শেয়ার বাজার

নরসিংদীতে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ যুবকের ঢামেকে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নরসিংদীতে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ যুবকের ঢামেকে মৃত্যু

নরসিংদির মাধবদীতে প্রিন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধ মো. জামালের (৩৮) মৃত্যু হয়।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের এখানে দগ্ধ পাঁচজনকে আনা হয়েছে। এর মধ্যে সকালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামালের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এছাড়া চিকিৎসাধীন টিপুর ৯০ শতাংশ, ফয়সালের ২৫ শতাংশ, বাবুলের ৮ শতাংশ এবং শাজাহানের ৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় টিপু ও জামালকে বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়।


Dummy Ad 1

চিবালয় সরিয়ে ‘সমস্যার সমাধান’ নাকি ‘নতুন সংকট তৈরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬

চিবালয় সরিয়ে ‘সমস্যার সমাধান’ নাকি ‘নতুন সংকট তৈরি’

দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিপুল ব্যয়ে এই স্থানান্তরের যৌক্তিকতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নতুন এলাকায় সমস্যাও স্থানান্তর হবে কি না- তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকার ব্যয় সাশ্রয়, অপচয় কমানো ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিতে চলছে। এই মুহূর্তে কয়েক হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা এবং সঠিক জায়গায় স্থানান্তর নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

পুরোনো সচিবালয়ে জায়গার সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কথা বলছে সরকার। কিন্তু, নতুন প্রকল্পে ঢাকার ওপর চাপ কতটা বাড়বে, উন্মুক্ত জায়গা, সম্ভাব্যতা যাচাই না করা এবং পূর্বাচলসহ বিকল্প স্থান বিবেচনা করা হয়েছে কি না- তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় ২০২৯ সালের মধ্যে আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য থাকলেও এরই মধ্যে আপত্তি জানিয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবেশবাদী সংগঠন। নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যেও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা, ব্যয় ও যানজটের প্রভাব নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।

কেন নতুন সচিবালয়

গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন কমপ্লেক্স থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আগারগাঁওয়ে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন, তিনটি বেজমেন্ট, গাড়ি পার্কিং, মসজিদ, বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর থাকবে। প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ কমপ্লেক্সে থাকবে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। এর মধ্যে ২০০টি গাড়ি মাটির ওপর পার্কিং করতে পারবে। প্রকল্প এলাকায় ৩০ শতাংশ সবুজ জায়গা ও জলাধার রাখার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

সরকারের যুক্তি, বর্তমান সচিবালয়ের জায়গা সীমিত। সেখানে পুরোনো ভবন রয়েছে, কিছু ভবন ভূমিকম্প সহনশীল নয়। দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি আছে। বর্তমানে সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি স্বাধীনতার আগে নির্মিত। এসব ভবনে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস থাকলেও প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মূল সচিবালয় কমপ্লেক্সের বাইরে রয়েছে ১৬টি মন্ত্রণালয়। নতুন কমপ্লেক্সে সেগুলো আনা হতে পারে।

নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থপতি লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণের কথা বলা হলেও নকশাটি হুবহু একই হবে না বলে জানা যায়। বৈদ্যুতিক, পানি সরবরাহ ও কাঠামোগত নকশাসহ বিস্তারিত কাজ এখনো বাকি। প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়ও নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ব্যয় সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে জানা যায়। বাস্তবায়নকাল হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কথা বলা হয়েছে। তবে এটি প্রস্তাবিত ব্যয়, চূড়ান্ত অনুমোদিত ব্যয় নয়। বিস্তারিত নকশা ও প্রকৌশলগত কাজ শেষে প্রকৃত ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আগারগাঁওয়ের জমি নিয়ে আপত্তি

সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো আপত্তি এসেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) থেকে। আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জমি বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তাদের বক্তব্য, কৃষি গবেষণার জন্য জমির সংকটের মধ্যে এই মাঠ সচিবালয়ের কাজে ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাঠটি ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।

সচিবালয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার গাড়ি প্রবেশ ও বের হবে। এতে শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ঢাকায় কোনো দুর্যোগ হলে মানুষের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত হয়ে পড়বে। পূর্বাঞ্চলে জনবসতি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে বারবার ঢাকার ভেতরে স্থাপনা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে।-শেকৃবির গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন চৌধুরী

শেকৃবির গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে। পাশাপাশি পুরো এলাকার যে শান্ত ও নান্দনিক পরিবেশ রয়েছে, তা ব্যাহত হবে।’

অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিনের আশঙ্কা, সচিবালয় হলে যানবাহনের চাপ ও জনঘনত্ব বাড়বে, তীব্র হবে যানজট।

তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার গাড়ি প্রবেশ ও বের হবে। এতে শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ঢাকায় কোনো দুর্যোগ হলে মানুষের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত হয়ে পড়বে। পূর্বাঞ্চলে জনবসতি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে বারবার ঢাকার ভেতরে স্থাপনা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। এতে শহরের ওপর চাপ বাড়ছে।’

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পরিবর্তে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ ও আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন। এ ক্ষেত্রে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার উদাহরণ টানেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে উদ্বেগ ও আপত্তি রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরবো। পরিবেশবাদীদের সঙ্গে আবারও কথা বলব, যাতে তারা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।’

পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। পরিবেশবাদীদের মতে, রাজধানীতে খোলা জায়গা, খেলার মাঠ ও মানুষের চলাচলের স্থান এমনিতেই কম। অবশিষ্ট জায়গা উন্নয়নের নামে সংকুচিত হলে নগরের বাসযোগ্যতা আরও কমবে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘একটি বাসযোগ্য নগরে যে পরিমাণ খোলা জায়গা থাকা দরকার, ঢাকা শহরে তার মাত্র ১০ শতাংশ রয়েছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে, সেগুলোও উন্নয়নের নামে দখল বা সংকুচিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগারগাঁওয়ের প্রস্তাবিত জায়গাটি সকাল-সন্ধ্যায় হাজারো মানুষের চলাচল, হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

ঢাকা শহরে এমনিতেই খোলা জায়গা কম। যেটুকু আছে, সেটুকু কোনোভাবেই আমরা এভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না। আমরা চাই, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি পরিবর্তন করা হোক।-বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির

পরিবেশবাদীদের প্রশ্ন, নতুন সচিবালয়ে কতটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তর করা হবে, কত যানবাহন প্রবেশ ও বের হবে এবং আশপাশের সড়ক সেই চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে পর্যাপ্ত সমীক্ষা হয়েছে কি না। সব মন্ত্রণালয় একই জায়গায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বাপার সাধারণ সম্পাদকের মতে, মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের ধরন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকা থেকে সরকারি কাজে ঢাকায় আসার প্রয়োজনও কমবে।

সরকারের পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার বক্তব্যের সঙ্গে এ ধরনের পরিকল্পনার অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির কথা বললেও রাজধানীর অবশিষ্ট উন্মুক্ত স্থান ব্যবহারের এমন পরিকল্পনা নগরকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

চন্দ্রিমা উদ্যান ও রেলওয়ে খালের নকশায় উন্মুক্ত স্থান রাখার ধারণা থেকে সরে না আসারও দাবি জানিয়েছেন তারা। আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা শহরে এমনিতেই খোলা জায়গা কম। যেটুকু আছে, সেটুকু কোনোভাবেই আমরা এভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না। আমরা চাই, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি পরিবর্তন করা হোক।’

আগারগাঁও, নাকি পূর্বাচল

সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে নগর পরিকল্পনার যৌক্তিকতা, রাজধানীর ওপর চাপ কমানো ও প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

সরকারি কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নগর পরিকল্পনা করা যায় না। ঢাকার ওপর চাপ কমানো ও সরকারি কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।-আইপিডির নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তর করলে ওই এলাকার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। অন্যদিকে পূর্বাচলে সচিবালয় স্থাপন করা হলে সেখানে সরকারের বিপুল বিনিয়োগে গড়ে তোলা সড়ক অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতো।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নগর পরিকল্পনা করা যায় না। ঢাকার ওপর চাপ কমানো ও সরকারি কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, ‘সচিবালয়ের বর্তমান অবকাঠামোতে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে নতুন স্থানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান বিনিয়োগের ব্যবহার, নতুন প্রকল্পের ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল তুলনা করা জরুরি। সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে নতুন সচিবালয় নির্মাণের বড় অঙ্কের ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা-ও মূল্যায়নের প্রয়োজন।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আওয়াল মজুমদার আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পক্ষে। তার মতে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সরকারি আবাসন থেকে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগারগাঁও কার্যকর স্থান হতে পারে।

তিনি মনে করেন, কৃষি গবেষণার জন্য শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার জমি ধরে রাখার পরিবর্তে ভিন্ন এলাকায় উপযুক্ত জমির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ভবন বদলালেই কি সমস্যার সমাধান

সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর করলেই রাজধানীর যানজট ও নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু স্থান পরিবর্তন করে আগের সমস্যাগুলো নতুন এলাকায় নিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

সচিবালয় স্থানান্তরের সুফল নির্ভর করবে নতুন স্থানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর। বর্তমান সচিবালয়ের ভবন বিন্যাস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সমস্যাগুলো নতুন স্থানে সংশোধন করা গেলে সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।-বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সচিবালয় স্থানান্তরের সুফল নির্ভর করবে নতুন স্থানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর। বর্তমান সচিবালয়ের ভবন বিন্যাস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সমস্যাগুলো নতুন স্থানে সংশোধন করা গেলে সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যার মূল কারণ দূর না করে শুধু স্থান পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। একইভাবে, বর্তমান সচিবালয়ের পরিকল্পনাগত ত্রুটি নতুন স্থানে পুনরাবৃত্তি হলে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচিবালয়ের ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে অফিসের জায়গার সংকট কমানো গেলেও যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থাপনের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিক হিসেবে মেট্রোরেল যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান। তার মতে, প্রস্তাবিত স্থানটি আগারগাঁও ও বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনের মাঝামাঝি হওয়ায় হেঁটে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, যারা হেঁটে আসতে পারবেন না, তাদের জন্য শাটল সার্ভিস বা বিনামূল্যের পরিবহনসেবা চালু করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নতুন সচিবালয়ের নকশায় গণপরিবহন ও পথচারীদের চলাচলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত, যানজট ও নাগরিক ভোগান্তিও বিবেচনায় নিতে হবে। স্থানান্তরের ফলে সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হলে তবেই এ উদ্যোগের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।’

ঢাকা শহরকে সচল রাখতে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। সচিবালয় সরানো নিয়ে মানুষ ইতিবাচক হলেও স্থান নিয়ে কারও কারও আপত্তি বা ভিন্নমত রয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহরকে সচল করতে সেখানে নেওয়ার পক্ষে মত অনেকের। সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেক সমস্যার যেন উদ্ভব না হয় সেদিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে পাঁচ দফা জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

তিনি বলেন, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু অভিযোজনের জন্য এ বছরের বাজেটে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া দেশটি বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগের মাধ্যমে সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।

তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন।

প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ সম্ভব করতে হবে।

চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

পঞ্চমত, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৪

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ

ঢাকা, ২ মার্চ, ২০২৪ (বাসস) : কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)’র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা এবং নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র ডেপুটি চিফ রিপোর্টার মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমাদের অর্থনীতির বিশেষ প্রতিনিধি এম. মোশাররফ হোসাইন।

২১ সদস্যের কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল অদুদ ও এম. এস. দোহা, যুগ্ম-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন জসিম ও কামরুজ্জামান বাবলু, অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন দরবেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মনির আহমাদ জারিফ, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রতন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জহির আলম সিকদার, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ আজম, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারজানা আফরিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক বদরুল আলম মজুমদার, ইভেন্ট-আপ্যায়ন সম্পাদক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বেলাল এবং নির্বাহী সদস্য দিদারুল আলম দিদার, সায়ীদ আবদুল মালিক, সাঈদ আহমদ খান, মোহাম্মদ মাসুদ ও কমল চৌধুরী।

দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্ম অধিবেশন ও ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হোসাইন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব রশিদ, মোহাম্মদ আবু তাহের, মো. শরীফুল ইসলাম এবং ফারুক খান।

এর আগে সকাল ১০টায় সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মো. শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি, সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক গাজিউল হাসান খান, প্রেস ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (পিআইবি)’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক মোস্তফা হোসেইন, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাসস'র সিনিয়র রিপোর্টার দিদারুল আলম, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য আ. ন. ম. কুদরাত-ই-খোদা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ইসহাক খান এবং আবু তাহের, বার্তাবেলা.কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক মহিন উদ্দিন স্বপন।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার যে ঐতিহ্য সবাইকে তা ধারণ করে এগুতে হবে। তবে কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতার সঙ্গে লড়াই চলে না। কুমিল্লাকে প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবাইকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্ম যাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠে সে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবর্তনকে ভয় পেলে চলবে না। আপনারা উন্নত কুমিল্লা চান। উন্নত বলতে বুঝায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত। আপনারা সাংবাদিকরা এর জন্য অবদান রাখবেন, বিশ্বাস করি। আগামী দিনের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় শামিল হবেন। অনেকে সমস্যার কথা বলেছেন, এগুলোর সমাধানে আপনারা একটি কর্মপরিকল্পনা করেন। আমি সর্বতোভাবে সহায়তা করবো।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বলেন, অনেকে বলেন রাজনীতিবিদরাই সমাজ সেবা করে। শুধু রাজনীতিবিদরা নয়, সবাই সমাজসেবা করে। আমরা স্ব-স্ব জায়গা থেকে নিজ দায়িত্বটুকু পালন করলেই সমাজসেবা হয়ে যায়। এসময় তিনি কুমিল্লাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাংবাদিকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

 বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, সাংবাদিকদের কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্য ধারণ করতে হবে। কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বাংলাদেশের শিক্ষার বিকাশে পথপ্রদর্শক, তার মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তার বাড়ির স্মৃতি সংরক্ষণ করতে হবে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শচীন দেব বর্মন ও উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কে স্মরণ করতে হবে। শান্তি ও সুনীতিকে সামনে আনতে হবে। একটা মাত্র জেলা যেখানে মুক্তিযুদ্ধের তিনটি সেক্টর ছিল।

তিনি বলেন, আমি জেলা কোটা বিলুপ্তির পক্ষে, কুমিল্লা নামেই বিভাগের পক্ষে। আমরা চেষ্টা করলে কুমিল্লাকে আরও বিকশিত করতে পারি। ব্রান্ডিং করতে পারি।