শেয়ার বাজার

জয়পুরহাটে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

জয়পুরহাটে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পণ্যের যথাযথ মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করা, অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করায় এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার সকালে শহরের নতুনহাটে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল বাইন।

তিনি জানান, রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের বাজারদর ঠিক রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

দোকানে পণ্যের মূল্যতালিকা, বাড়তি দাম রাখা ও ভেজাল পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে কি না এসব দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, রমজান মাসে ভোক্তাদের চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে চান। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

Dummy Ad 1

শিশু অপহরণ
স্বামী-স্ত্রী মিলে গড়ে তোলেন দুর্ধর্ষ চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৪

স্বামী-স্ত্রী মিলে গড়ে তোলেন দুর্ধর্ষ চক্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শিমরাইল সাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল ওরফে উজ্জ্বল ওরফে জুয়েল রানা (৩১)। তার স্ত্রী প্রমি আক্তার (২৫)। স্বামী-স্ত্রী মিলে গড়ে তুলেছেন শিশু অপহরণ চক্র। এই দম্পতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট বাসায় সাবলেট ভাড়া নিয়ে কৌশলে বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে শিশু অপহরণ করে আসছিলেন।

২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় একই কৌশলে মাদরাসা পড়ুয়া এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিম এই দুর্ধর্ষ অপহরণকারী দম্পতির সন্ধান পায়। শেষরক্ষাও হয়নি তাদের। প্রায় তিন মাসের চেষ্টায় গোয়েন্দা পুলিশের কৌশলের কাছে হার মেনে তারা দুজনেই গ্রেফতার হয়েছেন।

প্রথমে প্রমি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। আর সর্বশেষ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অভিযান চালিয়ে মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করা হয়। প্রমি গ্রেফতারের দুই মাস পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হন মোস্তফা কামাল।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, স্বামী-স্ত্রীর এই অপহরণকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। তাদের অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পরিবারের সদস্যরা।

গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদ হাসান বলেন, অপহরণ চক্রের মাস্টারমাইন্ড মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী প্রমি মিলে দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ করে আসছে। তারা বিভিন্নভাবে মানুষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে আবার কখনো ফ্ল্যাট বাসায় সাবলেট হিসেবে উঠে টার্গেটকৃত শিশুদের অপহরণ করে। এমনকি তাদের অপহরণের তালিকায় পরিবারের সদস্যরাও আছে। এছাড়াও মোস্তফার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগও রয়েছে।

মিরপুরের পল্লবী এলাকার বায়তুল রাসুল (সা.) মাদরাসার শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নামের ৯ বছরের এক শিশুকে অপহরণের ঘটনার দীর্ঘ তিন মাস পর গ্রেফতার হয় তারা।

ইয়াসিনকে অপহরণের ঘটনার বিষয়ে এডিসি রাশেদ বলেন, মিরপুরে পল্লবী থানার সেকশন ৭ নম্বর এলাকায় ইয়াসিনের পরিবার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকে। এই ঘটনার পাঁচ মাস আগে মোস্তফা ও প্রমি সাবলেট ভাড়ায় ওঠে। তারা আগে থেকে টার্গেট করে বাসা ভাড়া নেয়। এই সময়ে পরিবারটির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে অপহরণ পরিকল্পনা সাজায়। গত বছরের ২৮ নভেম্বর খেলনা কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশু ইয়াসিনকে অপহরণ করে। এরপর রাজধানীর ভাটারা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থান পরিবর্তন করে। অপহরণের পুরো প্রক্রিয়ায় মোস্তফাকে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী প্রমি।

অপহরণের পর তারা ভাটারা এলাকার একটি বস্তিতে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলো। এই সময়ে নানা কৌশলে শিশুটিকে তাদের সঙ্গে রাখে। অন্যদিকে শিশু ইয়াসিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হুমকি-ধমকি দিয়ে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা আদায় করে। তবে টাকা আদায় করলেও শিশু ইয়াসিনকে ফেরত দেয়নি অপহরণকারীরা।

এক প্রশ্নের জবাবে এডিসি রাশেদ হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকে অপহরণকারীদের গ্রেফতার করতে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে বারবার স্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেফতার করতে বেগ পেতে হচ্ছিলো। এমনকি গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে রাস্তায় শিশুটিকে ফেলে পালিয়ে যায় অপহরণকারী। তবে শিশুটিকে উদ্ধার করলেও আমরা থামিনি। দীর্ঘদিন এই চক্রের পেছনে লেগে ছিলাম। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছি। বেশ কয়েকবার আমাদের ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

শিশু অপহরণকারী মোস্তফাকে ধরতে যত অভিযান:

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানার নর্দার নাসিরটেক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সটকে পড়ে মোস্তফা কামাল। পরে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে পালানোর সময়ে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী টোল প্লাজায় অভিযান চালানো হয়। তখনও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে যাত্রা বাতিল করে। গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ১১ ডিসেম্বর ভাটার থানার ছোলমাইদ এলাকায় অভিযান চালায়। সেবার মোস্তফার স্ত্রী প্রমি গ্রেফতার হলেও পালাতে সক্ষম হয় মোস্তফা। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার শিমরাইল সাতপাড়া এলাকায় ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়।

মোস্তাফার বরাত দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি রাশেদ বলেন, প্রযুক্তিগত নানা বিষয়ে দক্ষ মোস্তফা একটি ফোন ও সিম একবারের বেশি ব্যবহার করে না। আর বারবার স্থান পরিবর্তন করে। ফলে অপহরণের পর তাকে গ্রেফতারে বারবার অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হতে হয়েছে। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিম উদ্ধার করা হয়েছে। যার সবই বেনামি। এছাড়া তাদের দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রও ভুয়া। সার্ভারে না থাকলেও তারা অন্যের তথ্য ব্যবহার করে কম্পিউটারের দোকান থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে ব্যবহার করে আসছিল।

তিনি জানান, শিশু ইয়াসিনকে অপহরণের পর তারা শিশুটিকে নিয়ে কমলাপুর এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় রাস্তায় অবস্থান করেছে। পরে ভাটারা এলাকার একটি বস্তিতে বাসা ভাড়া নেয়। যদিও তারা একটি বাসায় বেশিদিন অবস্থান করত না।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. কামাল চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আ’লীগসহ অঙ্গ সংঘঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. কামাল চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আ’লীগসহ অঙ্গ সংঘঠন

বার্তাবেলা: সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা, চৌদ্দগ্রামের কৃতিসন্তান ড. কামাল আবদুল নাছের চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ। 

১৪ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও ঢাকা জেলা আওয়ামী’লীগ কার্যালয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী’লীগরে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু এবং উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবিএম এ বাহারের নেতৃত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বাবুল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা আবু তাহের, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন,উপজেলা আওয়ামী’লীগরে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ভিপি ফারুক আহমেদ মিয়াজী, সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, এনামুল হক খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কামরুল আলম মোল্লা, উপজেলা আ’লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক আলমগীর হোসেন বিপ্লব,বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম, আ’লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন মজুমদার, কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য এমরানুল হক কামাল, ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি মাহবুব হোসেন মজুমদার, জানে আলম, কাজী ফখরুল আলম ফরহাদ, মাঈন উদ্দিন, আবু তাহের, গোলাম মোস্তফা, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মহিন উদ্দিন, জেলা যুবলীগ নেতা মাহবুবুল হক মোল্লা বাবলু, পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, কাজী বাবুল, সাইফুল ইসলাম শাহিন, মফিজুর রহমান, কামাল হোসেন, শরিফ ইমাম, মিজানুর রহমান, উপজেলা যুবলীগ নেতা মহিন উদ্দিন স্বপন, মাছুম বিল্লাহ প্রমুখ।

এসময় নেতৃবৃন্দ চৌদ্দগ্রামের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের পক্ষ থেকে প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাছের চৌধুরীকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অভিনন্দন জানান।


ডিজিটাল ভূমি জরিপ কিভাবে হবে? পুরনো জরিপ বাতিলের অর্থ কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ডিজিটাল ভূমি জরিপ কিভাবে হবে? পুরনো জরিপ বাতিলের অর্থ কী?

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল জরিপ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সংসদে মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ডিজিটাল জরিপ কার্যকর হলে পুরনো জরিপ বাতিল হয়ে যাবে। এই ডিজিটাল জরিপ কিভাবে হবে? তাছাড়া পুরনো জরিপ বাতিল হয়ে যাবার অর্থ কী?

