শেয়ার বাজার

স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মেয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার হতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে।

এদিন ভোরে পুলিশের নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে জেল থেকে বের হন তিনি। রওনা হন রাজধানী ঢাকার কলাবাগানের উদ্দেশ্যে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মুক্ত থাকবেন তিনি। তবে তার সঙ্গে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বলয়।

এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন দীপু মনির মেয়ে তানি দিপাবলি। পরে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনে ৪ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে ১২ ঘণ্টার জন্য আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

দিপু মনি পক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল জানিয়েছেন, মুক্তির পর রাজধানী ঢাকার কলাবাগানে দীপু মনি যাবেন। সেখানে মরহুমের মরদেহ থাকবে। সে বাড়িতেই দীপু মনির সঙ্গে মরহুম তৌফিক নেওয়াজের প্রথম দেখা হয়েছিল। পরবর্তীতে গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা ও বনানী কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি রয়েছে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ১৯ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় দীপু মনিকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুন্সিগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন।

Dummy Ad 1

বেনজীর আহমেদকে শিগগির ফেরত দেবে আমিরাত, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬

বেনজীর আহমেদকে শিগগির ফেরত দেবে আমিরাত, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দুবাই সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগির বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুবাই থেকে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে মনে করার বিষয় নয়, দেখার বিষয়। আগের যে কোনো সরকারের তুলনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত গতিতে কাজ করছে। ১২ জুন ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমাদের এনসিবিকে ই-মেইলে জানানো হয়েছে বেনজীর আহমেদকে তারা গ্রেফতার করেছে। আমাদের জারি করা রেড নোটিশের মাধ্যমে তারা বেনজীর আহমদকে গ্রেফতার করে। আমি সেদিন বিকেলেই জাতীয় সংসদে জাতিকে অবহিত করেছি। সেখানে বলেছি ই-মেইলে তারা অনুরোধ করেছে ৩০ দিনের মধ্যে যেন আমাদের সমস্ত কাগজপত্র পাঠিয়ে দেই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য।

আমরা ৩০ দিন নয় তার পরের দিনই কাগজপত্র পাঠিয়েছি। ওয়ারেন্ট, মামলার বিবরণীসহ অনেক কাগজ দেওয়া হয়েছে। সেটা আবার আরবিতে ট্রান্সলেট করতে হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ অফিসাররা সেদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪৪ পাতার কাগজপত্র তৈরির কাজ করেছে। রাত ১০টার সময় সংসদে বসে সেটি আমি সই করি। সেদিনই কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুবাইয়ে পাঠিয়েছে। সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনঅফিসিয়াল কপি দিয়েছি। পরদিন সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অফিসিয়ালি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে হস্তান্তর করে। ওইদিন বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরবিতে ট্রান্সলেট করে ডিপ্লোমেটিক ব্যাগে করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে এবং লোকাল ইউএই অ্যাম্বাসিকে জানানো হয়েছে।

আশা করি ইউএই সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগির বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। আমরা পারসুয়েশনে থাকবো।

এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা: ১০ দিনেই পুলিশের চার্জশিট দাখিল, নেপথ্যে মায়ের ‘মৃত্যুকালীন জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬

আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা: ১০ দিনেই পুলিশের চার্জশিট দাখিল, নেপথ্যে মায়ের ‘মৃত্যুকালীন জবানবন্দি

পারভেজ বাঙালী,

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি। 

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে মাত্র ১০ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার এবং নিহত মায়ের ‘মৃত্যুকালীন ভিডিও জবানবন্দি’র ওপর ভিত্তি করে দ্রুততম সময়ে এই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হলো।

মামলার একমাত্র আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে অভিযুক্ত করে আজ (২৪ জুন) আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।

গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ রাতে চেনামতি গ্রামের বড়ুয়া পাড়ায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতকের ধারালো ছুরির আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। এ সময় গুরুতর আহত হয় অর্ক বড়ুয়া নামের আরও একজন।

ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এর মাধ্যমে তথ্য পেয়ে মাঠে নামে আনোয়ারা থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটিয়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় মূল হোতা রিমন বড়ুয়াকে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয়:

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি।

ভিকটিমের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন।

পুলিশ জানায়, মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে যুক্ত হয়েছে নিহত এনি বড়ুয়ার মৃত্যুকালীন জবানবন্দির একটি ভিডিও রেকর্ড, যা আসামির অপরাধ প্রমাণে আদালতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এক নজরে মামলার তদন্ত ডায়েরি

বিবরণ তথ্য ও পরিসংখ্যান

হত্যাকাণ্ডের তারিখ ১৩ জুন ২০২৬

চার্জশিট দাখিলের তারিখ ২৪ জুন ২০২৬ (মাত্র ১০ দিন পর)

চার্জশিট নম্বর ১৪৭

সাক্ষী সংখ্যা ২২ জন (৪ জন পুলিশ সদস্যসহ)

আইনি ধারা ৩২৩/৩০৭/৩০২ দণ্ডবিধি, ১৮৬০

১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তি

গ্রেফতারের পর আসামি রিমন বড়ুয়া বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট, উদ্ধারকৃত আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করেই অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে এই নিখুঁত চার্জশিট প্রস্তুত করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, জেলা পুলিশের নিরলস ও দক্ষ তদন্তের ফলেই এত দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধ দমনে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বদা বদ্ধপরিকর।


‘এক পাও সরবো না এখান থেকে’ বিএসএফকে বিজিবির কড়া হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬

‘এক পাও সরবো না এখান থেকে’ বিএসএফকে বিজিবির কড়া হুঁশিয়ারি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সীমান্তে কিছু সময়ের জন্য মুখোমুখি অবস্থান নেন বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা চৌকা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এমন মুখোমুখি অবস্থানের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে বিজিবি সদস্যদের বলতে শোনা যায়, ‌‌‘এক পাও সরবো না এখান থেকে। আপনারা আগে সরে যান, তারপর আমরা সরে যাব।’ বিজিবির এমন কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ পিছু হটে এবং পুশ-ইনের চেষ্টা বন্ধ করে।

এর আগে, শুক্রবার (২০) জুন) দিনগত রাতে চৌকা সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি বিষয়টি টের পেয়ে তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে তারা সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডের ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয়। পরে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিজিবি টহল দলের তৎপরতায় ২০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে তারা শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয়। পরে বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। কোনোভাবেই যেন বিএসএফ পুশ-ইনের ঘটনা ঘটাতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার ২০ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, চারজন শিশু ও পাঁচজন পুরুষ ছিলেন।