শেয়ার বাজার

দিনাজপুরে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নারীকে দীর্ঘদিন ‘ধর্ষণ’, আ.লীগ নেতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

দিনাজপুরে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নারীকে দীর্ঘদিন ‘ধর্ষণ’, আ.লীগ নেতা আটক

দিনাজপুর হিলি প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হিলিতে বিয়ের নাটক সাজিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় হিলি মুন্না মটরস এর মালিক মুশফিকুর রহমান মুন্না (৪২)কে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আজ শনিবার (১৬ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার বোয়ালদাড় গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে।

হাকিমপুর থানা অফিসার ইনচার্জ দুলাল হোসেন বলেন, কৌশলে বিয়ের নাটক সাজিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় আসামি, হিলি মুন্না মটরস এর মালিক মুশফিকুর রহমান মুন্না (৪২) কে আজ শনিবার ভোররাতে তার নিজ বাড়ি বোয়ালদাড় থেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামির বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানার মামলা নং ১৫ তারিখ-১৬/০৩/২০২৪ খ্রিঃ ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২০ এর ৯(১) তৎসহ পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(১) ও ৮(৩) ধারা রুজ্জু করিয়া আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Dummy Ad 1

ধর্ষণকাণ্ড: জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ধর্ষণকাণ্ড: জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

বার্তাবেলা ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষক ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ সাজাসহ পাঁচ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত নতুন প্রশাসনিক ভবন ‘প্রতীকী অবরোধ’ করেছেন আন্দোলনকারীরা। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের’ ব্যানারে দুই ঘণ্টা ধরে এ অবরোধ করা হয়। পরে বেলা ১১টায় এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। 

অবরোধ চলাকালে প্রশাসনিক ভবনে কোনো কর্মকর্তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমকেও দেখা যায়নি। 

এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নতুন প্রশাসনিক ভবনে প্রতীকী অবরোধ করেছিল ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ'। 

‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের’ পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্তপূর্বক নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত ও র‌্যাগিং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার নিষ্পত্তি করাসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়কদের সহায়তাকারী প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত ও সুষ্ঠু হওয়ার স্বার্থে তদন্ত চলাকালে তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া; মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে হবে, অছাত্রদের সরিয়ে দিতে হবে। প্রশাসন আমাদেরকে বলেছিল, পাঁচ কর্মদিবসে অছাত্রদের বের করে দিবে। কিন্তু তারা সেটা পারেনি। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঢাকায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।“ 

তিনি বলেন, “সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন দেখা করেছে। এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করবেন? তার কাছে গিয়েছিলেন নিশ্চয় ক্যাম্পাসে পুলিশের সহায়তা নিয়ে তল্লাশি করার জন্য। কিন্তু পুলিশ এখানে কী সহায়তা করবে, তারা কি বহিরাগত অছাত্রদের চেনে? এখানে হল প্রশাসন যদি কাজ করে তাহলে কিন্তু সমাধান হয়। কিন্তু তারা কেউ কাজ করছেন না।”

গত ১৫ বছরে প্রতিটা হল টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে; রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে বিচারহীনতা চলছে তার প্রভাব এখানে পড়েছে বলে জানান এই অধ্যাপক।  

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ও প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, “এক পৈশাচিক ঘটনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো ব্যাধিকে জাতির সামনে তুলে ধরেছে। এই সংক্রামক ব্যাধিগুলো দূর করা যাবে না এটা এমনও না। এটা অবশ্যই দূর করার মত। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে যে দায়িত্বশীল হতে হবে। সেই দায়িত্ব আমরা দেখিনি। 

“বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারকে যে ঘটনাগুলো কলুষিত করেছে, কলঙ্কিত করেছে, সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে সেই সম্মান উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো তৎপরতা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।" 

তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক কীভাবে ছড়িয়ে গেছে, মাদক ব্যবসা, চোরা চালান, মাদক সেবন সামনে এসেছে। র‍্যাবের ব্রিফিং থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনের পর দিন যে পাশবিক ঘটনাগুলো ঘটছিল তা এই অছাত্ররা করছিল। এই প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে তারা দায় এড়াতে পারে না। শুধু এই প্রশাসন তা উপলব্ধি করতে পারছে না।" 

অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কনোজ কান্তি রায় বলেন, "এই ক্যাম্পাসে একজন বৈধ শিক্ষার্থী থাকার জায়গা ও লেখাপড়ার জন্য চেয়ার-টেবিল পায় না। অন্যদিকে কিছু অবৈধ শিক্ষার্থী ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় থেকে তাদের সঙ্গে লেজুড়বৃত্তি করে হলগুলোতে থাকছে।যার ফলে বৈধ শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

“গণরুমে ওঠার পরে যারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয় তাদেরকে আগে সিট দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। আর গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার এবং র‍্যাগিং শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে বিকৃত করে তোলে।” 

এ সময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার ও সোহেল রানা, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমেনা ইসলাম, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম।


অধ্যাদেশ জারি
ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

ভূমি ও কৃষিজমি অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করা হয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় এ অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে না।

যে অপরাধে যে শাস্তি

অধ্যাদেশে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড পেতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল), পাহাড় ও টিলা অথবা জলাধারের পাড়ের মাটি ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমির ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন বা কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন ও ভূমিরূপ পরিবর্তনের অপরাধগুলোকে অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের একই প্রকৃতির অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের বিধান অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্তভাবে ক্ষতিপূরণ আদায়, ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপন, অবৈধভাবে ভরাট করা মাটি ও স্থাপনা অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে হবে জোনিং ম্যাপ

সরকার কৃষিভূমি সুরক্ষা এবং ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সারাদেশে ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন করবে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মৌজা, দাগ বা নির্দিষ্ট সীমারেখা অনুযায়ী জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এ–সংক্রান্ত একটি ডাটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

জোনিং ম্যাপ একযোগে পুরো দেশের জন্য বা প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে প্রণয়ন করা যাবে। ম্যাপ তৈরির সময় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও পরীক্ষার ফল বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে এ ভূমি জোনিং ম্যাপ করা হবে। জোনগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, কৃষি-মৎস্য চাষ অঞ্চল, নদী ও খাল অঞ্চল, জলাশয়, জলাধার ও জলাভূমি অঞ্চল, পরিবহন ও যোগাযোগ অঞ্চল, শহুরে আবাসিক অঞ্চল, গ্রামীণ বসতি অঞ্চল, মিশ্র ব্যবহার অঞ্চল, বাণিজ্যিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সুবিধা অঞ্চল, বন ও রক্ষিত এলাকা অঞ্চল, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা বা প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা, সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য অঞ্চল, পাহাড় ও টিলা অঞ্চল, পতিত ভূমি অঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চল।

খসড়া জোনিং ম্যাপ প্রস্তুত হলে জনসাধারণের মতামত জানার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ডেটা সংরক্ষণের ওয়েবলিংক উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে তা প্রকাশ করা হবে। বিধি অনুযায়ী ফি দিয়ে যে কেউ খসড়া ম্যাপের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি এসব কার্যালয়ে খসড়া ম্যাপ জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যে কেউ খসড়া ম্যাপের বিষয়ে লিখিত আপত্তি বা মতামত জেলা প্রশাসকের কাছে দিতে পারবেন। এসব আপত্তি বা মতামত নিষ্পত্তির জন্য জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। জেলা কমিটি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিবেদন নেবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শুনানি করবে এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবে।

জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করা যাবে। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল নিষ্পত্তি করবে এবং সে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত জোনিং ম্যাপ প্রকাশ করবে।

সরকার স্পারসোর সহায়তায় ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জোনিং ম্যাপের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করবে এবং প্রতি ১০ বছর অন্তর ম্যাপ হালনাগাদ করবে। জোনিংয়ের পর স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং জোনিং ম্যাপের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হবে। এ কাজে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ, ভূমি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ, আইটি, জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ, কৃষি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ, আইন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

খসড়া জোনিং ম্যাপের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি গঠন করা হবে। 

কৃষিভূমি সুরক্ষা

অধ্যাদেশে বলা হয়, জোনিংয়ের ভিত্তিতে কৃষিভূমি সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ কৃষি অঞ্চল ঘোষণা করা যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন বা অকৃষি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ কৃষি অঞ্চল না হলেও দুই বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ থাকবে এবং এক ও দুই ফসলি জমিতেও ধাপে ধাপে তামাক চাষ সীমিত করা হবে।

জাতীয় প্রয়োজনে জ্বালানি, খনিজ বা প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ প্রভাব নিরূপণের শর্তে সীমিত পরিমাণ কৃষিভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে আগে অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মোট কৃষিভূমির ১০ শতাংশের বেশি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা বা জলাধারের উপরিভাগের মাটি ক্রয়-বিক্রয়, অপসারণ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার বা জলাভূমি ভরাট, পাহাড় কাটা কিংবা প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করা যাবে না। এসব কাজে জড়িত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।

সরকার উপকূলীয় ও সাগরসংলগ্ন ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিধি অনুযায়ী কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা যাবে। কোনো ভূমির রেকর্ডীয় শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

কৃষিভূমিতে আবাসন-অবকাঠামো নির্মাণ

সরকারি বা বেসরকারি সব প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ অধ্যাদেশের বিধান মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

অধ্যাদেশে বলা হয়, নির্ধারিত অনুমতি সাপেক্ষে কেউ নিজস্ব কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপাসনালয়, কবরস্থান, গুদামঘর, পারিবারিক পুকুর বা কুটির শিল্প স্থাপন করতে পারবেন। অনুমতির শর্ত ভঙ্গ হলে তা বাতিল করা যাবে। অনুমতি ছাড়া কৃষিভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা, জলাধার ও জলাভূমি ছাড়া অন্য জমির জোন পরিবর্তন বা জোনিং বহির্ভূত ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, পরিবেশ ও এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।


শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে দেশে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি তত বাড়ছে। জনমনে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তৈরি হচ্ছে ভীতির পরিবেশ। প্রায় প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের তৎপরতার খবর সামনে আসায় নির্বাচনকেন্দ্রিক জননিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে সামনে আসছে।

নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথারীতি তৎপরতা দেখালেও বাস্তব অবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মধ্যেও অবৈধ অস্ত্রের অবাধ বিচরণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। জনমনে ফেলছে শঙ্কার ছায়া।

স্ত্রের এ মহড়ার দ্রুত লাগাম টানা না গেলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে, যা একদিকে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা যেমন বাড়াবে, সরকারের জন্যও তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠতে পারে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুনের ঘটনায়ও অপরাধীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, যা আসন্ন দিনগুলোতে এই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু ভোটারদেরই নয়—নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রার্থীদেরও আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে—মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের বহু থানা থেকে অস্ত্র লুট করা হয়েছে। সেসব অস্ত্র কী পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নতুন করে দেশের বাইরে থেকেও অস্ত্র ঢুকছে বলে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না—রয়েছে এ সংশয়ও।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।—ডিএমপির তথ্য

তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর ক্যাম্প কমান্ডার কে এ এম মামুন খান চিশতী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশে অস্ত্র মজুতের গোপন সংবাদ জানতে পারে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচটি গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২।

গত ৬ জানুয়ারি ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার আরমান কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে অত্যাধুনিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল।

