শেয়ার বাজার

দত্তসার রহমানীয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

দত্তসার রহমানীয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দত্তসার রহমানিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আগামী ১৪ নভেম্বর বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১০ অক্টোবর দুপুরে মাদ্রাসার মসজিদে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার সভাপতি সৈয়দ আব্দুল কাদের। সভা সঞ্চালনা করেন মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ফয়েজ উল্লাহ।

সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করোনা ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের পরিচালক লায়ন কাজী জহিরুল ইসলাম, এশিয়া লজিস্টিকের পরিচালক মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া মিল্লাত, সাইকা প্লাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বাবু, সাংবাদিক নেতা এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী, এসেট রিয়েল অ্যাসিস্ট্যান্টের পরিচালক জাফর আহম্মেদ ভূঁইয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক ভূঁইয়া, প্রয়াত খায়েজ আহম্মেদ ভূঁইয়ার ছেলে ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আরিফুল হাসান সৈকত, মনির ভূঁইয়া, মীর আহম্মেদ ভূঁইয়া (কাইচ্ছুটি) এবং ইঞ্জিনিয়ার মাইন উদ্দিন ফারুক মিয়াজী।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা সচিব মুফতি দেলোয়ার, মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ইউনুসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রস্তুতি সভায় আসন্ন বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সফলভাবে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Dummy Ad 1

সাভারে ৪ সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

সাভারে ৪ সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

‎স্টাফ রিপোর্টার:

‎সাভারে ওএমএস ডিলারের অনিয়ম অনুসন্ধানে যাওয়া ৪ সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকবৃন্দ।

‎মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। তারা হলেন- দৈনিক বিজনেস ফাইল পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এফ রহমান রূপক, দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মো. আবু বকর সিদ্দিক, দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মনজুরুল হক মঞ্জু ও দৈনিক একুশে সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার মো. পিন্টু শেখ।

‎লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, একটি তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সাভার থানার চাপাইন মেম্বারের মোড় এলাকায় ডিলার জাহাঙ্গীরের ওএমএস দোকানে সরেজমিনে গিয়ে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।

‎ওএমএস বিক্রির নিয়ম অনুযায়ী-

‎১. সকাল ৯টায় উপজেলা খাদ্য তদারককারী কর্মকর্তা খাতায় সই দিয়ে সেল চালু করবেন। তিনি দোকান চালু না করা পর্যন্ত কোনো পণ্য বিক্রি করা যাবে না।

‎২. প্রতিদিন ১০০ জনের মাঝে ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্রি করতে হবে।

‎৩. লাইনে যে দাঁড়াবে সেই পণ্য কিনতে পারবে, এটি ওপেন মার্কেট সেল।

‎৪. পণ্য ক্রয়ের সময় ভোক্তার কাছ থেকে কোনো প্রকার এনআইডি কার্ড জমা নেওয়া যাবে না।

‎৫. এক টন চাল ও এক টন আটা বিক্রির পর উদ্বৃত্ত থাকলে ব্যালেন্স শিটে দেখাতে হবে।

‎কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টায় ৩৩ বস্তা চালের মধ্যে মাত্র ৫ বস্তা চাল রয়েছে। বাকি ২৮ বস্তা ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়। মাত্র আধা ঘণ্টায় ২৮ বস্তা বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিলারের লোকজন চুপ হয়ে যান। তারা স্বীকার করেন, তদারককারী কর্মকর্তা ফোনে ফোনে দোকান চালু করেন, পরে এসে খাতায় সই করেন।

‎এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোক্তারা অভিযোগ করেন, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মাল পান না। দুপুর ১২টা বাজলেই বলা হয় আজ আর দেওয়া হবে না। এনআইডি কার্ডে তারিখ লিখে ১৫ দিন পর আসতে বলা হয়, ১৫ দিন পর এসেও মাল মেলে না।

‎বিষয়টি ঢাকা জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানাতে বলেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আসছেন বলে জানান।

‎এ সময় ডিলারের লোক পরিচয়ে এক যুবক এসে সাংবাদিকদের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড নেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, "একটু পরেই সব জানতে পারবেন।" একের পর এক ফোন দিতে থাকেন তিনি। সন্দেহ হলে সাভার থানার ওসি সাইফুলকে বিষয়টি জানানো হয়।

‎কিছুক্ষণ পর ৫-৭ জন যুবক এসে কোনো কথা ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের একজন নিজেকে সাভার প্রেস ক্লাবের নেতা বলে দাবি করেন। হামলা চলাকালীন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের রক্ষার নামে হামলাকারীদের হাতে তুলে দিয়ে কৌশলে চলে যান।

‎পরে সাভার থানার এসআই আব্বাস পুলিশ টিম নিয়ে এসে নিরাপত্তার কথা বলে সাংবাদিকদের থানায় নিয়ে যান। থানায় ওসি না থাকায় তিনি তাদের সার্কেল এসপি (ট্রাফিক) এর কাছে নিয়ে যান। সেখানে ডিলার জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং ৩০ জন সাধারণ মানুষ তার সাক্ষী। প্রমাণ দেখাতে বললে পুলিশ কোনো কথা শুনতে চায়নি।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, "আমাদের কাছে ডিলারের কালোবাজারি ও অনিয়মের ভিডিও ডকুমেন্টস আছে। পুলিশ তা দেখতে রাজি হয়নি। উল্টো ডিলারের সাজানো অভিযোগে মামলা দিয়ে আমাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।

‎এদিকে সাভার উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল সহ বিভিন্ন হাউজের সাংবাদিকরা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য না নিয়ে একপেশে খবর প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

‎উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী ৪ সাংবাদিক কারাবরণ শেষে বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:

‎১. সাভারের ডিলার জাহাঙ্গীর ও তদারককারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএস পণ্য কালোবাজারি ও অনিয়মের ভিডিও ফুটেজসহ সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

‎২. দায়িত্বরত ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসী ও ইন্ধনদাতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

‎৩. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়াট চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

‎৪. দায়িত্বে অবহেলাকারী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

‎সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

‎সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নতুন স্বপ্ন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং জাতীয় মডেল প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদ আজিজ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা শাহজাহান মিয়া, জাতীয় ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক কিশোর ডি কস্তা, সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম, সিনিয়র সাংবাদিক আবুল বাশার প্রমুখ।


গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল: ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের খোঁজে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল: ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের খোঁজে সরকার

যানজটের শহর রাজধানী ঢাকায় ভোগান্তি ছাড়া যাতায়াতের জন্য নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে মেট্রোরেল হিসেবে পরিচিত ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেলের সফলতা সামনে রেখে আরও কয়েকটি এমআরটি লাইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। যেগুলোর মাধ্যমে মহানগরীর সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ হবে আরও দ্রুত।

এমনই একটি নিরাপদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত ও পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। এমআরটি লাইন-২ হিসেবে পরিচিত এই মেট্রোরেল রুটের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। বাস্তবায়ন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ঋণের জন্য বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগীর (ডিপি) খোঁজ করছে সরকার।

প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ঋণের জন্য বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগীর (ডিপি) খোঁজ করছে সরকার। 

প্রকল্প প্রস্তাব এখন ফান্ড সার্চিং কমিটিতে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, পলাশী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও, দামড়িপাড়া, সাইনবোর্ড, ভূইঘর ও জালকুড়ি হয়ে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত এই মেট্রোরেল চলাচল করবে। এর মধ্যে ২২ দশমিক ৯০ কিলোমিটার লাইন উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড এবং সাড়ে সাত কিলোমিটার পাতাল বা মাটির নিচ দিয়ে যাবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অনুমোদন করেছেন। এখন বৈদেশিক ঋণ পেতে উন্নয়ন সহযোগী খোঁজার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রকল্পটি পাঠানো হয়েছে। সেখানে এটি নিয়ে কাজ করছে ফান্ড সার্চিং কমিটি। চলতি মাসেই প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটি সভা করবে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল-২ প্রকল্পের পিডিপিপি মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। এখন ডিপি (উন্নয়ন সহযোগী) খোঁজার জন্য পিডিপিপি ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে।’

বিশ্বব্যাংক করবে স্বল্প অর্থায়ন

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর একটি উপস্থাপনা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক স্বল্প পরিসরে অর্থায়ন করবে। সুতরাং এআইআইবিসহ আরও কিছু উন্নয়ন সহযোগী দরকার হবে। সে অনুযায়ী এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পিডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সেখানে পর্যালোচনা শেষ করে কমিশনের মতামত দিয়ে ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে মূলত উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহের জন্য।

প্রকল্পে বড় আকারে বৈদেশিক ঋণ দরকার হবে। বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। বাকি ঋণের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটিতে আলোচনা হবে। মেট্রোরেল-২ নিয়ে দ্রুত সময়ে ফান্ড সার্চিং কমিটির বৈঠক হবে।- ইআরডির যুগ্মসচিব (বিশ্বব্যাংক) মো. আশফাকুল আমিন মুকুট

ইআরডির বিশ্বব্যাংক শাখা জানায়, সরকারি অর্থায়ন বাদ দিলে প্রকল্পটির জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ঋণ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক প্রাথমিকভাবে ৭০ মিলিয়ন ঋণ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। বাকি ঋণ কোথা থেকে মিলবে সেই বিষয়ে ছক কষছে ইআরডি।

কারিগরি সহায়তাও দেবে বিশ্বব্যাংক

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মেট্রোরেল গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত চলাচল করার কথা রয়েছে। যেখানে স্টেশন হবে ২৪টি। মাঝখানের স্টেশনের মধ্যে রয়েছে– ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা। এছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত এর একটি শাখা লাইন নিয়ে যাওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট প্রোফর্মার (টিএপিপি) আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রাথমিক ও বিশদ নকশা প্রণয়ন এবং দরপত্র প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।

কর্মকর্তারা যা বলছেন

প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কোম্পানি সচিব মো. আব্দুল বাতেন ফকির কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ইআরডির যুগ্মসচিব (বিশ্বব্যাংক) মো. আশফাকুল আমিন মুকুট জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল-২ প্রকল্পটি আমাদের কাছে এসেছে। প্রকল্পে বড় আকারে বৈদেশিক ঋণ দরকার হবে। বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। বাকি ঋণের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটিতে আলোচনা হবে। মেট্রোরেল-২ নিয়ে দ্রুত সময়ে ফান্ড সার্চিং কমিটির বৈঠক হবে।’


গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া ও তা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় কাজ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‌‘গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে, কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সেই পথে বাধা এসেছে। এবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই অবহেলায় গণতন্ত্র হারানো যাবে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা, রক্তপাত ও আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি সুযোগ আমরা পেয়েছি।’

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর দেশের ইতিহাসে একটি জটিল সময় গেছে। ওই সময়ে গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। সেই ত্যাগের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে।’

শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হয়। সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। সংসদকে কার্যকর করা, সংসদ যেন ঠিকমতো কাজ করে, সেই চেষ্টা করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে যে দ্বিমত রয়েছে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।

আগামী দিনের রাজনৈতিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অতীতে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। এখন দেশের পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে।

রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে একমত হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন অতিথিপরায়ণতা ও শান্তিপ্রিয়তা রয়েছে, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ঐতিহ্যও রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সিলেটের মানুষ অতীতেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। এরইমধ্যে বেশ কিছু বড় প্রকল্প সামনে এসেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারি, আমরা যদি নিজেদের দাবি নিজেরা আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে আমাদের জন্য করে দিয়ে যাবে না।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, সুফি সাধক শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো বহু কৃতি মানুষের কথা স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছসহ অনেকে।