"গান, কবিতা, নাটিকা ও পিঠাপুলির আয়োজনে ঢাকায় কর্মরত কুমিল্লার সাংবাদিকদের প্রাণবন্ত পুনর্মিলন"
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
গান, কবিতা, নাটিকা আর প্রাণবন্ত আড্ডায় ঢাকায় কর্মরত কুমিল্লার সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হলো ‘হেমন্ত সন্ধ্যা’। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা আয়োজিত এ বর্ণিল অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা। পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজনটি পরিণত হয় এক আন্তরিক পুনর্মিলন উৎসবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ড. মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী এবং সামাইরা গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ কুমিল্লার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান বলেন, “কুমিল্লার সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে সবাইকে একত্রিত করার মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য আরও জোরদার হবে বলে আশা করি।”
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাহ উদ্দিন জসিম বলেন, “সাংবাদিকদের নিয়ে একটি আনন্দঘন ও আন্তরিক মিলনমেলার আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আড্ডা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে সহকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।”
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম. এস. দোহা বলেন, “সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। পেশাগত মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য ও সহমর্মিতা বজায় রাখা জরুরি। এ ধরনের মিলনমেলা সাংবাদিকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংবাদিক মহিন উদ্দিন স্বপন বলেন, “দৈনন্দিন পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যে সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে এমন আন্তরিক পরিবেশে মিলিত হতে পারা আনন্দের। ‘হেমন্ত সন্ধ্যা’ আমাদের মধ্যে স্মৃতিচারণ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি সুন্দর উপলক্ষ।”
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংগীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি ও নাটিকা প্রদর্শনী। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির আয়োজন অতিথিদের বাড়তি আকর্ষণ জোগায়। চিতই পিঠা ও হাঁসের মাংসের আপ্যায়নের পাশাপাশি চা-কফির আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মতে, সাংবাদিকতার পথচলায় মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও পেশাগত সংহতি অটুট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি ঐক্য, সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
দৈনন্দিন পেশাগত ব্যস্ততা পেরিয়ে প্রিয় সহকর্মী, বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, স্মৃতিচারণ এবং প্রাণখোলা আড্ডায় সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর ও স্মরণীয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আন্তরিক আতিথেয়তায় ‘হেমন্ত সন্ধ্যা’ ঢাকায় কর্মরত কুমিল্লার সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করার এক স্মরণীয় উপলক্ষ হয়ে ওঠে।