গত বছরের ২৭ মে ভোরে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে সুব্রত বাইনের অন্য দুই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড অ্যামোনিশন এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮৮টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৯ জনকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী থানা লুটের ঘটনায় ৬৪১টি অস্ত্র এখনো পুলিশের হাতছাড়া।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থানা থেকে লুট হওয়া এই অস্ত্রগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহার করা ৬৪১টি বৈধ অস্ত্রের হিসাবের বাইরে রাজধানীসহ সারাদেশে এ মুহূর্তে কী পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই পুলিশের হাতে।

দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না আমি তা বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সেনাবাহিনী, পুলিশ বা র‌্যাবের অভিযানেই শুধু নয়—দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও অস্ত্র উদ্ধার এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ঘটছে খুনের ঘটনা।

হরহামেশা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পরই গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান।

হাদিকে গুলির ঘটনার মাত্র একদিন আগেই ১১ ডিসেম্বর দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে আবদুর রহমান ভূঁইয়া (৫৫) নামের এক মসলা ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীতে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ঢুকে মুখোশ ও হেলমেট পরা সন্ত্রাসীরা পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। ১২ নভেম্বর মধ্য বাড্ডার কমিশনার গলির একটি দোতলা টিনশেড বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন মামুন শিকদার (৩৯) নামের এক ব্যক্তি।

বিদায়ী বছরের শুরুর দিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে সোনা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে (৪৩) ফিল্মি স্টাইলে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে প্রায় ১৬০ ভরি সোনা ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

গত ২৫ মে রাতে বাড্ডা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দোকানের সামনে বসে চা পান করছিলেন বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন। হঠাৎ দুজন লোক তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। পরে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।—আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য

গত বছরের ১১ নভেম্বর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারেক সাইদ মামুনকে। চারদিন পরই ১৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম লতিফপুর এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নতুন বছরের শুরুতেই গত ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে (৫৫) মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর দুদিন পর ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরের বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৩৮) ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি

অভ্যুত্থান-পরবর্তীকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থানার অস্ত্র লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী আমাদের ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’

পুলিশের ব্যবহৃত লুণ্ঠিত অস্ত্র ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এগুলোর সঠিক তথ্য অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না।

অস্ত্র জমা দিতে সরকারের নির্দেশনা ও পুরস্কার ঘোষণা

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০, মার্চে ৩১৬, এপ্রিলে ৩৩৬, মে মাসে ৩৪১, জুনে ৩৪৪, জুলাইয়ে ৩৬২, আগস্টে ৩২১, সেপ্টেম্বরে ২৯৭, অক্টোবরে ৩১৯ ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৭৯টি। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।—পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য

গত ৬ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পুরস্কারের পরিমাণ জানিয়ে তিনি বলেন, এলএমজিতে পাঁচ লাখ, এসএমজিতে দেড় লাখ, চায়না রাইফেলে এক লাখ এবং পিস্তল ও শটগানে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। প্রতি রাউন্ড গুলির জন্যও পুরস্কার থাকছে ৫০০ টাকা।

লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাকে কাছের থানায় যোগাযোগ করতে বলেছে পুলিশ

নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত ২৯ ডিসেম্বর জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

‘দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’—সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে। প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবেন। শঙ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন কোনো শঙ্কা নেই।

প্রশাসনেও শঙ্কার ছাপ

অবৈধ অস্ত্র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বা কোনো আশঙ্কা আছে কি না—জানতে চাইলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, দেশে অবৈধ অস্ত্র কী পরিমাণ আছে সেটা তো বলা মুশকিল। আমাদের যদি জানা থাকতো যে এখানে ১০০টি অবৈধ অস্ত্র আছে তাহলে সেই অস্ত্রগুলো রিকোভারি করতাম। শুধু নির্বাচন নয়, যে কোনো সময় অবৈধ অস্ত্র দেশের জন্য অবশ্যই একটা থ্রেট। তবে নির্বাচনে মনে হয় না এটির খুব বেশি প্রভাব পড়বে।

র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গত তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা ১৮৮টি দেশি ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করি। এ সংক্রান্ত ৭৯ জনকে গ্রেফতার করি। এই তিন মাসে আমরা হত্যা মামলার ৫২২ জন আসামিকে গ্রেফতার করি। এছাড়া ডাকাতি মামলার ১৫১ জন, ছিনতাইবিরোধী অভিযানে ৭০ জন, মানবপাচারকারী ৪১ জন এবং মাদক মামলায় এক হাজার ২১০ জনকে গ্রেফতার করি। তিন মাসে আমরা মোট চার হাজার ৩৬৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’

অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। মামলা নিয়ে এমন প্রতিযোগিতা চললে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে—এটিই স্বাভাবিক।—অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক

নির্বাচন সামনে রেখে র‌্যাবের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের যে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবো।’

‘আমাদের নয় হাজারের কাছাকাছি জনবল রয়েছে। এ নিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবো। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার থাকবে। স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ডিউটি হিসেবে বিজিবি এবং সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে’—যোগ করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক।

রাজনৈতিক সহিংসতায় অবৈধ অস্ত্র

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।

হত্যা মামলার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৯৭টি খুনের মামলা হয়। অক্টোবরে এ সংখ্যা ছিল ৩২০। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খুনের মামলা বাড়ে ২৩টি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে খুনের মামলা হয়েছিল ৩৯৯টি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের খুনের মামলা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকায় ২২টি ও গাজীপুরে ১১টি খুনের মামলা হয়। তবে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এ সংখ্যা ছিল ২৫টি ও গাজীপুরে তিনটি। পুলিশ রেঞ্জগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকা রেঞ্জে ৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চট্টগ্রাম রেঞ্জে সেপ্টেম্বরে ৫৫টি হত্যা মামলা হলেও অক্টোবরে তা বেড়ে হয় ৫৯টি। এসময়ে খুলনা রেঞ্জে ৩৪টি ও রাজশাহী রেঞ্জে হত্যা মামলা হয় ৪১টি।

খুনের ঘটনায় ১১ মাসে যত মামলা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, মার্চে ৩১৬টি, এপ্রিলে ৩৩৬টি, মে মাসে ৩৪১টি, জুনে ৩৪৪টি, জুলাইয়ে ৩৬২টি, আগস্টে ৩২১টি, সেপ্টেম্বরে ২৯৭টি, অক্টোবরে ৩১৯টি ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় ২৭৯টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।

২০২৪ সালের একই সময়ে (জানুয়ারি থেকে নভেম্বর) খুনের মামলা হয়েছিল তিন হাজার ২২৮টি।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, তফসিলের আগে চট্টগ্রামে একজন প্রার্থীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, তফসিলের একদিন পর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদির ওপর যে আক্রমণ—সন্দেহ নেই এসব ঘটনা প্রার্থীদের আতঙ্কে রাখবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করবে এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভোটারদের এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রাখবে। কারণ, মানুষের ভোটাধিকারের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। চট্টগ্রামে প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনার পরই যদি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালোভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতো তবে এখনকার পরিস্থিতি হয়তো দেখতে হতো না।

এ অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং তাদের হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। কোনো হামলা, আক্রমণ বা অপরাধ নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলে তখন অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক।

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে’—যোগ করেন ড. তৌহিদুল হক।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা জাগো নিউজকে বলেন, সবার কাছে তো অস্ত্র থাকে না। অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্যগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোগাড় করতে পারে তবে সেগুলো উদ্ধার করা সহজ হয়। এজন্য জনসাধারণের সাহায্য দরকার।

‘এর চেয়েও অতীতে আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। টেনশনের কোনো কারণ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকতে হয়। অবৈধ অস্ত্রগুলো নির্বাচনের আগে দ্রুত উদ্ধার করা দরকার। অস্ত্র উদ্ধারের নানান পথ আছে। সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অ্যাপ্লাই করতে হবে’—বলেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান।