শেয়ার বাজার

যশোর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন যেন দুর্বোধ্য ধাঁধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

যশোর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন যেন দুর্বোধ্য ধাঁধা!

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:

যশোরের অধিকাংশ ডিজিটাল যুগে চিকিৎসাব্যবস্থার নানা ক্ষেত্রেপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও সরকারি-

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এখনো হাতে লেখা হচ্ছে রোগীর প্রেসক্রিপশন। অনেক চিকিৎসকের হাতের লেখা স্পষ্ট না হওয়ায় প্রেসক্রিপশন বুঝতে সমস্যায় পড়ছেন রোগী ও ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অক্ষর বুঝতে না পেরে রোগীকে ফের চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন ওষুধ বিক্রেতারা। এতে বাড়ছে রোগীর ভোগান্তি ও হয়রানি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রেসক্রিপশনের লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় অনেক সময় ওষুধের নাম ও কোম্পানি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। বিশেষ করে গ্রামের ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশনের লেখা বুঝতে না পারলে বিক্রয়কর্মীরা নিজেদের মতো করে ওষুধ দেওয়ার সুযোগ পান। এতে ভুল ওষুধ পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের স্পষ্টত অক্ষরে অথবা কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন লেখার দাবি জানিয়েছেন রোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকেরা কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন লিখছেন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই এখনো হাতে লেখা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এসব প্রেসক্রিপশনের কোনোটি সহজেই পড়া গেলেও কিছু চিকিৎসকের লেখা এতটাই অস্পষ্ট যে ওষুধের নাম বা নির্দেশনা বুঝতে সমস্যা হয়।

সূত্র জানায়, হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন নিয়ে ফার্মেসিকর্মীদেরও প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ওষুধের নাম স্পষ্ট না হলে রোগীর কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগীকে আবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে লেখা স্পষ্ট করে আনতে বলা হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয় রোগীর।

যশোরের আদ-দীন হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসকেরা কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন লেখেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল সাদিক রাসেল প্রেসক্রিপশনে রোগীদের বোঝার সুবিধার্থে বড় হাতের বর্ণ ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসকেরা হাতে প্রেসক্রিপশন লেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন স্পষ্টভাবে পড়া কঠিন বলে রোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এর মধ্যে ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিকসের ডা. আঞ্জুমান আরা (ইলোরা), কুইন্স হাসপাতালের ডা. আমিনুর রহমান, ডা. আতিক আহমেদ আকন্দ, ডা. শারমিন নাহার (পলি) এবং ল্যাবস্ক্যানের ডা. সিরাজুল ইসলামের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগীদের মধ্যে অসুবিধার কথা জানা গেছে। এসব চিকিৎসকের কাছে কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন লেখার দাবি জানিয়েছেন রোগীরা।

বেনপোল  থেকে কুইন্স হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. আতিক আহমেদ আকন্দকে দেখাতে আসা ইয়ানুর রহমান বলেন, চিকিৎসক হাতে প্রেসক্রিপশন লিখেছেন। তিনি নিজেও সব লেখা বুঝতে পারছেন না। শহরের ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে বিক্রয়কর্মীরা না বুঝলে চিকিৎসকের কাছে আবার আসার সুযোগ আছে। কিন্তু  নিজেদের এলাকায় ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন বুঝতে না পারলে অনেক সময় বিক্রয়কর্মীরা নিজেদের মতো করে ওষুধ দিয়ে দেন (ভুলও থাকতে পারে)।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাফায়েত হুসাইন বলেন, সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। প্রতিদিন একজন চিকিৎসককে একশর বেশি রোগী দেখতে হয়। ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী হলে কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন লেখা সুবিধাজনক হলেও সদর হাসপাতালে এত বেশি রোগীর চাপের মধ্যে, কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন লেখা চিকিৎসকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে প্রেসক্রিপশন স্পষ্ট ও বড় হাতের বর্ণে লেখার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, প্রেসক্রিপশন হাতে লেখার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কোনো বাধা নেই। তবে লেখা স্পষ্ট না হলে রোগীরা বিপাকে পড়বেন। অধিকাংশ চিকিৎসকের হাতের লেখা বোঝা গেলেও কিছু চিকিৎসকের লেখা বোঝা যায় না। যেসব চিকিৎসকের লেখা স্পষ্ট নয়, তাদের আরও সতর্ক হয়ে প্রেসক্রিপশন লেখার  প্রয়োজন।

Dummy Ad 1

চিবালয় সরিয়ে ‘সমস্যার সমাধান’ নাকি ‘নতুন সংকট তৈরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬

চিবালয় সরিয়ে ‘সমস্যার সমাধান’ নাকি ‘নতুন সংকট তৈরি’

দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিপুল ব্যয়ে এই স্থানান্তরের যৌক্তিকতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নতুন এলাকায় সমস্যাও স্থানান্তর হবে কি না- তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকার ব্যয় সাশ্রয়, অপচয় কমানো ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিতে চলছে। এই মুহূর্তে কয়েক হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা এবং সঠিক জায়গায় স্থানান্তর নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

পুরোনো সচিবালয়ে জায়গার সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কথা বলছে সরকার। কিন্তু, নতুন প্রকল্পে ঢাকার ওপর চাপ কতটা বাড়বে, উন্মুক্ত জায়গা, সম্ভাব্যতা যাচাই না করা এবং পূর্বাচলসহ বিকল্প স্থান বিবেচনা করা হয়েছে কি না- তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় ২০২৯ সালের মধ্যে আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য থাকলেও এরই মধ্যে আপত্তি জানিয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবেশবাদী সংগঠন। নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যেও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা, ব্যয় ও যানজটের প্রভাব নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।

কেন নতুন সচিবালয়

গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন কমপ্লেক্স থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আগারগাঁওয়ে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন, তিনটি বেজমেন্ট, গাড়ি পার্কিং, মসজিদ, বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর থাকবে। প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ কমপ্লেক্সে থাকবে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। এর মধ্যে ২০০টি গাড়ি মাটির ওপর পার্কিং করতে পারবে। প্রকল্প এলাকায় ৩০ শতাংশ সবুজ জায়গা ও জলাধার রাখার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

সরকারের যুক্তি, বর্তমান সচিবালয়ের জায়গা সীমিত। সেখানে পুরোনো ভবন রয়েছে, কিছু ভবন ভূমিকম্প সহনশীল নয়। দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি আছে। বর্তমানে সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি স্বাধীনতার আগে নির্মিত। এসব ভবনে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস থাকলেও প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মূল সচিবালয় কমপ্লেক্সের বাইরে রয়েছে ১৬টি মন্ত্রণালয়। নতুন কমপ্লেক্সে সেগুলো আনা হতে পারে।

নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থপতি লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণের কথা বলা হলেও নকশাটি হুবহু একই হবে না বলে জানা যায়। বৈদ্যুতিক, পানি সরবরাহ ও কাঠামোগত নকশাসহ বিস্তারিত কাজ এখনো বাকি। প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়ও নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ব্যয় সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে জানা যায়। বাস্তবায়নকাল হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কথা বলা হয়েছে। তবে এটি প্রস্তাবিত ব্যয়, চূড়ান্ত অনুমোদিত ব্যয় নয়। বিস্তারিত নকশা ও প্রকৌশলগত কাজ শেষে প্রকৃত ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আগারগাঁওয়ের জমি নিয়ে আপত্তি

সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো আপত্তি এসেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) থেকে। আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জমি বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তাদের বক্তব্য, কৃষি গবেষণার জন্য জমির সংকটের মধ্যে এই মাঠ সচিবালয়ের কাজে ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাঠটি ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।

সচিবালয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার গাড়ি প্রবেশ ও বের হবে। এতে শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ঢাকায় কোনো দুর্যোগ হলে মানুষের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত হয়ে পড়বে। পূর্বাঞ্চলে জনবসতি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে বারবার ঢাকার ভেতরে স্থাপনা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে।-শেকৃবির গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন চৌধুরী

শেকৃবির গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে। পাশাপাশি পুরো এলাকার যে শান্ত ও নান্দনিক পরিবেশ রয়েছে, তা ব্যাহত হবে।’

অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিনের আশঙ্কা, সচিবালয় হলে যানবাহনের চাপ ও জনঘনত্ব বাড়বে, তীব্র হবে যানজট।

তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার গাড়ি প্রবেশ ও বের হবে। এতে শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ঢাকায় কোনো দুর্যোগ হলে মানুষের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত হয়ে পড়বে। পূর্বাঞ্চলে জনবসতি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে বারবার ঢাকার ভেতরে স্থাপনা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। এতে শহরের ওপর চাপ বাড়ছে।’

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পরিবর্তে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ ও আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন। এ ক্ষেত্রে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার উদাহরণ টানেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে উদ্বেগ ও আপত্তি রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরবো। পরিবেশবাদীদের সঙ্গে আবারও কথা বলব, যাতে তারা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।’

পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। পরিবেশবাদীদের মতে, রাজধানীতে খোলা জায়গা, খেলার মাঠ ও মানুষের চলাচলের স্থান এমনিতেই কম। অবশিষ্ট জায়গা উন্নয়নের নামে সংকুচিত হলে নগরের বাসযোগ্যতা আরও কমবে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘একটি বাসযোগ্য নগরে যে পরিমাণ খোলা জায়গা থাকা দরকার, ঢাকা শহরে তার মাত্র ১০ শতাংশ রয়েছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে, সেগুলোও উন্নয়নের নামে দখল বা সংকুচিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগারগাঁওয়ের প্রস্তাবিত জায়গাটি সকাল-সন্ধ্যায় হাজারো মানুষের চলাচল, হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

ঢাকা শহরে এমনিতেই খোলা জায়গা কম। যেটুকু আছে, সেটুকু কোনোভাবেই আমরা এভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না। আমরা চাই, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি পরিবর্তন করা হোক।-বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির

পরিবেশবাদীদের প্রশ্ন, নতুন সচিবালয়ে কতটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তর করা হবে, কত যানবাহন প্রবেশ ও বের হবে এবং আশপাশের সড়ক সেই চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে পর্যাপ্ত সমীক্ষা হয়েছে কি না। সব মন্ত্রণালয় একই জায়গায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বাপার সাধারণ সম্পাদকের মতে, মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের ধরন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকা থেকে সরকারি কাজে ঢাকায় আসার প্রয়োজনও কমবে।

সরকারের পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার বক্তব্যের সঙ্গে এ ধরনের পরিকল্পনার অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির কথা বললেও রাজধানীর অবশিষ্ট উন্মুক্ত স্থান ব্যবহারের এমন পরিকল্পনা নগরকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

চন্দ্রিমা উদ্যান ও রেলওয়ে খালের নকশায় উন্মুক্ত স্থান রাখার ধারণা থেকে সরে না আসারও দাবি জানিয়েছেন তারা। আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা শহরে এমনিতেই খোলা জায়গা কম। যেটুকু আছে, সেটুকু কোনোভাবেই আমরা এভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না। আমরা চাই, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি পরিবর্তন করা হোক।’

আগারগাঁও, নাকি পূর্বাচল

সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে নগর পরিকল্পনার যৌক্তিকতা, রাজধানীর ওপর চাপ কমানো ও প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

সরকারি কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নগর পরিকল্পনা করা যায় না। ঢাকার ওপর চাপ কমানো ও সরকারি কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।-আইপিডির নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তর করলে ওই এলাকার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। অন্যদিকে পূর্বাচলে সচিবালয় স্থাপন করা হলে সেখানে সরকারের বিপুল বিনিয়োগে গড়ে তোলা সড়ক অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতো।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নগর পরিকল্পনা করা যায় না। ঢাকার ওপর চাপ কমানো ও সরকারি কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, ‘সচিবালয়ের বর্তমান অবকাঠামোতে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে নতুন স্থানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান বিনিয়োগের ব্যবহার, নতুন প্রকল্পের ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল তুলনা করা জরুরি। সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে নতুন সচিবালয় নির্মাণের বড় অঙ্কের ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা-ও মূল্যায়নের প্রয়োজন।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আওয়াল মজুমদার আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পক্ষে। তার মতে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সরকারি আবাসন থেকে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগারগাঁও কার্যকর স্থান হতে পারে।

তিনি মনে করেন, কৃষি গবেষণার জন্য শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার জমি ধরে রাখার পরিবর্তে ভিন্ন এলাকায় উপযুক্ত জমির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ভবন বদলালেই কি সমস্যার সমাধান

সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর করলেই রাজধানীর যানজট ও নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু স্থান পরিবর্তন করে আগের সমস্যাগুলো নতুন এলাকায় নিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

সচিবালয় স্থানান্তরের সুফল নির্ভর করবে নতুন স্থানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর। বর্তমান সচিবালয়ের ভবন বিন্যাস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সমস্যাগুলো নতুন স্থানে সংশোধন করা গেলে সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।-বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সচিবালয় স্থানান্তরের সুফল নির্ভর করবে নতুন স্থানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর। বর্তমান সচিবালয়ের ভবন বিন্যাস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সমস্যাগুলো নতুন স্থানে সংশোধন করা গেলে সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যার মূল কারণ দূর না করে শুধু স্থান পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। একইভাবে, বর্তমান সচিবালয়ের পরিকল্পনাগত ত্রুটি নতুন স্থানে পুনরাবৃত্তি হলে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচিবালয়ের ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে অফিসের জায়গার সংকট কমানো গেলেও যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থাপনের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিক হিসেবে মেট্রোরেল যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান। তার মতে, প্রস্তাবিত স্থানটি আগারগাঁও ও বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনের মাঝামাঝি হওয়ায় হেঁটে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, যারা হেঁটে আসতে পারবেন না, তাদের জন্য শাটল সার্ভিস বা বিনামূল্যের পরিবহনসেবা চালু করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নতুন সচিবালয়ের নকশায় গণপরিবহন ও পথচারীদের চলাচলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত, যানজট ও নাগরিক ভোগান্তিও বিবেচনায় নিতে হবে। স্থানান্তরের ফলে সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হলে তবেই এ উদ্যোগের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।’

ঢাকা শহরকে সচল রাখতে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। সচিবালয় সরানো নিয়ে মানুষ ইতিবাচক হলেও স্থান নিয়ে কারও কারও আপত্তি বা ভিন্নমত রয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহরকে সচল করতে সেখানে নেওয়ার পক্ষে মত অনেকের। সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেক সমস্যার যেন উদ্ভব না হয় সেদিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিশেষজ্ঞরা।

শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বার্তাবেলা ডেস্ক: ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের  রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান মেহেবুব। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দুল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিগারুল ইসলাম জিগার, সাবেক সভাপতি আকাশ আহমেদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুদ নাসির, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক জগলুল হুদা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা আক্তার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হলেন চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান সাংবাদিক মহিন উদ্দিন স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হলেন চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান সাংবাদিক মহিন উদ্দিন স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান ও মানবসেবায় নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠক মহিন উদ্দিন স্বপনকে ‘মানবতার পাশে ফাউন্ডেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি মানবসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন তিনি। অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সহযোগিতা করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন মহিন উদ্দিন স্বপন।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মহিন উদ্দিন স্বপন বলেন, “সর্বপ্রথম আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান সাংবাদিক উজ্জ্বল ভূঁইয়া ভাইয়ের প্রতি। তিনি আমাকে এত বড় একটি দায়িত্ব দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যেন এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারি এবং গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, এটাই আমার প্রত্যাশা। মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”

মহিন উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমি মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখেছি। তারা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মানবিক উদ্যোগ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই কারণেই আমি এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ মানবতার পাশে ফাউন্ডেশন একদিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।”

এদিকে, মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক উজ্জ্বল ভূঁইয়া বলেন, মানবতার পাশে ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যারা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি তারাও মানবতার কল্যাণে কাজ করতে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবেন।

তিনি বলেন, “আমি নিজের চোখে দেখেছি, অনেক মানুষ ঠিকমতো একবেলা খাবারও খেতে পারেন না। অনেক অসহায় মানুষ রাস্তায় রাত কাটান।

তাদের কষ্ট আমাকে নাড়া দিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো, অন্তত একমুঠো খাবার তুলে দেওয়া এবং বিপদের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই মানবতার পাশে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি।”

উজ্জ্বল ভূঁইয়া সমাজের বিত্তবান ও বিবেকবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানবতার কল্যাণে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা সবাই মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের পাশে থাকুন। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠক মহিন উদ্দিন স্বপনকে ঘিরে মানবতার পাশে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা। মানবিক সহযোগিতা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।