নাইজেরিয়ায় ৩৭ খনিশ্রমিককে আটকের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হওয়া বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি গুলি চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে এ সময় শত শত বিক্ষোভকারী নাইজার প্রদেশের খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ শহর মিন্নায় জড়ো হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকে সরকারি স্থাপনায় হামলা চালান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের দিকে তাজা গুলি নাকি বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত পেলেট ব্যবহার করেছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এ সময় তাজা গুলিই ব্যবহার করা হয়েছে এবং একজন বিক্ষোভকারীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরকারি কর্মকর্তারা জানান, দেশটির প্যারামিলিটারি সংস্থা নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কোরের (এনএসডিসি) হাতে আটক ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মিন্নার পশ্চিমাঞ্চলের উশিশি-লুকোতো এলাকা থেকে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে তাদের আটক করা হয়েছিল।
এরপর প্রদেশের গভর্নর উমার বোগো শুক্রবার সেখানে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কারফিউ জারি করেন। এর মধ্যে ওই ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যুর তদন্ত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার।
আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবারের বিক্ষোভে মূলত প্রদেশের রাজধানীতে অবস্থিত সরকারি অবকাঠামোগুলোতেই হামলা চালানো হয়। তবে, কারফিউ জারির পরপরই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে পড়ে।
ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশটির নাইজার প্রদেশের বিভিন্ন অংশেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হওয়া সরকারি স্থাপনার মধ্যে ছিল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, সেখানে রাখা গণিপরিবহনগুলোর অনেকগুলো বিক্ষোভকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এনএসডিসি প্রাথমিকভাবে জানায়, কোনো রোগের সংক্রমণের কারণে ওই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি তারা।
মৃতদের সবাইকেই বৃহস্পতিবার বিকেলে সমাহিত করা হয়। এতে করে পরবর্তীতে তাদের আর ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তাদের হাতে আসা একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী এক জায়গায় অতিরিক্ত মানুষ ও পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।









