শেয়ার বাজার

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর: কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি?

প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর: কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি?

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকলেও সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে চলছে সফরকেন্দ্রিক প্রস্তুতি। এর সঙ্গে বিরোধী পক্ষের সম্ভাব্য প্রতিবাদ কর্মসূচিও যোগ করছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সফর ঘিরে কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি—সবার নজর এখন সেদিকেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের সফর আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে সম্ভাব্য পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি। অতীতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের জাতিসংঘ সফর ঘিরে নিউইয়র্কে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। এবার রাজনৈতিক সমীকরণ উল্টো—সরকারে বিএনপি, আর বিরোধী অবস্থানে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। ফলে তারেক রহমানের এবারের নিউইয়র্ক সফর শুধু সরকারপ্রধানের একটি কূটনৈতিক সফর নয়; যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় কমিটিহীন বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সমন্বয়েরও বড় পরীক্ষা। প্রস্তুতির দৃশ্যমান তৎপরতা থাকলেও প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন স্টেট, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনকে এক ছাতার নিচে এনে কতটা সুশৃঙ্খলভাবে সেই প্রস্তুতি বাস্তবায়ন করতে পারে দলটি।

বিএনপি দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও উত্তর আমেরিকা সমন্বয়কারী আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্টেট, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বেশ কিছু যৌথ বৈঠকও হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বড় সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে। সার্বিক কর্মসূচি সমন্বয়ের জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমদ, জিল্লুর রহমান জিল্লু ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্টেটের নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথাও জানা গেছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে জন কেনেডি বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এছাড়াও জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনেও বিক্ষোভসহ নানান কর্মসূচি রয়েছে দলটির।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি স্টেট ভিত্তিক কমিটি আছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কেই তিনটি কমিটি রয়েছে, আর নিউজার্সিতে দুইটি কমিটি রয়েছে। এছাড়াও ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, মিশিগানেও কমিটি রয়েছে।

কিন্তু এখানে দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকা দু:খজনক। কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কমিটি গঠনের বিষয়টি চিন্তা করছেন, তিনি জানাবেন। কিন্তু এতদিন কমিটি না হওয়ায় অনেকেই অপেক্ষা করছেন কবে পরিশ্রমের ফলাফল পাবেন। কারণ একজন সারাজীবন নিউইয়র্ক বা ওয়াশিংটনের কমিটিতে কাজ করে যাবেন তেমনটা তো হতে পারে না। একটা সময় মূল্যায়নের ব্যাপার থাকে। তৃণমূলের রাজনীতি করে এক সময় কেন্দ্রে যাবে সেটার স্বপ্ন সবারই থাকে। আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে রাজনীতি শুরু করে এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। এটা একটা বড় উদাহরণ।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকায় সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে শত শত নেতাকর্মী থাকে। এখন সবাই ভাইরাল হতে চায়। এটি এখনই না বাংলাদেশে যদি দেখেন- শহীদ জিয়ার কবর জিয়ারতে গিয়ে বড় বড় নেতারা এমনকি বর্তমানে মন্ত্রী, তিনি ধাক্কা দিয়ে সামনে যেতে চাচ্ছেন। সুতরাং এটি সব জায়গায় হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবা সম্পাদক আবদুস সবুর বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, কোনো একটা কারণে হয়ত কমিটি দীর্ঘদিন হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে সম্মেলন হলে আশা করি কমিটি হবে। কিন্তু আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের এখানে ভেদাভেদ ছিল না। বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর সফরে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার চেষ্টা হলে আমরা তা প্রতিহত করব। এটা আইনশৃঙ্খলার দেশ। আমরা সার্বক্ষণিক প্রধানমন্ত্রী যেখানে থাকবেন আমাদের লোক থাকবে।

প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি হচ্ছে—প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আমরা সর্বকালের সর্ববৃহৎ গণজমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে তাকে অভ্যার্থনা জানানো হবে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি যে হোটেলে অবস্থান করবেন, আমরা সেখানে অবস্থান করব এবং তাকে স্বাগত জানাবো। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘে বক্তৃতা করবেন। ওই সময় আমরা বাইরে শান্তি সমাবেশ করব এবং সেখানে সর্ববৃহৎ লোকসমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকলেও সফরের কর্মসূচি সমন্বয়ে কেন্দ্র থেকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার পাশাপাশি আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেক মান-অভিমান আছে। দল করতে গেলে প্রতিযোগিতা থাকে। কিন্তু আমরা এখন সবাই একমত। আমরা আমাদের নেতার সফরকে কেন্দ্র করে একাট্টা থাকব। বিভিন্ন স্টেটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও নিজ নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয় করবেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, বিষয়টি দলের বিবেচনায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরুতে ২১ সেপ্টেম্বর ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ হলেও সেটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, সফরটি হচ্ছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নিউইয়র্ক থেকে তার সান ফ্রান্সিসকো সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণের পরদিনই তিনি দেশে ফিরবেন।
এদিকে ব্যয় সংকোচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটিও না করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সার্বিক বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, গণতান্ত্রিক যে সরকার আমরা চেয়েছিলাম সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমেরিকায় আসছেন ২০ বছর পর, এটা একটা আনন্দের বিষয়। বিমানবন্দরে তাকে বরণের জন্য হাজার হাজার নেতাকর্মী উদ্বেলিত হয়ে আছে। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে তার ভাষণে তাকে আমরা স্বাগত জানাব। কারণ এবার বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। সেক্ষেত্রে আমাদের বিশাল প্রস্তুতি রয়েছে। যারা দেশ থেকে পালিয়ে এসেছে, তারা তো চুরি করে, ব্যাংক লুট করে এখানে এসেছে। তারা নানান হুমকি ধামকি দিচ্ছে সেগুলো মার্কিন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তাদের গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।
কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি অনেকদিন ধরেই নেই, এটি আসলেই প্রয়োজন। এর ফলে সমন্বয়হীনতা আছে। গত বছরও বিমানবন্দরে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি দেবেন। এখন এটি সময়ের ব্যাপার, যে কোন মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন। আশা করি এবার কমিটি হবে।
Dummy Ad 1

৭ দিনে প্রবাসী আয় ৯ হাজার কোটি টাকার

সম্পাদক ও প্রকাশক মাইনউদ্দিন জমাদার

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৫

৭ দিনে প্রবাসী আয় ৯ হাজার কোটি টাকার

দেশ থেকে অর্থপাচার কমেছে। কমেছে হুন্ডির দৌরাত্মও। আর এসব কারণে বৈধপথে বাড়ছে রেমিট্যান্স। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেড়ে গেছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের গতিপ্রবাহ। দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আসায় একের পর এক রেকর্ড হতে থাকে। সর্বোচ্চ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে মার্চ ও এপ্রিলে।

রেমিট্যান্স আসার সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চলমি মাস মে’র প্রথম সাত দিনেই ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি (৮ হাজার ৯৬৭ কোটি) টাকা। আর প্রতিদিন আসছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১২৮১ কোটি টাকা। এভাবে রেমিট্যান্স এলে চলতি মাসে আবারও রেকর্ড হতে যাচ্ছে অর্থাৎ তিন বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মে মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা তার আগের বছরের একই সময়ে (মে, ২০২৪) সাড়ে ১৩ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪ সালের মে মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছিল ৬০ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত এসেছিল এক হাজার ৯৭২ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি এসেছে। অর্থবছরের হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আসার প্রবৃদ্ধি ২৮.২ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার এবং সবশেষ এপ্রিলে আসে ২৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।


আবারও দুবাইয়ের টুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে বাংলাদেশীদের জন্য

সম্পাদক ও প্রকাশক মাইনউদ্দিন জমাদার

প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

আবারও দুবাইয়ের টুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে বাংলাদেশীদের জন্য

সংযুক্ত আরব আমিরাতে যারা যেতে চান তাদের জন্য দারুণ এক সুখবর দিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ হামুদি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে উন্মুক্ত হবে টুরিস্ট ভিসা। 

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে দুবাইয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি একথা বলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, জুলাই বিপ্লবে কিছু প্রবাসী নিজের ভাইয়ের, সন্তানের মৃত্যু ও গণহত্যা সহ্য করতে না পেরে নিজের ক্ষতি হবে জেনেও আমিরাতে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগকে কিভাবে শ্রদ্ধা জানাবো তা আমার জানা নেই। মনে রাখতে হবে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আমাদেরকে আরো স্বতঃস্ফূর্ত হতে হবে।  


তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সকল উন্নয়নে বাংলাদেশীদের অবদান অনস্বীকার্য। এদেশের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আর উঁচু উঁচু দালান সবকিছুতেই বাংলাদেশী শ্রমিকদের ঘাম লেগে আছে। তাই আমরা আশা করতে চাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল নিয়োগে আরও বেশি আন্তরিক হবেন। বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইটি প্রফেশনাল এবং অদক্ষ শ্রমিকদের ভিসার বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত আনসারী।

মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, ড. ইউনূস এমন এক ব্যক্তি, পৃথিবীব্যাপী তার প্রতি মানুষের সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ আকাশচুম্বি। পৃথিবীর যে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান তার অনুরোধ ফেলতে পারেন না। আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধানও তার অনুরোধ ফেলতে পারেননি।

বাংলাদেশের মানুষ আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি এজন্য আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। আমিরাতের সঙ্গে অচিরেই ভিসা জটিলতা কেটে যাবে। এদেশের সঙ্গে আমাদের যে সূদৃঢ় বন্ধুত্ব রয়েছে, তাতে কখনো চিড় ধরার সম্ভাবনা নেই।

আরব আমিরাতের ভিসা নিয়ে সুখবর দেন বাংলাদেশের নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত, আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ খাসিফ আল হামুদি। বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতের ভিসা জটিলতা দূর হবে। চালু হবে ভ্রমণ ভিসাসহ সব ধরনের ভিসা। 

ইউএই রাষ্ট্রদূত আল হামুদি বলেন, বাংলাদেশসহ অসংখ্য দেশের জন্য আমিরাতে ভিসা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কয়েক বছর পূর্বে যেখানে আমিরাতে বাংলাদেশির সংখ্যা মাত্র সাত থেকে আট লাখের মধ্যে ছিল, সেখানে বর্তমানে বাংলাদেশির সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যেটা অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।

এসময় কর্ম জীবন শেষে বাংলাদেশকে সেকেন্ড হোম হিসেবে বেছে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত মুশফিক আমার বন্ধু। বাংলাদেশের মানুষের জন্য তার লড়াই সংগ্রাম আমাকে উৎসাহিত করে। তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত। 

ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাকির হোসেন, ড. রেজা খান, ইঞ্জিনিয়ার এম এ সালাম খান, দুবাইয়ের ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল আশফাক হোসেন প্রমুখ।


অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে মালদ্বীপে জোরালো অভিযান

সম্পাদক ও প্রকাশক মাইনউদ্দিন জমাদার

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৫

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে মালদ্বীপে জোরালো অভিযান

মালদ্বীপে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৫০৭টিরও বেশি অভিবাসন মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে ৯৭৬টি মামলা ইমিগ্রেশন বিভাগ দিয়েছে। তবে এখনো ২৪৪টি মামলা যাচাই করা হয়নি এবং ১১৬টি মামলা তদন্তাধীন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, ইমিগ্রেশন সংস্থার বাইরে থেকে ১৭১টি মামলা দায়ের হয়েছে।

শুধু অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় নয় বরং শহর, আবাসিক এলাকা, শিল্প গ্রাম ও কৃষি গ্রামে অবস্থানরত বিদেশিদের তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালাচ্ছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য প্রস্তুতকারী সাইটগুলোতে নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য আলাদা অপারেশনও চালু করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মালদ্বীপে সব বিদেশি নাগরিকের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা। আগামী তিন বছরের মধ্যে অভিবাসন সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয়ে যাবে বলে স্থানীয় গণমাধ্যকে জানানো হয়েছে।