জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকলেও সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে চলছে সফরকেন্দ্রিক প্রস্তুতি। এর সঙ্গে বিরোধী পক্ষের সম্ভাব্য প্রতিবাদ কর্মসূচিও যোগ করছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সফর ঘিরে কতটা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি—সবার নজর এখন সেদিকেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের সফর আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে সম্ভাব্য পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি। অতীতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের জাতিসংঘ সফর ঘিরে নিউইয়র্কে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। এবার রাজনৈতিক সমীকরণ উল্টো—সরকারে বিএনপি, আর বিরোধী অবস্থানে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। ফলে তারেক রহমানের এবারের নিউইয়র্ক সফর শুধু সরকারপ্রধানের একটি কূটনৈতিক সফর নয়; যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় কমিটিহীন বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সমন্বয়েরও বড় পরীক্ষা। প্রস্তুতির দৃশ্যমান তৎপরতা থাকলেও প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন স্টেট, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনকে এক ছাতার নিচে এনে কতটা সুশৃঙ্খলভাবে সেই প্রস্তুতি বাস্তবায়ন করতে পারে দলটি।
বিএনপি দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও উত্তর আমেরিকা সমন্বয়কারী আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্টেট, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বেশ কিছু যৌথ বৈঠকও হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বড় সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে। সার্বিক কর্মসূচি সমন্বয়ের জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমদ, জিল্লুর রহমান জিল্লু ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্টেটের নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথাও জানা গেছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে জন কেনেডি বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এছাড়াও জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনেও বিক্ষোভসহ নানান কর্মসূচি রয়েছে দলটির।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি স্টেট ভিত্তিক কমিটি আছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কেই তিনটি কমিটি রয়েছে, আর নিউজার্সিতে দুইটি কমিটি রয়েছে। এছাড়াও ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, মিশিগানেও কমিটি রয়েছে।
কিন্তু এখানে দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকা দু:খজনক। কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কমিটি গঠনের বিষয়টি চিন্তা করছেন, তিনি জানাবেন। কিন্তু এতদিন কমিটি না হওয়ায় অনেকেই অপেক্ষা করছেন কবে পরিশ্রমের ফলাফল পাবেন। কারণ একজন সারাজীবন নিউইয়র্ক বা ওয়াশিংটনের কমিটিতে কাজ করে যাবেন তেমনটা তো হতে পারে না। একটা সময় মূল্যায়নের ব্যাপার থাকে। তৃণমূলের রাজনীতি করে এক সময় কেন্দ্রে যাবে সেটার স্বপ্ন সবারই থাকে। আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে রাজনীতি শুরু করে এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। এটা একটা বড় উদাহরণ।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকায় সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে শত শত নেতাকর্মী থাকে। এখন সবাই ভাইরাল হতে চায়। এটি এখনই না বাংলাদেশে যদি দেখেন- শহীদ জিয়ার কবর জিয়ারতে গিয়ে বড় বড় নেতারা এমনকি বর্তমানে মন্ত্রী, তিনি ধাক্কা দিয়ে সামনে যেতে চাচ্ছেন। সুতরাং এটি সব জায়গায় হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবা সম্পাদক আবদুস সবুর বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, কোনো একটা কারণে হয়ত কমিটি দীর্ঘদিন হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে সম্মেলন হলে আশা করি কমিটি হবে। কিন্তু আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের এখানে ভেদাভেদ ছিল না। বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর সফরে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার চেষ্টা হলে আমরা তা প্রতিহত করব। এটা আইনশৃঙ্খলার দেশ। আমরা সার্বক্ষণিক প্রধানমন্ত্রী যেখানে থাকবেন আমাদের লোক থাকবে।
প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি হচ্ছে—প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আমরা সর্বকালের সর্ববৃহৎ গণজমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে তাকে অভ্যার্থনা জানানো হবে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি যে হোটেলে অবস্থান করবেন, আমরা সেখানে অবস্থান করব এবং তাকে স্বাগত জানাবো। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘে বক্তৃতা করবেন। ওই সময় আমরা বাইরে শান্তি সমাবেশ করব এবং সেখানে সর্ববৃহৎ লোকসমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকলেও সফরের কর্মসূচি সমন্বয়ে কেন্দ্র থেকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার পাশাপাশি আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেক মান-অভিমান আছে। দল করতে গেলে প্রতিযোগিতা থাকে। কিন্তু আমরা এখন সবাই একমত। আমরা আমাদের নেতার সফরকে কেন্দ্র করে একাট্টা থাকব। বিভিন্ন স্টেটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও নিজ নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয় করবেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, বিষয়টি দলের বিবেচনায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।









