শেয়ার বাজার

তীব্র বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সশস্ত্র ফেডারেল বাহিনী দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নেতারা।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তিনি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। নিহত ব্যক্তির বাবা-মা তাকে অ্যালেক্স প্রেট্টি হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তিনি একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টসহ (আইসিই) বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অভিযানের মধ্যেই এই গুলির ঘটনা ঘটে।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড নামে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই শহরটিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছিল। গত সপ্তাহে আলাদা আরেক ঘটনায় মিনিয়াপোলিসে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিকও ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আহত হন।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেন্ট পল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিষয়টি বহু আগেই কেবল অভিবাসন প্রয়োগের সীমা ছাড়িয়েছে। তার কথায়, এটি এখন অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নিষ্ঠুরতার এক অভিযান। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মিনেসোটা কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, একজন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেন। ওই ব্যক্তি একটি হ্যান্ডগান বহন করছিলেন এবং অস্ত্র নামাতে বাধা দিচ্ছিলেন। বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সহিংসভাবে প্রতিরোধ করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেকে আক্রমণ করে বলেন, তারা উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহে প্ররোচনা দিচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, আইসিই কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে স্থানীয় পুলিশকে কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নের জবাব দেওয়া দরকার।

আসলে কী ঘটেছিল?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যালেক্স প্রেট্টি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইল ফোনে ফেডারেল এজেন্টদের ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে এক এজেন্ট পিপার স্প্রে ব্যবহার করলে প্রেট্টি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করেন। এরপর একাধিক এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকে। মাটিতে ধরে রাখার সময় এক এজেন্ট অস্ত্র বের করেন এবং একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে প্রেট্টির নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তদন্তকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রথম গুলির আগে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের দাবি, অন্তত দুইজন এজেন্ট গুলি চালান এবং মোট ১০টির বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। বেশিরভাগ গুলিই প্রেট্টি মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকার সময় ছোড়া হয়।

পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিনেসোটায় অনুমতি থাকলে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা আইনসম্মত।

তীব্র হয়েছে বিক্ষোভে

ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসের ওই এলাকায় কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল এজেন্টদের লক্ষ্য করে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এজেন্টরা কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করেন।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, ছয়জনের বেশি মুখোশধারী এজেন্ট একজন বাসিন্দাকে মারধর করে গুলি করে হত্যা করেছেন—এমন ভিডিও তিনি নিজেই দেখেছেন। তার প্রশ্ন, আর কতজন মার্কিন নাগরিকের প্রাণ গেলে এই অভিযান বন্ধ হবে?

ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে এখনই মিনেসোটা থেকে আইসিই প্রত্যাহার করতে হবে। কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এই হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, ট্রাম্প মিনিয়াপোলিসকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছেন।

ঘটনার পর গভর্নর টিম ওয়ালজ জানান, তিনি হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

Dummy Ad 1

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর কেটে গেছে দুই সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যেই দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতার ভেতরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের অনুগতদের বসাচ্ছেন, যাতে অভ্যন্তরীণ হুমকি মোকাবিলা করা যায় এবং একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের চাপ অনুযায়ী তেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়।

৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ আগে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সামরিক পাল্টা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিসিআইএমের নতুন প্রধানও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন কিউবার সহায়তায় গড়ে ওঠা এই সংস্থাটি ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ভয়ংকর নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে পরিচিত।

মেজর জেনারেল গুস্তাভো গনসালেসকে ডিজিসিআইএমের প্রধান করা হয়েছে। সরকারের ভেতরের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, রদ্রিগেজের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় হুমকি—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর প্রভাব মোকাবিলায় এটি ছিল তার প্রথম কৌশলগত পদক্ষেপ। কাবেলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও কুখ্যাত মোটরসাইকেল গ্যাং ‘কোলেকতিভো’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিরোধী সমর্থকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারঘনিষ্ঠ এক সূত্রের ভাষ্য, ‘তিনি (রদ্রিগেজ) স্পষ্টভাবে জানেন, মার্কিনিদের সম্মতি ছাড়া তার টিকে থাকা সম্ভব নয়। সে কারণেই তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কার শুরু করেছেন, পুরোনো লোক সরিয়ে নতুনদের বসাচ্ছেন।’

ভেনেজুয়েলার সাতজন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের সঙ্গে রয়টার্সের নেওয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিশোধের আশঙ্কায় সবাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বড় ভাষণে পার্লামেন্টে জাতীয় বার্ষিক ভাষণ দেন রদ্রিগেজ। সেখানে তিনি ঐক্যের আহ্বান জানান, নিজেকে মাদুরোর বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেন এবং তেলখাতে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজনীতিতে ‘নতুন অধ্যায়ের’ প্রতিশ্রুতি দেন।

ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজ রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তাকে ওয়াশিংটনে দেখবেন বলে আশা করছেন।

অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে ‘দ্য সারিনা’ নামে পরিচিত রদ্রিগেজ দেশের বেসামরিক ক্ষমতার বড় অংশ, বিশেষ করে তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও পাচ্ছেন। এই সমর্থনের বার্তা আরও স্পষ্ট হয় যখন তিনি কারাকাসে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অন্যদিকে, কাবেলো নেতৃত্বাধীন আরেকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক দল পিএসইউভির প্রধান কাবেলো সাবেক সেনা কর্মকর্তা। মাদুরো বন্দি হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতিতে তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে সশস্ত্র প্রহরীদের ঘিরে ধরে টেলিভিশনে হাজির হন এবং স্লোগান দেন—‘সন্দেহ মানেই বিশ্বাসঘাতকতা।’

রয়টার্স জানিয়েছে, মাদুরো বন্দি হওয়ার আগে এবং পরে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী বা কোলেক্তিভো ব্যবহার না করতে তাকে সতর্ক করেন।

যদিও প্রকাশ্যে কাবেলো ও রদ্রিগেজ নিজেদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ বলে দাবি করছেন, সরকারের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, রদ্রিগেজের শাসনক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখনো কাবেলোই।

মাদুরো বন্দি হওয়ার পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। কোথাও কোথাও দলীয় কর্মীদের প্রতিবেশীদের ওপর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যারা মাদুরোর পতনে আনন্দ প্রকাশ করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই অস্থির পরিস্থিতিতে রদ্রিগেজকে একদিকে দলীয় সমর্থকদের বোঝাতে হচ্ছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’ নন, অন্যদিকে ভেঙে পড়া অর্থনীতি সামাল দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েক দশকের শাসনে গড়ে ওঠা সামরিক ও ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতা নেটওয়ার্কের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলায় প্রকৃত রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটাতে হলে শেষ পর্যন্ত দিয়োসদাদো কাবেলোর ভাগ্য নির্ধারণ অনিবার্য হয়ে উঠবে।


অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৪

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

অবশেষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলো। সোমবার (২৫ মার্চ) পাস হওয়া এই প্রস্তাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হামাসের হাত থাকা জিম্মিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির শর্ত রাখা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রস্তাবে  ভোটদানে বিরত ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিরাপত্তা পরিষদের বাকি ১৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়।

এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাব অবশ্যই বাস্তবায়ন হতে হবে। যদি কোনো পক্ষ এই যুদ্ধবিরতি ও এর শর্তগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা হবে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল।

এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়নি। সেদিন মস্কোর অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি ইসরায়েলের ওপর কোনো চাপ তৈরি করছে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১১ দেশ। বিপক্ষে দেয় তিন দেশ। আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে একটি দেশ।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছিলেন, এই খসড়াটি অত্যন্ত রাজনীতিকরণ করা হয়েছে ও এতে রাফায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কার্যকর সবুজ সংকেত রয়েছে।


হামাসের যুদ্ধ বন্ধের
হামাসের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

হামাসের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

বার্তাবেলা ডেস্ক: হামাসের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি ও গাজার শাসনভার হামাসের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ করাসহ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার হামাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

রোববার (২১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে হামাস যুদ্ধ বন্ধ করা, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা ও সব খুনি-ধর্ষকদের মুক্তি দাবি করছে। তাদের এই শর্ত মেনে নেওয়া মানে, হামাসকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ও ইসরাইলের সেনাবাহিনীকে অকার্যকর প্রমাণ করা।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

তিনি আরও বলেন, হামাসের ‘আত্মসমর্পণের’ এই পরিভাষা আমি পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এই শর্ত মানলে আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবো না। ঘরছাড়া মানুষদের তাদের ঘরে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারবো না এবং আরেকটি ৭ অক্টোবর কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

আবার গত বৃহস্পতিবারের (১৮ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতেই থাকতে হবে। আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে তিনি বলেছিলেন, এমন রাষ্ট্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হবে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। তার আওতায় হামাসের হাতে ইসরায়েল থেকে ধরে এনে গাজায় জিম্মি করা ২৪০ জনের মধ্য থেকে ১০০ জনেরও বেশি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ইসরায়েলের জেলে বন্দি থাকা ২৪০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাকি ১৩৬ জিম্মির মুক্তির জন্য নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। তাদের স্বজনরা নেতানিয়াহুর বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ করে মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা চান, তাদের স্বজনরা দ্রুতই বাড়িতে ফিরে আসুক। এমনকি, জিম্মিদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য একটি চুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে সমস্যার সমাধান করার প্রশ্নেও নমনীয় না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর। অন্যদিকে, তার ডানপন্থী জোটের ক্ষমতাসীন নেতারা গাজায় যুদ্ধের মাত্রা বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাপক চাপের মধ্যে আছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী