শেয়ার বাজার

আটকের পর খোঁজ মিলছে না সিজেপি নেতাদের, বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আটকের পর খোঁজ মিলছে না সিজেপি নেতাদের, বাড়ছে উদ্বেগ

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হওয়ার পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে দলটি।

নেতারা হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কা। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বিমানবন্দরে প্লেনের ভেতর থেকেই তাদের আটক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি বলেছে, প্লেনের ভেতর থেকে আটক করার পর থেকে এই তিন নেতার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

‘আটকের পর থেকে খোঁজ নেই’

পোস্টে বলা হয়েছে, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কাকে প্লেন অবতরণের পরপরই আটক করা হয়। এরপর থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত একটি ছবিতেও তিন নেতার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের আটকের বিষয়ে জানানো হয়নি।

তিন নেতাকে পৃথক স্থানে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সিজেপি। তবে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগ নেই

সিজেপি আরও জানিয়েছে, আটক তিন নেতার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ নেই। তাদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

ভারতেরপ্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি আন্দোলনে যোগ দিতে আসা কয়েকজনকে আটক করা হয়।

এরই মধ্যে সিজেপির তিন শীর্ষ নেতার অবস্থান নিয়ে দলের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


Dummy Ad 1

গাজার ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ নেই, অনাহারে লাখ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪

গাজার ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ নেই, অনাহারে লাখ লাখ শিশু

বার্তাবেলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের কড়া অবরোধ ও নির্বিচার হামলার মুখে থাকা ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার অপুষ্টিতে ভোগা মায়েরা যেসব শিশুদের জন্ম দিচ্ছেন তারা অসুস্থ হয়েই জন্মাচ্ছে, ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ তৈরি হচ্ছে না আর তাতে নবজাতকরা ওজন হারাচ্ছে; জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।  

রাফা হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে শিশুরোগের চিকিৎসক জাবর আল-শায়ের একটি নবজাতককে দেখান, জন্মের পর যারা ওজন ছিল সাড়ে সাত কেজি, মাত্র দেড় মাসের মধ্যে শিশুটি ২ কেজি ওজন হারিয়ে এখন সাড়ে পাঁচ কেজি হয়েছে।

“এইটা খারাপ। এটা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সব সময় ওর বুকে জ্বালা হচ্ছে আর পেট ব্যথা করছে,” বলেন আল-শায়ের।  

শিশুটির মা শরুক শাবান তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান কিন্তু তিনি নিজেই খেতে পান না। দক্ষিণ গাজার অধিকাংশ মানুষের মতো তিনিও অল্প একটু রুটি ও টিনজাত খাবারের ওপর বেঁচে আছেন।

আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, আহত রোগীরা ক্ষুধার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারছেন না। 

রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় গাজার উত্তরাঞ্চল প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কারও পক্ষে এখানে যাওয়াও অত্যন্ত কঠিন। এখানে ত্রাণ সহায়তাও বিরল। কখনও ত্রাণ পৌঁছলে ক্ষুধার্ত ও বেপরোয়া ফিলিস্তিনিরা সেগুলো ঘিরে ধরে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।   

ত্রাণ কর্মীরা জানিয়েছেন, এখানে তারা ক্ষীণ হয়ে যাওয়া লোকজনকে দেখেছেন, চোখমুখ শুকিয়ে যাওয়া এসব লোকদের দেখেই বোঝা যায় এরা ক্ষুধার্ত।


গাজার ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ নেই, অনাহারে শিশুরা

ছোট্ট ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার সব জায়গায় ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ২৩ লাখ বাসিন্দার সবাই ক্ষুধার্ত। তারা গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের অবিরাম বোমা হামলার মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, ভূখণ্ডটির অনেক এলাকা ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন।

গাজার মিশরীয় সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকাগুলো আমদানী করা খাবারের সীমিত সরবরাহ পেলেও ভূখণ্ডটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চল দুর্ভিক্ষের মুখে আছে বলে আন্তর্জাতিক ত্রাণ কর্মীরা জানিয়েছেন। এই দুটি এলাকায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই চলছে।

আরও পড়ুন: হামাসের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

গাজায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সমন্বয়ক শন কেইসি বলেন, “উত্তরাঞ্চলের খাদ্য পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। সেখানে প্রায় কোনো খাবার নেই আর যাদের সঙ্গেই আমরা কথা বলি সবাই খাবার ভিক্ষা চায়।”

গাজার অনাহারে থাকা মানুষদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। ত্রাণ সংস্থাগুলো তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই সেখানে যাওয়ার ও লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছে। শিশুরা কতোটা অপুষ্টিতে ভূগছে মূল্যায়ন করার জন্য তারা কতোট মাংস হারিয়েছে হাতের বের মেপে তা বের করার পরিকল্পনা করেছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।

সূত্র: রয়টার্স


গাজায় ইসরায়েলি কমান্ডারসহ তিন সেনা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

গাজায় ইসরায়েলি কমান্ডারসহ তিন সেনা নিহত

বার্তাবেলা ডেস্ক: গাজায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে কমান্ডারসহ আরও ৩ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এতে স্থল অভিযানে মোট ২৩২ ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারালো। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চার মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছে মিশর সীমান্তবর্তী রাফা শহরে। কিন্তু সেখানেও এখন হামলা পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এতে ব্যাপক শঙ্কায় দিন কাটছে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের। কারণ তাদের কাছে আর কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের পূর্বে অবস্থিত একটি ভবনে বিস্ফোরণে ওই তিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের সিনাই সীমান্তে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৪০টি ট্যাঙ্ক পাঠিয়েছে মিশর। সীমান্তে নিজেদের নিরপত্তা জোরদার করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। কারণ ওই এলাকায় গাজার সঙ্গে মিশরের সীমান্ত রয়েছে।

গাজায় যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল তা এবার রাফা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। এই রাফাতেই আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। মিশরের আশঙ্কা ইসরায়েল যদি রাফায় হামলা শুরু করে তাহলে ফিলিস্তিনিরা সীমান্ত অতিক্রম করে মিশরে চলে যেতে পারে।

এরই মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাফায় বেসমরিক ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়া ও হামলার নির্দেশনা দিয়েছেন।



হুথিদের কাছ থেকে মোখা পুনর্দখলের দাবি ইয়েমেন সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

হুথিদের কাছ থেকে মোখা পুনর্দখলের দাবি ইয়েমেন সরকারের

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ে ইয়েমেনে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর মোখা ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।

তবে, হুথিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল-জাজিরা।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, মোখা পুনর্দখলের পাশাপাশি রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্যেও তারা ‘কৌশলগত অভিযান’ শুরু করেছে। ২০১৪ সাল থেকে সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, হুথিদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর তারা মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

একই সঙ্গে, ওই লড়াইয়ে হুথিদের কয়েকজন যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।

সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও সোমবার হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেন, সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিতে ১০০টি যুদ্ধবিমান কাজ করছে।

একই সঙ্গে, বাব আল-মান্দাবের আকাশে ‘বিমান সুরক্ষা’ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হুথিদের শত শত অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, তারা তাইজ প্রদেশের ধুবাব জেলা ও বাব আল-মান্দাবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে।

এদিকে, সরকারপন্থি সাবা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ধুবাবে লড়াইয়ে হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস ও জায়ান্টস ব্রিগেডের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন।

তবে, মোখা পুনর্দখলের দাবি নাকচ করেছে হুথিরা। হুথি নিয়ন্ত্রিত তাইজের উপ-গভর্নর ফুয়াদ সিনান সোমবার সন্ধ্যায় মোখা শহর থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তারা শহরের রাস্তায় ঘুরছেন। তাই মোখা দখলের খবর সঠিক নয়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাওরি বলেন, পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, বাব আল-মান্দাবের দক্ষিণে ও তাইজ শহরের কাছে তীব্র লড়াই চলছে। তবে মোখা এখন কার নিয়ন্ত্রণে, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, হুথিরাও সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাবিগ এলাকায় আরামকোর একটি শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে, এসব হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা