্টো সংকট আরও বাড়ছে। বৈদেশিক এ মুদ্রার অভাবে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সংকট নিরসনে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবুও কোনো উদ্যোগ কাজে আসছে না।

তবে আশার দিকও রয়েছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে আইএমএফ লোনের দ্বিতীয় কিস্তি আর এডিবির লোন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে এতে রিজার্ভ কিছুটা বাড়বে। বিজয়ের মাসে আরও ইতিবাচক হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। ডিসেম্বরের আটদিনে এসেছে ৫৩ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেমিট্যান্স আসার এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ডিসেম্বরের প্রথম আটদিনে ৫৩ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার এসেছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার সমান ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা) পাঁচ হাজার ৮৪৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে পাঁচ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

আলোচিত আটদিনে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১০টি। এরমধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, আইসিবি ব্যাংক, বিদেশি খাতের ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক।

অন্যদিকে বিদায়ী নভেম্বরে মোট ১৯৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২১ হাজার ১৮১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এটি আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে প্রায় ৫ কোটি ডলার কম। অক্টোবর মাসে এসেছিল প্রায় ১৯৭ কোটি ডলার। তবে গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৩৩ কোটি ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে এসেছিল প্রায় ১৬০ কোটি ডলার।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২০ সালে হুন্ডি বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং চ্যানেলে সর্বোচ্চ সংখ্যক রেমিট্যান্স এসেছিল। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন দুই হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে করোনাকালীন ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।


অনলাইন প্রতারণা ও মানবপাচার ঠেকাতে মালয়েশিয়ার নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অনলাইন প্রতারণা ও মানবপাচার ঠেকাতে মালয়েশিয়ার নতুন উদ্যোগ

সীমান্তপারের ক্রমবর্ধমান অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, মানবপাচার, অভিবাসী পাচার, জাল নথি ও পরিচয় অপব্যবহার ঠেকাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করছে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ ও যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুত্রজায়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী সেরি ফাহমি ফাদজিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের উপস্থিতিতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়।

এ সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো, সীমান্তপারের অপরাধ মোকাবিলায় দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় অপরাধ শনাক্ত, প্রতিরোধ ও দমনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, সীমান্তপারের অপরাধী কর্মকাণ্ড শনাক্ত ও বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানবপাচার, অভিবাসী পাচার, জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে অপরাধ শনাক্তকরণ ও দমনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় অপব্যবহার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে পরিচালিত অন্যান্য অপরাধ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও এ সহযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী ড. শামসুল আনুয়ার নাসারাহ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব আবদুল হালিম হামজা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব আওয়াং আলিক জেমান, মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশনের (এমসিএমসি) চেয়ারম্যান তান শ্রী মোহাম্মদ সালিম ফাতেহ দিন এবং দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এ সমঝোতার ফলে ইমিগ্রেশন ও ডিজিটাল যোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তপারের অপরাধের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।



লিবিয়ায় চার বাংলাদেশিকে অপহরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৪

লিবিয়ায় চার বাংলাদেশিকে অপহরণ

দালাল চক্রের সদস্যরা লিবিয়ায় উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে চার যুবককে প্রথমে দুবাই তারপর সিরিয়া মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠিয়ে তুলে দেয় সংঘবদ্ধ মাফিয়াদের হাতে। এরপর তাদের নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হচ্ছে ১০ লাখ করে চল্লিশ লাখ টাকা। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হলে জীবন দিতে হবে চক্রের হাতে চার জিম্মিকে। জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়।

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৩টার মধ্যে যত পারে তত টাকা দিতেও বলা হয়। টাকা না দিলে একজন করে লাশ পড়বে বলে জানান অপহরণকারীরা। বুধবার বিকেলে অপহৃতদের স্বজনরা ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অপহৃত চার যুবক হলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যম গহিরা বাচা মিয়া মাঝির ঘাট এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মো. ওয়াসিম (২২), মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে বোরহান উদ্দিন (১৯), আবদুর রহিমের ছেলে জাবেদুর রহিম (১৯) ও জেবল হোসেনের ছেলে নাঈম উদ্দিন (২০)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।

অপহৃতদের স্বজনরা জানান, গহিরা এলাকার মো. হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম গত দুই মাস আগে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ার হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার আশ্বস্ত করেন। এতে মো. ওয়াসিম, বোরহান, জাবেদুর রহিম ও নাঈম উদ্দিন তার সাথে যোগাযোগ করে। প্রতিজন চার লাখ বিশ হাজার টাকা করে জহিরুল ইসলামকে মোট ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় তারা।

তারা আরও জানান, জহিরুল তাদের টুরিস্ট ভিসায় প্রথমে দুবাই নিয়ে গিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের বাসিন্দা মো. মিজান নামে এক লোকের হাতে তুলে দেন। মিজান তিন দিন পর তাদের সবার পাসপোর্ট নিয়ে নেন। সাত দিন পর দুবাই থেকে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে মিজান অন্য দালালের হাতে বিক্রি করে দেন।

স্বজনরা জানান, লিবিয়ায় তাদের মাসখানেক কিছু কাজ দেওয়ার পর গত সোমবার (২৫ মার্চ) তাদের বন্দি করে রাখে। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) পরিবার ও স্বজনদের কাছে কয়েকটি নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ ও অডিও পাঠায়। এতে প্রতিজনের থেকে ১০ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা প্রদানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চকরিয়া শাখার একটি ব্যাংক হিসাব নংও দেন। টাকা দিতে অপারগ হলে তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।

তারা আরও জানান, বর্তমানে ৪ যুবক লিবিয়ার একটি গোপন স্থানে বন্দি জীবনযাপন করছেন। টাকা পেলেই ফিরে দেবেন বলে জানান অপহরণকারীরা। দুইদিন ধরে দালালরা তাদের নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজও পাটাচ্ছে।

অপহৃত জাবেদুর রহিমের বাবা আবদুর রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার যা ছিল সব দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। সেখানে ছেলে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এখন ১০ লাখ টাকা দিলেই ছেলেকে ফেরত দেবে বলে জানাচ্ছে অপরণকারীরা। আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

বোরহান উদ্দিনের ভাই সাহাব উদ্দিন বলেন, বুধবার ৩টার মধ্যে চারজনের জন্য চার লাখ টাকা পাঠাতে বলেছে। বিকেল থেকে আমার মুঠোফোনের ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন করছে টাকার জন্য। তাদের নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজও পাঠাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

আনোয়ারা ইউএনও মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা এলাকার চার যুবককে লিবিয়া নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।