ভূমিমন্ত্রী দাবি করছেন, ডিজিটাল জরিপ কার্যকর হলে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা কমে আসবে। ফলে ভূমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা ও হয়রানিও কমবে। ডিজিটাল পদ্ধতি বা ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভূমির জরিপ পরিচালনাকে ডিজিটাল সার্ভে বলা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে খুব সহজেই জমি পরিমাপ করা যাবে এবং একই সাথে জমির মালিকানা ও মাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এই অঞ্চলে প্রথম ভূমি জরিপ শুরু হয়েছিল ১৮৮৮ সালে কক্সবাজার জেলার রামু থেকে। ওই জরিপের নামকরণ করা হয় সিএস জরিপ। এই জরিপ শেষ হয় ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায়। এরপর ধাপে ধাপে আরএস, এসএ, পিএস এবং সবশেষ বিএস জরিপ সম্পন্ন হয়। পুরনো পদ্ধতির জরিপে ফিতা টেনে দিয়ে জমির মাপ নিয়ে ম্যাপ তৈরি করা হতো।বেশ কয়েকটি জরিপ পরিচালনার পরও ভূমির জটিলতা কাটেনি।

মঙ্গলবার সংসদে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৩’ পাশের আলোচনায় অংশ নিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সার্ভে পর্যায়ক্রমে হবে, এগুলো আসবে। আর ইতোমধ্যে যে সমস্ত জরিপ হয়েছে সব বাতিল। এটা আমি সংসদে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করতে চাই।’ ফলে চলমান বিএস জরিপ যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাতেই বাতিল হবে কী-না সে বিষয়টি মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়নি। তবে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, যখন কোন জমির ডিজিটাল জরিপ সম্পন্ন হবে, তখন আগের জরিপ বাতিল হয়ে যাবে। ডিজিটাল জরিপ হওয়ার আগ পর্যন্ত যে জরিপ চলেছে সেটা বহাল থাকবে।

ইতোমধ্যে পটুয়াখালী ও বরগুনাতে ডিজিটাল জরিপের পাইলট প্রোগ্রাম চলছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ধামরাইয়ে এই ডিজিটাল জরিপের কাজ চলছে বলে অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সফল হলে এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে সারা দেশে ডিজিটাল জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা দেশে ডিজিটাল জরিপের সক্ষমতা অর্জনে গত বছর এক হাজার তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদি ডিজিটাল সার্ভের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত জমির মানচিত্র ও রেকর্ড সমন্বয় করা হবে। এতে ভূমি মালিক ওয়েবসাইটে গেলে ম্যাপ ও খতিয়ান দুটি একসাথে পেয়ে যাবেন। এজন্য ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হচ্ছে। সকল ডাটা ক্লাউড বেইজ সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে। জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন উড়িয়ে জমির পূর্ণ ছবি ধারণ করা হবে। স্যাটেলাইট ইমেজিং-এর মাধ্যমে জমির অবস্থান ও মাপ নিশ্চিত করা হবে।

স্যাটেলাইট ইমেজ কিনে সেটা মৌজা ম্যাপের সাথে সমন্বয় করে ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। এর ফলে কৃষিজমি, জলাভূমি, পাহাড় ও বনভূমি রক্ষাসহ জমির পরিকল্পিত ব্যবহার করাও সম্ভব হবে। এছাড়া ইটিএস এর মাধ্যমে জমির নির্ভুল পরিমাপ করতে বা প্লট ভাগ করা হবে। প্লট টু প্লট জরিপ সম্পন্ন হলে সরকারি ও বেসরকারি মালিকানার তথ্যটি সহজেই জানা যাবে।এ ধরণের জরিপে জমির পরিমাণ, জমির আইলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, আকার ইত্যাদির পুঙ্খানুপুঙ্খ মাপ সম্পর্কে জানা যাবে এবং পরিমাপে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। জরিপ অধিদপ্তর বলছে, একবার ডিজিটাল জরিপ সম্পন্ন হলে প্রাকৃতিক কারণে বড় ধরনের ভূমির বিচ্যুতি ছাড়া মাঠে গিয়ে বার বার জরিপ করার প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে অনলাইনে মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান একসাথে পাওয়া যাবে।

ভূমি জরিপ অধিদপ্তর আশা করছে এতে ভূমি ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন হবে, আদালতের মামলা কমবে, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভূমি জরিপ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত কোন এলাকায় ডিজিটাল জরিপ শুরু করার আগে সেখানকার পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে না হলে মাইকিং করে এ বিষয়ে প্রচার প্রচারণা চালানো হয় এবং ব্যাপক জনসংযোগ করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত সেখানকার জমির মালিকদের জানানো হয়। তারা যে নিজ নিজ জমির সীমানা চিহ্নিত করেন এবং জমির মালিকানার কাগজপত্র যেমন - দলিল, নামজারি ও খাজনা পরিশোধ কাগজপত্র হালনাগাদ অবস্থায় কাছে রাখেন। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির জমির তথ্য যাচাই বাছাই করা হবে। কোন সমস্যা না থাকলে মালিকানার তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি করা হবে। পুরনো পদ্ধতির জরিপে দেখা যেতো একটি খতিয়ানের একাধিক মালিক রয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেই সুযোগ আর থাকছে না।