শেয়ার বাজার

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে দেশে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি তত বাড়ছে। জনমনে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তৈরি হচ্ছে ভীতির পরিবেশ। প্রায় প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের তৎপরতার খবর সামনে আসায় নির্বাচনকেন্দ্রিক জননিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে সামনে আসছে।

নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথারীতি তৎপরতা দেখালেও বাস্তব অবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মধ্যেও অবৈধ অস্ত্রের অবাধ বিচরণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। জনমনে ফেলছে শঙ্কার ছায়া।

স্ত্রের এ মহড়ার দ্রুত লাগাম টানা না গেলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে, যা একদিকে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা যেমন বাড়াবে, সরকারের জন্যও তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠতে পারে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুনের ঘটনায়ও অপরাধীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, যা আসন্ন দিনগুলোতে এই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু ভোটারদেরই নয়—নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রার্থীদেরও আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে—মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের বহু থানা থেকে অস্ত্র লুট করা হয়েছে। সেসব অস্ত্র কী পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নতুন করে দেশের বাইরে থেকেও অস্ত্র ঢুকছে বলে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না—রয়েছে এ সংশয়ও।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।—ডিএমপির তথ্য

তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর ক্যাম্প কমান্ডার কে এ এম মামুন খান চিশতী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশে অস্ত্র মজুতের গোপন সংবাদ জানতে পারে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচটি গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২।

গত ৬ জানুয়ারি ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার আরমান কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে অত্যাধুনিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল।

গত বছরের ২৭ মে ভোরে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে সুব্রত বাইনের অন্য দুই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড অ্যামোনিশন এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮৮টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৯ জনকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী থানা লুটের ঘটনায় ৬৪১টি অস্ত্র এখনো পুলিশের হাতছাড়া।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থানা থেকে লুট হওয়া এই অস্ত্রগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহার করা ৬৪১টি বৈধ অস্ত্রের হিসাবের বাইরে রাজধানীসহ সারাদেশে এ মুহূর্তে কী পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই পুলিশের হাতে।

দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না আমি তা বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সেনাবাহিনী, পুলিশ বা র‌্যাবের অভিযানেই শুধু নয়—দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও অস্ত্র উদ্ধার এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ঘটছে খুনের ঘটনা।

হরহামেশা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পরই গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান।

হাদিকে গুলির ঘটনার মাত্র একদিন আগেই ১১ ডিসেম্বর দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে আবদুর রহমান ভূঁইয়া (৫৫) নামের এক মসলা ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীতে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ঢুকে মুখোশ ও হেলমেট পরা সন্ত্রাসীরা পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। ১২ নভেম্বর মধ্য বাড্ডার কমিশনার গলির একটি দোতলা টিনশেড বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন মামুন শিকদার (৩৯) নামের এক ব্যক্তি।

বিদায়ী বছরের শুরুর দিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে সোনা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে (৪৩) ফিল্মি স্টাইলে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে প্রায় ১৬০ ভরি সোনা ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

গত ২৫ মে রাতে বাড্ডা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দোকানের সামনে বসে চা পান করছিলেন বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন। হঠাৎ দুজন লোক তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। পরে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।—আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য

গত বছরের ১১ নভেম্বর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারেক সাইদ মামুনকে। চারদিন পরই ১৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম লতিফপুর এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নতুন বছরের শুরুতেই গত ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে (৫৫) মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর দুদিন পর ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরের বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৩৮) ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি

অভ্যুত্থান-পরবর্তীকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থানার অস্ত্র লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী আমাদের ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’

পুলিশের ব্যবহৃত লুণ্ঠিত অস্ত্র ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এগুলোর সঠিক তথ্য অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না।

অস্ত্র জমা দিতে সরকারের নির্দেশনা ও পুরস্কার ঘোষণা

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০, মার্চে ৩১৬, এপ্রিলে ৩৩৬, মে মাসে ৩৪১, জুনে ৩৪৪, জুলাইয়ে ৩৬২, আগস্টে ৩২১, সেপ্টেম্বরে ২৯৭, অক্টোবরে ৩১৯ ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৭৯টি। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।—পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য

গত ৬ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পুরস্কারের পরিমাণ জানিয়ে তিনি বলেন, এলএমজিতে পাঁচ লাখ, এসএমজিতে দেড় লাখ, চায়না রাইফেলে এক লাখ এবং পিস্তল ও শটগানে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। প্রতি রাউন্ড গুলির জন্যও পুরস্কার থাকছে ৫০০ টাকা।

লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাকে কাছের থানায় যোগাযোগ করতে বলেছে পুলিশ

নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত ২৯ ডিসেম্বর জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

‘দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’—সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে। প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবেন। শঙ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন কোনো শঙ্কা নেই।

প্রশাসনেও শঙ্কার ছাপ

অবৈধ অস্ত্র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বা কোনো আশঙ্কা আছে কি না—জানতে চাইলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, দেশে অবৈধ অস্ত্র কী পরিমাণ আছে সেটা তো বলা মুশকিল। আমাদের যদি জানা থাকতো যে এখানে ১০০টি অবৈধ অস্ত্র আছে তাহলে সেই অস্ত্রগুলো রিকোভারি করতাম। শুধু নির্বাচন নয়, যে কোনো সময় অবৈধ অস্ত্র দেশের জন্য অবশ্যই একটা থ্রেট। তবে নির্বাচনে মনে হয় না এটির খুব বেশি প্রভাব পড়বে।

র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গত তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা ১৮৮টি দেশি ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করি। এ সংক্রান্ত ৭৯ জনকে গ্রেফতার করি। এই তিন মাসে আমরা হত্যা মামলার ৫২২ জন আসামিকে গ্রেফতার করি। এছাড়া ডাকাতি মামলার ১৫১ জন, ছিনতাইবিরোধী অভিযানে ৭০ জন, মানবপাচারকারী ৪১ জন এবং মাদক মামলায় এক হাজার ২১০ জনকে গ্রেফতার করি। তিন মাসে আমরা মোট চার হাজার ৩৬৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’

অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। মামলা নিয়ে এমন প্রতিযোগিতা চললে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে—এটিই স্বাভাবিক।—অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক

নির্বাচন সামনে রেখে র‌্যাবের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের যে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবো।’

‘আমাদের নয় হাজারের কাছাকাছি জনবল রয়েছে। এ নিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবো। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার থাকবে। স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ডিউটি হিসেবে বিজিবি এবং সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে’—যোগ করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক।

রাজনৈতিক সহিংসতায় অবৈধ অস্ত্র

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।

হত্যা মামলার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৯৭টি খুনের মামলা হয়। অক্টোবরে এ সংখ্যা ছিল ৩২০। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খুনের মামলা বাড়ে ২৩টি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে খুনের মামলা হয়েছিল ৩৯৯টি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের খুনের মামলা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকায় ২২টি ও গাজীপুরে ১১টি খুনের মামলা হয়। তবে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এ সংখ্যা ছিল ২৫টি ও গাজীপুরে তিনটি। পুলিশ রেঞ্জগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকা রেঞ্জে ৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চট্টগ্রাম রেঞ্জে সেপ্টেম্বরে ৫৫টি হত্যা মামলা হলেও অক্টোবরে তা বেড়ে হয় ৫৯টি। এসময়ে খুলনা রেঞ্জে ৩৪টি ও রাজশাহী রেঞ্জে হত্যা মামলা হয় ৪১টি।

খুনের ঘটনায় ১১ মাসে যত মামলা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, মার্চে ৩১৬টি, এপ্রিলে ৩৩৬টি, মে মাসে ৩৪১টি, জুনে ৩৪৪টি, জুলাইয়ে ৩৬২টি, আগস্টে ৩২১টি, সেপ্টেম্বরে ২৯৭টি, অক্টোবরে ৩১৯টি ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় ২৭৯টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।

২০২৪ সালের একই সময়ে (জানুয়ারি থেকে নভেম্বর) খুনের মামলা হয়েছিল তিন হাজার ২২৮টি।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, তফসিলের আগে চট্টগ্রামে একজন প্রার্থীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, তফসিলের একদিন পর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদির ওপর যে আক্রমণ—সন্দেহ নেই এসব ঘটনা প্রার্থীদের আতঙ্কে রাখবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করবে এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভোটারদের এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রাখবে। কারণ, মানুষের ভোটাধিকারের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। চট্টগ্রামে প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনার পরই যদি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালোভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতো তবে এখনকার পরিস্থিতি হয়তো দেখতে হতো না।

এ অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং তাদের হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। কোনো হামলা, আক্রমণ বা অপরাধ নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলে তখন অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক।

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে’—যোগ করেন ড. তৌহিদুল হক।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা জাগো নিউজকে বলেন, সবার কাছে তো অস্ত্র থাকে না। অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্যগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোগাড় করতে পারে তবে সেগুলো উদ্ধার করা সহজ হয়। এজন্য জনসাধারণের সাহায্য দরকার।

‘এর চেয়েও অতীতে আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। টেনশনের কোনো কারণ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকতে হয়। অবৈধ অস্ত্রগুলো নির্বাচনের আগে দ্রুত উদ্ধার করা দরকার। অস্ত্র উদ্ধারের নানান পথ আছে। সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অ্যাপ্লাই করতে হবে’—বলেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান।


Dummy Ad 1

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারত বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে মতামত দেওয়ার সুযোগ (অধিকার) দেশটি রাখে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়া পতিত স্বৈরাচার ভোটের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করলে সরকার প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।  

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ কথা জানান। রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। 

কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, আমরা যা করছি তা হলো, আমরা উপদেষ্টারা দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার যারা সুশীল সমাজের আছেন, শিক্ষক প্রতিনিধি আছেন, ছাত্র প্রতিনিধি আছেন, যারা ধর্মীয় নেতা আছেন- সবাইকে গণভোটটা কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী- এটা বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু ম্যাটেরিয়াল আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেটাই আমরা বিলি করে বেড়াচ্ছি।  

তিনি বলেন, কিন্তু জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন, করছেন না... জেলা প্রশাসকেরা প্রচার করবেন হচ্ছে যে ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটা গণভোট হবে। সাধারণ ভোটের পাশাপাশি জনগণ যেন গণভোটে যেতে পারে সে খবরটা জানানো। এর বেশি তো আর তাদের কিছু করার কথা না।  

সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন? দুই দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, শোনেন, প্রথম কথা হচ্ছে নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণ হবে। এক দল আরেক দলকে হারাবার চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে, এটা খুব স্বাভাবিক কথা।

তিনি বলেন, কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা সভ্যতার সীমাটা রাখা হচ্ছে না, সেজন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বললো না বললো সেটা তো সরকারের দায়িত্ব না।  

নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত তো দেওয়ার সুযোগ রাখে না। তার বিশ্লেষণ থাকতে পারে কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে জিতবার আগেই এত কথা বলে দিলে তো এই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ সেরকম মনে করার কোনো সুযোগ নেই।  

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে- সরকারের এমন একটা বিবৃতি আছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেনি তা তো ঠিক কথা না। ভোটের যেদিন শিডিউল ঘোষণা হলো সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ করা হলো এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন আছি। ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে, প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা বাড়াবো।

মানুষের ভেতরে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেবেন যে কোন মানুষ আপনাকে বলেছে তার ভোট দিতে ভয় লাগছে। আমরা যে এত কয়টা জেলায় গেলাম সব জায়গায় আমরা দেখে এসেছি প্রতিটি জায়গায় নির্বাচনের একটা আমেজ শুরু হয়েছে। যখন আমরা গেছি তখনও কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। তো প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা সবসময় বাংলাদেশে হয়ে থাকে। কোনো জায়গাতে কোনো মানুষ আমাকে বলেনি যে আপা ভোট দিতে কেমন করে যাবো আমার ভয় লাগছে। আপনাকে যদি কেউ এটা বলে থাকে আমাদের জানাবেন তার ভয় দূর করার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের।

সরকারের এ উপদেষ্টা আরও বলেন, এই যে ভয়ের একটা আবহ তৈরি করা নানান প্রচার-প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, নানান কিছু ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে দিয়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যই বলা হচ্ছে যে পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্ন করার জন্য কোনো কাজ করে আমরা সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।


তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বললেন এমপি শাহাজাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বললেন এমপি শাহাজাদা

বার্তাবেলা ডেস্ক: রাস্তাঘাটসহ এলাকার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়ে এবং সংসদে বক্তব্য দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহাজাদা। এমন অভিযোগ করে তিনি তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বলেছেন।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে শাহাজাদা বলেন, আমরা সংসদে কথা বলি। আমাকে ৭ মিনিট সময় দিয়েছেন। এজন্য লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। আমরা কথা বলি, কথাগুলোর বাস্তবায়ন হওয়ার প্রয়োজন। তা না হলে শুধু কথা বলবো এলাকার লোকজন ফেসবুকে দেখবেন এটা তো! আমরা যে কথাগুলো বলি এটার যদি প্রয়োজনীয়তা থাকে তাহলে তা বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। বাস্তবায়নে আমরা মন্ত্রণালয়ে ডিও দেই। সংসদে কথা বলি। এছাড়া তো বাকি কোনো জায়গা নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য দেখি। আমরা দেখি কোনো না কোনো আসনে বিস্তর কাজ হয়। অনেক রাস্তা যায়। সেখানকার জনগণ ভোট দেয়। সেখানকার জনগণের ভোট একটি, আমার এলাকার জনগণেরও ভোট একটি। এরপরও আমরা অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হই। এই বৈষম্য থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা মুক্তি পাবে এই প্রার্থনা করি। না হলে জানতে চাই- ডিও লেটার দিয়ে কীভাবে তদবির করতে হয়। এই তদবির করার জন্য কোনো ইনস্টিটিউট খুলতে হবে। সেখানে গিয়ে আমরা তদবির শিখবো এবং তদবির করে কাজ নেবো।

শাহাজাদার এ বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা গলাচিপার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে রোগীর গায়ে পলেস্তারা খসে খসে পড়ে। ফ্যান খুলে চিকিৎসকরা আহত হন।


নির্বাচনকে টার্গেট করে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

নির্বাচনকে টার্গেট করে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে বলে স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, দু-চারটি অস্ত্র যে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন একটা-দুটা করে ধরা হচ্ছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের আয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস-২০২৫ উপলক্ষে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকে টার্গেট করে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দু-চারটি অস্ত্র যে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন একটা দুটা করে ধরা হচ্ছে। কোনো রকমের কোথাও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

মেঘালয় পুলিশের দাবি তারা হাদি হত্যাকাণ্ডের কোনো আসামিকে গ্রেফতার করেনি। কিন্তু ডিএমপি বলছে গ্রেফতার হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ডিবি রাতে একটি স্টেটমেন্ট দিয়েছে, সেটা পড়লে জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে, প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে।

সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যে অপকর্ম করছে সে পলাতক, কিন্তু তার সহযোগীকে ধরা হয়েছে। পলাতককে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বোমা হামলাগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট যারা আছে তারা সবসময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু আপনাদের সবার সহযোগিতা যদি থাকে তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর হবে।

নির্বাচনে শঙ্কার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন কোনো শঙ্কা নেই।

বিজিবি দিবস উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিজিবিতে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দেন।

এ বছর ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক-সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক-সেবা (পিবিজিএমএস) সহ সর্বমোট ৭২ জনকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়।

পদক প্রদান শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজিবির খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সংবর্ধনা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।