শেয়ার বাজার

বরেণ্য সাংবাদিক গাজীউল হাসান খানের জন্মদিন উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরেণ্য সাংবাদিক গাজীউল হাসান খানের জন্মদিন উদযাপন

মহিন উদ্দিন স্বপন | জ্যেষ্ঠ বিশেষ প্রতিনিধি:

বরেণ্য সাংবাদিক, সাবেক কূটনীতিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজীউল হাসান খানের জন্মদিন উদযাপন করেছে কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) কার্যালয়ে এ উপলক্ষ্যে আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সিজেএফডি সভাপতি সাঈদ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সদস্য দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানি ও সিজেএফডির সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য (কো-অপ্ট) সাজ্জাদ হোসেন।

এছাড়া, সিজেএফডির সহ-সভাপতি নাসরীন সুলতানা, সালাম ফারুক, যুগ্ম-সম্পাদক  মনির আহমাদ জারিফ, দফতর সম্পাদক আশিকুর রহমান, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ সম্পাদক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বেলাল, ক্রীড়া-সংস্কৃতি সম্পাদক আহমেদ আজম, ইভেন্ট-আপ্যায়ন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বিপ্লব সিকদার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাবু, নির্বাহী সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ, সাবেক নির্বাহী সদস্য সায়ীদ মালিক, সদস্য মহিন উদ্দিন স্বপন ও সাইফুল ইসলাম'সহ অন্যান্য সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা গাজীউল হাসান খানের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং দেশের সাংবাদিকতায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান

অনুষ্ঠানে সিজেএফডি সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান বলেন, গাজীউল হাসান খান শুধু কুমিল্লার গর্ব নন, তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতারও একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন ও পেশাগত অবদান নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গাজীউল হাসান খান বলেন, আমার জন্মস্থান কুমিল্লা। ডিউজে বা বিএফইউজের মতো ইউনিয়ন আমাকে স্মরণ করেনি, বাসসের পদ ছাড়ার পর আমাকে সম্মাননা দেয়নি, কিন্তু আমার এলাকার সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম,, ঢাকা আমাকে যে সম্মান দিয়েছে। আমার বংশধর ও প্রতিব্বশীরাই আমাকে স্মরণ করেছে। আমি সে সম্মান লালন করে মৃত্যুবরণ করতে চাই।

এসময় তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ১৯৭৬ সালে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে উচ্চতর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত লন্ডনের ফ্লিট স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড টাইমস’ নিউজ ম্যাগাজিনে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। এ সময় সহকর্মীদের নিয়ে তিনি ‘কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ)’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিবিসিতেও কাজ করেন।

১৯৮০ সালে লন্ডনে ‘ইস্ট এন্ড’ প্রকাশনা সংস্থা ও একটি নিউজ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইতিহাসে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষার ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে বাংলা বই, সাহিত্য সংকলন, পত্রিকা ও শিশুদের পাঠ্যবই প্রকাশিত হয়।

১৯৯৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। নিউইয়র্ক সিটিতে ‘সাউথ এশিয়া ওয়াচ’ নামের মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালের শেষ দিকে তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় প্রত্যাবর্তন করেন। ২০০৩ সালে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। বাসসে পেশাগত জীবন শেষে জাতীয় দৈনিকগুলোতে সংবাদ বিশ্লেষণসহ কলাম লেখা শুরু করেন।ইতিহাসের বই পড়ুন

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৬ সালে গাজীউল হাসান খান একুশে পদক লাভ করেন। তিনি একই সঙ্গে সাংবাদিক ও সুলেখক। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রাজনীতির অগ্নিপুরুষ ভাসানী’, ‘প্যালেস্টাইন এক চলমান ইতিহাস’, ‘প্যালেস্টাইন এক সংগ্রামের ইতিহাস’, ‘ইতিহাসের অনুঘটক’সহ আরও কয়েকটি গ্রন্থ। বিশ্ব পরিস্থিতি ও সমসাময়িক আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়েও তিনি নিয়মিত লিখেছেন।

Dummy Ad 1

কেশরহাটে অনুমোদনহীন সমিতির উচ্চ সুদে সর্বশান্ত অনেক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৪

কেশরহাটে অনুমোদনহীন সমিতির উচ্চ সুদে সর্বশান্ত অনেক পরিবার

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে অনুমোদনহীন ব্যবসায়িক সমিতির আড়ালে চলছে উচ্চ হারে সুদের রমরমা ব্যবসা। সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অসহায় মানুষের সাথে প্রতারণা করে চালানো হচ্ছে এই সুদের কারবার। বড় অংকের সুদের কারণে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের দিনমজুরেরা হচ্ছেন সর্বশান্ত ।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, কেশরহাট পৌরসভার গোপইল গ্রামের সাজ্জাদ মাষ্টারের ছেলে রাজু। একসময় ছিলেন মুদি দোকানদার। মুদি ব্যবসার আড়ালে তিনি ফেন্সিডিলের ব্যবসাও করতেন এবং নকল সিগারেট ও ফেন্সিডিল’সহ বেশ কয়েকবার আটকও হয়েছিলেন মোহনপুর থানায়।

এরপর তিনি কোন সনদপত্র না নিয়েই কেশরহাটে ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। সুদ বইয়ের মাধ্যমে রাজু তার অবৈধ দাদন ব্যবসাকে বৈধ দেখিয়ে মোহনপুর-কেশরহাটের সাধারন মানুষদের প্রতারিত করছেন। সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলেও দিন দিন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে রাজু।

অতিরিক্ত সুদ আদায় এবং সরকারি আইন ভঙ্গ করলেও স্থানীয় সমবায় অফিস কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত সুদ প্রদানের মাধ্যমে সর্বশান্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুদ কারবারিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেশরহাট বাজার সংলগ্ন মসজিদ মার্কেটে নামবিহীন অফিস খুলে সুদের ব্যবসা চালাচ্ছে এই ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’।

আরোও জানা যায়, সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু মোড়া অংকের লাভে ও ব্যাংক চেকের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা দেন। সুদের ব্যবসা করে এখন সে কোটিপতি। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন সাধারণ মানুষের কাছে সুদে দেওয়া রয়েছে তার।

ঋণ প্রদানে সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প ও ব্ল্যাক চেক বইয়ের পাতা এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প রেখে দিচ্ছেন টাকা দেন তিনি। টাকা পরিশোধ করার পরও চেক বইয়ের পাতায় নিজেদের ইচ্ছা মত টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা করে গ্রাহক হয়রানির বহু অভিযোগ রয়েছে এ সমিতির বিরুদ্ধে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিচালক রাজু দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ সমবায় অধিদপ্তরের সরকারি পরিপত্রের তোয়াক্কা না করেই সদস্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ আদায়, সাদা চেক ও স্ট্যাম্প এর বিপরীতে ঋণ প্রদান করেন, এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তথ্যনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মোহনপুর উপজেলার সমবায় অফিসের অধীনে নামে বেনামে অনেক সমিতি রয়েছে, এছাড়া সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত আরও শতাধীক সমিতি রয়েছে। যাদের অধিকাংশই চড়া সুদে ঋণ বিতরণ করে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম কেশরহাটে রাজুর ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান। সমবায় সমিতি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন না নিয়েও সমবায় অধিদপ্তরের কোন আইন কানুনই মানছে না প্রতিষ্ঠানটি।

কেশরহাট বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’এর পরিচালক রাজু লাভের ওপর এককালীন টাকা দিয়ে মাত্র এক মাস বা তিন মাস মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য করেন । এতে ঋণ নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন সাধারণ অসহায় মানুষ।

আরোও এক ব্যবসায়ী কান্নাস্বরে জানান, রাজুর কাছে সুদে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা তাকে লাভ দিতেন। টাকা না দেওয়ার কারনে ওই সুদ ব্যবসায়ী তাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী এখন অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ব্যবসা বন্ধ করে নিজের জমি জমা বিক্রি করে ওই সুদ ব্যবসায়ীর টাকা দিতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে তাকে।

শুধু তাই নই, রাজশাহীর সাহেব বাজারের আরোও এক ব্যবসায়ীর সাথেও প্রতারনা করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা চিট করে নিয়েছে এই সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু। এরপর সেই ভুক্তভোগী কেশরহাট পৌরসভায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিছা দেলোয়ারা আঞ্জু জানান, কেশরহাটে ‘সাফল্য সমবায় সমিতির’ কোন নিবন্ধন নাই। যেহেতু নিবন্ধন নাই সেহেতু কেউ যদি তার কাছে প্রতারিত হয় তাহলে এর জন্য আমরা দায়ী নই।

মোহনপুর উপজেলার ইউএনও আয়েশা সিদ্দিকা জানান, আমার এ বিষয়ে জানা ছিলোনা। বিস্তারিত আমি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হরিদাস মন্ডল জানান,এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ জানান, সাফল্য সমবায় সমিতির কোন ট্রেড সনদপত্র নেই। এ বিষয়ে আমি যতটুকু জানি রাজু একজন চিট। তার নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে একজন ব্যক্তির মোটা অংকের টাকা প্রতারনা করে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়ায় তাকে আমি ডেকে এনে সময় সাপেক্ষে

পৌরসভাতেই মিমাংসা করে দেই। এই রাজুর খপ্পরে পরে যেন আর কেউ প্রতারিত না হয় সেইদিকে আমি খেয়াল রাখব।

এ বিষয়ে সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে পাঁচ দফা জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

তিনি বলেন, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু অভিযোজনের জন্য এ বছরের বাজেটে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া দেশটি বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগের মাধ্যমে সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।

তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন।

প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ সম্ভব করতে হবে।

চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

পঞ্চমত, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে নেই পাইলট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৫

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে নেই পাইলট

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বেঁচে নেই।তার মৃত্যুর বিষয়টি যুগান্তরকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।আহত ও দগ্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসেছে। সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে একজন মৃত। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈমানিকের বিষয়েও কোনো তথ্য এখনো দেয়নি আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর। 

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়।

স্কুলের একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জ্বলন্ত উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট।