শেয়ার বাজার

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানপন্থি ১৮ যোদ্ধা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানপন্থি ১৮ যোদ্ধা নিহত

বার্তাবেলা ডেস্ক: সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন ইরানপন্থি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর-এএফপির। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং তেহরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালানোর পরপরই পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানিয়েছে, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৮ ইরানপন্থী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন নিহত হয়েছেন দেইর এজ্জোর এলাকায়।

এদিকে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি তেহরান। ধারণা করা হচ্ছে, এসব হামলার কারণে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেসব খতিয়ে দেখছে তারা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীসহ ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব স্থান ইরানের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কুদস ফোর্স ইরান সমর্থিত কোনো আধাসামরিক গোষ্ঠী নয়, এটি সরাসরি ইরানি সেনাবাহিনীর একটি অফিসিয়াল শাখা।


তাই এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে বলছে যে, তারা ইরাক ও সিরিয়ায় বা ওই সীমান্তে ইরানি সেনাবাহিনীকে টার্গেট করেছে যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ঘটনায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া হামলায় অংশ নেওয়া যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে হামলা চালিয়েছে এবং এটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলা যায়। কারণ অনেকদিন ধরেই এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে তেহরান।

আরও পড়ুন: ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের ৮৫ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

গত রোববার (২৮ জানুয়ারি) জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হন। জর্ডানে ওই হামলার জন্য ইরান–সমর্থিত একটি সশস্ত্র গ্রুপকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় তিনজন নিহত ছাড়াও আহত হন আরও ২৫ জন সেনা সদস্য। ওই হামলার কঠোর প্রতিশোধ হিসেবেই ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র।

Dummy Ad 1

আল-হাইয়ার নেতৃত্বে মিশর যাচ্ছে হামাসের প্রতিনিধিদল, উদ্দেশ্য কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬

আল-হাইয়ার নেতৃত্বে মিশর যাচ্ছে হামাসের প্রতিনিধিদল, উদ্দেশ্য কী?

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য মিশরে যাচ্ছে হামাসের একটি প্রতিনিধিদল। উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া। হামাসের নেতৃত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম আল-হাইয়া মিশর সফরে যাচ্ছেন।

এই সফরে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও সুসংহত করার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। গাজায় যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে মিশর-হামাসের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এমন তথ্য উপস্থাপন করে রোববার (১৬ আগস্ট) হামাসের প্রতিনিধিদলটি কায়রো সফরে যাচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

জানা গেছে, এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন-হামাসের শুরা কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ, বিদেশে হামাসের প্রধান খালেদ মাশাল, পশ্চিম তীরে হামাসের প্রধান জাহের জাবারিন, আরব ও ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক দপ্তরের প্রধান বাসেম নাঈম।

হামাসের একটি সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের নেতা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ রাতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে পৌঁছাবে এবং মিশরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলটি মিশরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যু সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে প্রধান বিষয় থাকবে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যকর ও স্থায়ীভাবে সুসংহত করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা।


বন্যায় ভেসে গিয়ে যেন বিপদে পড়েছে সাপ, কাড়াকাড়ি করে ধরছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬

বন্যায় ভেসে গিয়ে যেন বিপদে পড়েছে সাপ, কাড়াকাড়ি করে ধরছে মানুষ

শক্তিশালী টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী বন্যায় চীনের গুয়াংসি প্রদেশের হেংঝু শহর যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই পানিতে ভেসে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে শত শত সাপ। তবে শত আতঙ্কের মাঝেও বন্যার পানিতে ভেসে আসা এসব সাপ ধরার জন্য এক নজিরবিহীন কাড়াকাড়ির চিত্র দেখা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বন্যার পানিতে সাঁতরে চলা একটি সাপকে ধরার জন্য এক ব্যক্তি হন্যে হয়ে তাড়া করছেন, আর চারপাশে জাল হাতে ওত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন আরও কয়েকজন। একপর্যায়ে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের রেইনকোট পরা এক ব্যক্তি সাপটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন ও খালি গায়ে থাকা অন্য এক ব্যক্তি পানি থেকে সেটিকে দ্রুত ছিনিয়ে নেন। এই সাপ ধরার চেষ্টার সময় উপস্থিত লোকজনকে বেশ উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করতে ও হাসাহাসি করতে শোনা যায়।

হেংঝু শহরের স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সাপের মাংসকে অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই অঞ্চলে সাপ শিকারের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সাপের কামড় অত্যন্ত মারাত্মক এবং তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়ার্ত বাসিন্দাদের পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বন্যার পানির ওপর মাথা উঁচু করে বিষধর সাপগুলো অনায়াসে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে, যা দেখতে হুবহু চলন্ত পেরিস্কোপের মতো লাগছে। শুরুতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সাপের হুমকিকে তেমন একটা গুরুত্ব না দিলেও, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এখন তারা গ্রামবাসীদের কঠোরভাবে সতর্কবার্তা জারি করছে।

আকস্মিক বন্যায় এই অঞ্চলে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সাপের কামড়ে কোবরা কিংবা গোখরা সাপের কামড়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া সাপের কামড় খেয়ে আরও বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন সাপ ধরার জন্য বিশেষ দল বা স্নেক ক্যাচার মোতায়েন করেছে। মিস্টার ঝু নামের এক উদ্ধারকর্মী জানান, তাদের ৭-৮ জনের একটি বেসামরিক দল গত দুই দিনে বিরতিহীনভাবে কাজ করে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার সাপ উদ্ধার করেছে, যার বেশিরভাগই ছিল দাঁড়াশ সাপ। বন্যার পানি থেকে বাঁচতে সাপগুলো সাধারণত ঘরবাড়ির কোণে আশ্রয় নিচ্ছে। উদ্ধারকৃত সাপগুলো ধরে পরবর্তীতে বনে অবমুক্ত করার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জুঁই ফুল ও সাপের ইতিহাস

ভৌগোলিকভাবে হেংঝু শহরটি গুয়াংসি অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বে একটি সমতল উপত্যকায় অবস্থিত, যা চারদিকে পাহাড় ও ৬৬০টিরও বেশি নদী দ্বারা বেষ্টিত। বিগত ৫০০ বছর ধরে সুগন্ধি জুঁই ফুল চাষের জন্য শহরটি বিশ্বব্যাপী চীনের ‘জুঁই রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত, যা মূলত চা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে কেবল জুঁই চা-ই নয়, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে হেংঝুসহ সমগ্র গুয়াংসি অঞ্চল সাপের বাণিজ্যিক প্রজননের একটি অন্যতম প্রধান হাবে পরিণত হয়েছে।

ভিয়েতনাম সীমান্তের কাছাকাছি এই বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতির সাপের দেখা মেলে। স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সাপের মাংসকে অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় ও সাপ শিকারের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য এখানে রয়েছে।

সরকারি গণমাধ্যম গুয়াংসি ডেইলি অনুসারে, ২০২০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে সাপের খামারের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায় ও সাপের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটিতে। বর্তমানে বেশিরভাগ খামারে চিকিৎসাবিজ্ঞান, ওষুধ উৎপাদন ও বায়োমেডিক্যাল গবেষণার উদ্দেশ্যে সাপের প্রজনন করা হয়, যার মধ্যে কোবরা এবং অবিষধর রেট স্নেক (দাঁড়াশ সাপ) সবচেয়ে সাধারণ।

চিড়িয়াখানার পশুপাখি ও শূকর নিখোঁজ

হেংঝুতে বন্যার ফলে লোকালয়ে শুধু সাপেরই অনুপ্রবেশ ঘটেনি, বরং বন্যার তোড়ে স্থানীয় একটি বেসরকারি চিড়িয়াখানা তলিয়ে যাওয়ায় সেখান থেকেও বহু বন্য ও হিংস্র পশুপাখি পালিয়ে গেছে। ‘গুইগাং জু’ নামের ওই চিড়িয়াখানা থেকে দুটি জেব্রা, একটি কুঁজওয়ালা ষাঁড়, তিনটি ক্ষুদ্রাকৃতির ঘোড়া ও দুটি গাধাসহ বেশ কিছু প্রাণী অবমুক্ত হয়ে বন্যার পানিতে ভাসছে।

চিড়িয়াখানার মালিক ইন ফেইফেই স্থানীয় গণমাধ্যম হংক্সিং নিউজকে জানান যে, বন্যার পানি যখন হু হু করে বাড়ছিল, তখন তাদের কর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে হিংস্র শিকারী প্রাণীদের খাঁচাগুলো লক করে দেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত খাঁচাবদ্ধ অবস্থাতেই তিনটি সিংহ পানিতে ডুবে মারা যায়। মালিক বলেন, বন্যার সময় আমরা কোনোভাবেই হিংস্র শিকারী প্রাণীদের বাইরে চলে যেতে দিতে পারতাম না, কারণ তা জননিরাপত্তার জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতো।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এক জরুরি নোটিশে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, উটপাখি, ইমু এবং র‌্যাকুনের মতো পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য প্রাণীরা ভীত হয়ে পড়লে মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। তাই কোথাও এদের দেখা গেলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শ্যাংইউ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ১৬ হাজারেরও বেশি শূকর ভেসে গেছে। অনলাইন ভিডিওতে দেখা গেছে, ভারী ক্রেন বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বন্যার পানি থেকে সেই শূকরগুলোকে উদ্ধার করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও সরকারি নির্দেশনা

সাপের এই বিশাল খামার শিল্পই এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেংঝুর একটি বেসামরিক সাপধরা দলের সদস্য বেইজিং নিউজকে জানিয়েছেন, তাদের ৭-৮ জনের একটি দল গত দুই দিন ধরে বিরতিহীনভাবে কাজ করে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার সাপ উদ্ধার করেছে, যা প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি। উদ্ধারকৃত সাপের বেশিরভাগই ছিল রেট স্নেক। বন্যার পর সাপগুলো সাধারণত ঘরবাড়ির কোণে বা গোপন জায়গায় আশ্রয় নেয়। গ্রামবাসীদের তথ্যের ভিত্তিতে সাপগুলো ধরে বনে অবমুক্ত করার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বাসিন্দাদের সুরক্ষায় কিছু জরুরি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে:

>রাতে ঘরের বাইরে চলাফেরা বা যেকোনো বহিরঙ্গন কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

>ঝোপঝাড়, ঘাস এবং পুকুরের কাছাকাছি যাওয়া যাবে না, কারণ সাপ বন্যার পানি থেকে বাঁচতে ও খাবারের খোঁজে সেখানে আশ্রয় নেয়।

>সাপ সাধারণত ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পছন্দ করে এবং উস্কানি না দিলে সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না।

>সাপের উপদ্রব কমাতে বাড়ির প্রবেশদ্বারে তীব্র গন্ধযুক্ত সাপ-প্রতিরোধক পাউডার ছিটানো যেতে পারে।

>বাইরে বের হলে ঝোপঝাড়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাপের উপস্থিতি পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম সিরামের স্টক রয়েছে, তবে শর্ত একটাই- রোগীকে অবশ্যই সঠিক সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও, বন্যাকবলিত এই শহরে আরও কতদিন সাপের এই আতঙ্ক বজায় থাকবে তা নিয়ে বাসিন্দারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা আদালতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা আদালতের

লেখক ই জেন ক্যারলের করা মানহানি মামলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জরিমানা করেছেন আদালত। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) নিউইয়র্কের একটি জুরি ক্যারলকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্পকে নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্যারল খুশি হলেও ট্রাম্প চটেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই মামলায় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা থাকলেও বিচারকের সঙ্গে ট্রাম্পের বাকবিতণ্ডা এবং ট্রাম্পকে তার সাক্ষ্যদানের সময় কী বিষয়ে কথা বলতে দেওয়া হবে তা ঠিক করতেই অনেক সময় ব্যয় করেন বিচারক ও আইনজীবীরা। পরে এই মামলার শুনানি একদিন পিছিয়ে শুক্রবার নির্ধারণ করা হয়। ওইদিনের শুনানিতে ট্রাম্পকে জরিমানা করেন

শুক্রবার বিকেলে এ রায়ে পৌঁছাতে সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারীর একটি জুরি তিন ঘণ্টারও কম সময় নেন।


২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। তখন ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ক্যারলকে মিথ্যাবাদী বলেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে মানহানি হয়েছে দাবি করে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন ক্যারল।  মানহানির ওই মামলায় আবারও জরিমানা গুণতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।

শুক্রবারের রায়ের পরে এক বিবৃতিতে ক্যারল বলেছেন, ‘এটি প্রতিটি নারীর জন্য একটি বিজয় যারা ছিটকে পড়ার পরও ওঠে দাঁড়ায় এবং  প্রতিটি নিপীড়কের জন্য একটি বিশাল পরাজয় যারা একজন নারীকে ছোট করার চেষ্টা করেছে।’

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের

এদিকে, সর্বশেষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। মামলাটিকে একটি ‘উইচ হান্ট’ এবং রায়টিকে ‘নিতান্তই হাস্যকর!’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


একাধিক মামলা এবং চারটি ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। এতদসত্ত্বেও চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি, আইওয়া ককাসেও জিতেছেন।